টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গাদের কথা শুনল মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফিরে যাচ্ছে মিয়ানমারের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ছবি : কালবেলা
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফিরে যাচ্ছে মিয়ানমারের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ছবি : কালবেলা

দমনপীড়ন ও নির্যাতনে জোরপূর্বক নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কথা বলতে ফের কক্সবাজারের টেকনাফে আসে মিয়ানমার সরকারের ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রথম দিন কথা-আলোচনা শেষে তারা মিয়ানমার ফিরে যান।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নৌপথে নাফনদী দিয়ে দুটি ট্রলারে টেকনাফ জেটিঘাটে পৌঁছায় মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সাউ নাইংয়ের নেতৃত্বে ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

এ সময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গাড়িতে প্রতিনিধিদলকে আনা হয় টেকনাফের সড়ক ও জনপথের রেস্ট হাউসে নদী নিবাসে। এরপর রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

সকাল ৮টার দিকে টেকনাফের ২৬-২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা রোহিঙ্গারা রেস্ট হাউসে আসা ১৮০ জন রোহিঙ্গার সাথে পৃথকভাবে দুটি দলে ভাগ হয়ে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল তাদের সঙ্গে কথা বলে। প্রতিনিধিদল তাদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ইস্যুসহ জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। তারা প্রথম দিন কথা বলা শেষে বিকেলের দিকে প্রতিনিধিদলটি মিয়ানমারে ফিরে যায়। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনেও আলোচনা করার কথা রয়েছে।

মুচনী ২৬ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি বজলুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তালিকাভুক্ত ও নতুন কিছু রোহিঙ্গার সাথে আজ জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের সঠিক তথ্যটি যাচাই-বাছাই করেন। তারা এটা নিশ্চিত হতে চেয়েছেন, এক পরিবারের যদি ৫ সন্তান থাকেন এর মধ্যে থেকে কজন বাংলাদেশে ও কজন মিয়ানমারের জন্মগ্রহণ করেছে, সে বিষয়টি তারা নিশ্চিত হবার জন্য তারা কাজ করছেন। তবে সে দেশে ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরাসরি বিস্তারিত আলাপ করেনি তারা।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের জানিয়েছি, মিয়ানমার আমাদের দেশ আমরা নিজ দেশে অব্যশই ফিরে যাব, যদি আমাদের নাগরিক অধিকার ও ভিটামাটি ফেরতসহ রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা বলেন, মিয়ানমারের ৩২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নৌপথে টেকনাফ জেটিঘাট পৌঁছলে নিরাপত্তা দিয়ে গাড়িযোগে তাদের টেকনাফের সড়ক ও জনপথের রেস্ট হাউসে আনা হয়। এরপর তারা পৃথকভাবে বিজিবির নদী নিবাস রেস্ট হাউসসহ গণপূর্ত বিভাগের রেস্ট হাউসে পৃথকভাবে ১৮০ জন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জল ও স্থলপথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে। যা ২০১৮ সালে দু’দেশের চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। আমরা জল ও স্থলপথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমরা আশা করি, দুপক্ষের কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে আস্থার সংকট রয়েছে, সেটি দূর হবে এবং অচিরেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে, যার জন্য আমরা প্রস্তুত। তবে দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভুয়া জরিপ আর মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু

জবিতে বিএনকিউএফ স্ট্যান্ডার্ডসবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দরকারি কথা হামেশাই ভুলে যাচ্ছেন? সমস্যা থেকে মুক্তির ৫ কৌশল

‎পাঁচ দিন পর নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর ভাসমান লাশ উদ্ধার

চবি নিয়োগ ইস্যুতে জবাবদিহি না পেয়ে ছাত্রদলের সভা ত্যাগ

পার্টি নিষিদ্ধ হয়েছে, ব্যক্তিকে তো করা হয়নি : ইসি মাছউদ

গুলশানে বার ড্যান্সারের মরদেহ উদ্ধার

ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের আরেক দেশ

আইপিএল, বিগ ব্যাশ মাতানো বিধ্বংসী ব্যাটার এবার বিপিএলে

বিক্ষোভে উত্তাল ইসরায়েল

১০

আমির হামজার বিরুদ্ধে নারীদের ঝাড়ু মিছিল

১১

৮ হাজার ১০০ কোটির টুর্নামেন্টের লড়াই শুরু

১২

ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

১৩

আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : টুকু

১৪

৩২ আসন নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নতুন বার্তা

১৫

জামায়াত আমিরের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ

১৬

অবশেষে ভারতের ভিসা পেলেন ইংল্যান্ডের তিন ক্রিকেটার

১৭

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

১৮

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নজর কেড়েছে জেএমজি ফার্নিচার

১৯

তারেক রহমানের সহধর্মিণীকে ছবি দেখাচ্ছেন জুলাই শহীদের মা 

২০
X