রেজাউল করিম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ১২:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গোয়ালন্দে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনেই চলছে ট্রেন

গোয়ালন্দে লাইনচ্যুত ট্রেন। ছবি : কালবেলা
গোয়ালন্দে লাইনচ্যুত ট্রেন। ছবি : কালবেলা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট দেশের মধ্যে একটি পরিচিত জায়গা। ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত গোয়ালন্দ বাজার টু গোয়ালন্দ ঘাট (দৌলতদিয়া) পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রেললাইন ও স্টেশন এখন অনেকটাই মৃত। নেই আগের মতো ট্রেনের জৌলুস। যাত্রী ওঠানামার জন্য ট্রেন থামলেও বন্ধ হয়ে গেছে গোয়ালন্দ বাজার স্টেশনের কার্যক্রম। এই ৫ কিলোমিটার রেলপথ হয়ে পড়েছে নড়বড়ে। লাইনে নেই পাথর বা খোয়া, কাঠের স্লিপারগুলোর অবস্থাও তেমন ভালো নেই। দেখলে মনে হয় এটি সচল নয়, দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত কোনো রেললাইন। শুধু মাটির ওপর নড়বড়ে নষ্ট কাঠের স্লিপারের ওপর বসানো রয়েছে রেল। এর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সকাল-বিকেল দুটি ট্রেন হেলেদুলে তিনবার চলাচল করছে। ট্রেন যাওয়ার সময় রেল ও স্লিপারগুলো উঁচু-নিচু হয়।

এদিকে গত দুমাসে খুলনাগামী নকশিকাথা মেইল ট্রেন দৌলতদিয়ার ফকিরপাড়া ও গোয়ালন্দ পৌরসভার শ্মশানঘাট এলাকায় দুবার লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে ঘটেনি কোনো হতাহতের ঘটনা। বর্তমানে মাঝেমধ্যে রেল লাইনের স্লিপার পরিবর্তন করা হলেও সেগুলো অন্য স্থানের পরিবর্তন করা অথবা বাতিল স্লিপার।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার টু গোয়ালন্দ ঘাট (দৌলতদিয়া) স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। এর পুরোটাই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। রেললাইনের সাপোর্টিং হিসাবে কাঠের স্লিপার ও রেল ছাড়া নাই আর কিছু। লাইনে নাই কোনো খোয়া বা পাথর। অনেক স্লিপার ভাঙা এবং রেলের নাট-বল্টুও ঢিলা। যার কারণে ট্রেন চলাচলের সময় স্লিপার ও রেল উঁচু-নিচু হয়।

অপরদিকে দীর্ঘদিন লাইন সংস্কার বা মেরামত না করা এবং লাইনে খোয়া বা পাথর না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে রেললাইন। যার কারণ চলতি বছরের ২৮ আগস্ট দৌলতদিয়ার ফকিরপাড়া ও ১৪ অক্টোবর গোয়ালন্দ পৌরসভার শ্মশানঘাট এলাকায় খুলনাগামী নকশিকাঁথা মেইল ট্রেন দুবার লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে এই রুটে নকশিকাঁথা মেইল ও সাটল দুটি ট্রেন ৩ বারে মোট ৬ বার আসা-যাওয়া করে।

স্থানীয়রা বলেন, এক সময় গোয়ালন্দ থেকে ট্রেনে ভারত যাওয়া যেত। সেই গোয়ালন্দ বাজার টু ঘাট স্টেশন দুইটি ঐহিত্যবাহী স্টেশন হওয়ার শর্তেও নেই কোনো উন্নয়ন। কয়েক বছর ধরে গোয়ালন্দ বাজার স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ, কমেছে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা। সারাদেশে রেলেরও উন্নয়ন হলেও এই ৫ কিলোমিটার রেললাইনের অবস্থা খুবই খারাপ। কোনোরকম নষ্ট-পচা কাঠের স্লিপারের ওপর বসানো রয়েছে রেল। যার কারণে দেড় মাসে দুবার ট্রেন পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া লাইনে কোনো খোয়াও দেওয়া নাই। ট্রেন যাওয়া-আসা করার সময় খুব আস্তে আস্তে যায়। এর চাইতে হেঁটেও আগে যাওয়া যায়। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রেলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গোয়ালন্দ বাজার টু গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেললাইন ও স্টেশনের উন্নয়নে রেল কর্তৃপক্ষসহ সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় হকাররা জানায়, রেললাইনে কোনো পাথর বা খোয়া নাই। ট্রেন যাওয়ার সময় এদিক ওদিক দোলে এবং ট্রেন খুবই আস্তে আস্তে যায়। সে সময় তারা ট্রেনে ওঠে আবার নামে।

দৌলতদিয়া ঘাট স্টেশনের ব্যবসায়ীরা জানান, আগে ৫ থেকে ৬টি ট্রেন দৌলতদিয়া ঘাটে আসলেও এখন মাত্র দুটি ট্রেন আসে। পদ্মা সেতু হয়ে ঘাট অনেকটাই মরে গেছে। এখন আর ট্রেন কমে গেলে তাদের মতো ব্যবসায়ী পথে বসে যাবে। তাই মেইল ট্রেনটি না উঠিয়ে এবং একটি আন্তঃনগর দিলে সবাই উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগ অবগত আছে। মূলত ভৌগোলিক কারণে অন্যান্য স্থানের মতো গোয়ালন্দ বাজার টু গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেলের ব্যাজমেন্ট গঠন করা সম্ভব হয় নাই। প্রতিবছর অতি বর্ষণ ও বন্যার পানির কারণে ওই স্থানের কাঠের স্লিপারগুলো নষ্ট বা পচে যায়। তারপরও তাৎক্ষণিকভাবে যে স্লিপারগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব, সেগুলো তারা পরিবর্তন করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তদন্ত চলাকালেই বদলি চসিকের আলোচিত সেই প্রকৌশলী দম্পতি

রাতে স্টেডিয়ামে গাঁজা সেবন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

পরশুরামে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিডার উদ্যোগে বাস্তবায়নের পথে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ

কমনওয়েলথ গেমসে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা

রেল অবরোধে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, দুঃখ প্রকাশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের

১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে চালকরা

জোড়াতালি দিয়ে চলছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা

চকরিয়ায় বন্যায় সড়ক বিধ্বস্ত, ক্ষতি প্রায় ৩২ কোটি টাকা

১০

চাকরি ফিরে পেলেন ‘টিপকাণ্ডে’ বহিষ্কৃত সেই পুলিশ সদস্য

১১

ইরানের বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ সামরিক হামলা’ বিবেচনায়: ট্রাম্প

১২

লেবাননে প্যারামেডিকদের ওপর ইসরায়েলের ড্রোন হামলা

১৩

ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৩

১৪

নিরাপত্তার জেরে ইরান থেকে দূতাবাসকর্মীদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাজ্য

১৫

দেশে চাঁদাবাজি-দুর্নীতি আগের চেয়েও বেড়েছে: গাজী আতাউর

১৬

জলাবদ্ধ সড়কে হাঁস ছেড়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ 

১৭

জাবি চিকিৎসা কেন্দ্র উন্নয়নে প্রশাসনের ৫ সিদ্ধান্ত

১৮

মেসি-ইয়ামালদের মহারণ কবে? জানা গেল সম্ভাব্য সময়

১৯

জাসদ-ছাত্রলীগ থেকে জামায়াত, এক ভিডিওতে সব হারালেন এমপি নজরুল  

২০
X