পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলা অপরূপ সুন্দর প্রজাপতি এক ধরনের কীট। কীট হয়েও এরা পায় পাখির সাধ। নানা রঙ ও নকশায় কারুকার্যময় প্রজাপতি সর্বদা চঞ্চল। প্রজাপতি এ ফুল থেকে ওই ফুলে, এ গাছ থেকে ওই গাছে বিরামহীন শুধু ওড়ে। এতে উদ্ভিদ ও গাছের পরাগায়নের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে। প্রজাপতি তাদের সুন্দর রঙিন পাখা মেলে কোথা থেকে কোথায় উড়ে যায়। জানাই হয় না, কেন তাদের এত ব্যস্ততা।
প্রজাপতি লেপিডোপ্টেরা বর্গের অন্তর্গত এক ধরনের কীট। এদের শরীর উজ্জ্বল রঙের এবং এরা দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্রজাপতির বেশিরভাগ প্রজাতিই দিবাচর বলে এরা সহজেই নজর কাড়ে। এদের মাথায় গোলাকার পুঞ্জাক্ষী রয়েছে। প্রজাপতির ১০ খণ্ডে গঠিত দেহ আকৃতিতে অনেকটা বেলনের মত, শেষের ২-৩টি খণ্ড যৌনাঙ্গে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও প্রজাপতির জন্ম ডিম থেকেই হয়। তবে ডিম থেকে সরাসরি প্রজাপতি বের হয় না। প্রথমে শুঁয়োপোকা বের হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর শুঁয়োপোকা প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হয়। আজ থেকে প্রায় ১০ কোটি বছর আগে উত্তর আমেরিকার আকাশে প্রজাপতি প্রথম উড়েছিল বলে জানা যায়। এরা পা দিয়ে ভেজা মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
প্রজাপতি নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন: ‘প্রজাপতি, প্রজাপতি, /কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা? / টুকটুকে লাল নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা / কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা?’
এ ছাড়াও কবি নির্মলেন্দু গুণ তার কবিতায় লিখেছেন: ‘আমি কেবল আমি কেবল / আমি কেবল দেখি,/ ভালোবাসার দেয়ালজুড়ে /একটি প্রজাপতি।’
জানা গেছে, গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রজাপতির ডানার রকমারি রঙের ও নকশার বিন্যাসকে ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও অন্যান্য সৌরশক্তি প্ল্যান্টে ব্যবহারের জন্য কাজ করছেন এবং এতে সফলতাও অর্জন করেছেন। প্রজাপতি পরিবেশ বিপর্যয়ের যেমন আগাম সংকেত দেয়, তেমনি নিজেও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে। প্রজাপতির আচরণ দেখে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়। এ ছাড়া ঔষধি গাছ শনাক্তকরণ ও এর গুণাবলি নিরূপণে প্রজাপতির ভূমিকাও অনেক।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শঙ্খজিৎ সমাজপতি বলেন, প্রজাপতি প্রকৃতির এক সুন্দর সৃষ্টি। নান্দনিকতার পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রজাপতির প্রধান কাজ উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করা। এর মাধ্যমেই উদ্ভিদ বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়। প্রজাপতির মাধ্যমে সৌরশক্তি উৎপাদন সম্ভব। আবার প্রজাপতি রপ্তানি করেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব।
মন্তব্য করুন