রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী

সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত পড়েছে জনজীবন। ছবি : সংগৃহীত
সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত পড়েছে জনজীবন। ছবি : সংগৃহীত

দুই দিন ধরে রাজশাহীতে দেখা মিলছে না সূর্যের। সেই সঙ্গে গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল বাতাসে রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। এছাড়া মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত পড়েছে জনজীবন। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় হাত-পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে শুক্রবার ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আরও কমল এক দিনেই। বৃহস্পতিবার ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র জানায়, সাধারণত দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রিতে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এছাড়া ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাই গতকাল শনিবার থেকে রাজশাহী অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলো বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরুর পর ভোর থেকে কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে রাজশাহী। এর সঙ্গে বয়ে চলেছে উত্তরের কনকনে ঠান্ডা বাতাস। এতে কাবু হয়ে পড়েছে পথে-প্রান্তরে থাকা ছিন্নমূল মানুষ। দুদিন থেকে সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় রোদের উত্তাপ পায়নি এই শীতার্ত মানুষগুলো। দিনভর কুয়াশা ঢাকা প্রকৃতি পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই আবারও অসহনীয় হয়ে উঠছে শীতের দাপট। শহর-নগরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এখন শীতের কাঁপুনি বেশি অনুভূত হচ্ছে। গ্রামের মানুষের জন্য এই শীতের তীব্রতা বয়ে এনেছে বাড়তি কষ্ট ও দুর্ভোগ। হিমেল বাতাস আর তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এছাড়া, হঠাৎ করে আবারও শীতের প্রকোপ বাড়ায় কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীত যতই বাড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা ততই বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করাই অন্যদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে নবজাতক শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বয়সের শিশু ও বয়স্করাও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সেবা নিতে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-সর্দি, কাশি ও হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন বলে জানান এ চিকিৎসক।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে আরও দু-তিন দিন রাজশাহীসহ সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। ফলে নতুন করে উত্তরাঞ্চলের আরও কিছু এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

জানতে চাইলে রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাজীব খান বলেন, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে শীতের প্রকোপও কমে আসবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্পকে হুমকি দিয়ে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হলেন নাজিমুদ্দিন

অস্ত্র ও হেরোইনসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার 

বিগ ব্যাশে আবারও রিশাদের জাদু

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প

৭ বছর পর নগরবাসীর জন্য খুলল ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যান

এবার যুবদল কর্মীকে হত্যা

সহজ ম্যাচ জটিল করে শেষ বলে জয় চট্টগ্রামের

মার্কেট থেকে ফুটপাতে শীতের আমেজ, স্বস্তিতে বিক্রেতারাও

হেঁটে অফিসে গেলেন তারেক রহমান

১০

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের

১১

জকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিতদের নিয়ে প্রজ্ঞাপন

১২

মুসাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সালাহউদ্দিন আহমদের বার্তা

১৩

ট্রাম্পকেও পতনের মুখে পড়তে হবে : হুঁশিয়ারি খামেনির

১৪

গুলির মুখে বুক পেতে দিচ্ছেন ইরানিরা, রক্তে লাল রাজপথ

১৫

সীমান্ত থেকে নয় রাউন্ড গুলিসহ দুই শুটারগান জব্দ

১৬

খালেদা জিয়ার ত্যাগের প্রতিদান হবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা : ইশরাক

১৭

হাদিসহ সারা দেশে সংঘটিত টার্গেট কিলিংয়ের প্রতিবাদ

১৮

রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ নারীর মৃত্যু

১৯

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং জাতীয় নির্বাচনে ১১ দল বিজয়ী হবে : রাশেদ প্রধান

২০
X