জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রায় ১ হাজার গ্রাহকের কোটি টাকারও বেশি আমানত নিয়ে উধাও হয়েছে আশার আলো বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সমিতির মালিক শফিউল ইসলাম কামরুল ৩ মাস ধরে পালিয়ে আছেন। গ্রাহকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে সমবায় সমিতির অফিসের সামনে ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কথা বলছেন মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ২০১০ সালে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে আশার আলো বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেডের নামে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সমবায়ী কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলার খিলকাটি এলাকার জলিল আকন্দ মাস্টারের ছেলে শফিউল ইসলাম কামরুল। সরকারি ব্যাংক থেকে মুনাফা বেশি হওয়ায় কামরুলের সমবায়ে আমানাত রাখতে শুরু করেন অনেকে। এক পর্যায়ে সেই গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার। এত বছর নিয়মিত লেনদেন থাকলে ১ বছর ধরে মুনাফা দেওয়া বন্ধ দেয় করে প্রতিষ্ঠানটি। এক পর্যায়ে গ্রাহকের জমা রাখা মূল অর্থও ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন। এক সময় টাকা ফেরত পাবেন এই আশায় ছিলেন গ্রাহকরা। কিন্তু গত ৬ মাস ধরে বালিজুড়ি বাজারের রহিমা প্লাজায় অবস্থিত আশার আলো সমবায় সমিতির অফিসটি বন্ধ করে সমিতির চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম কামরুল উধাও হয়ে যান। গ্রাহকরা ফোনে যোগাযোগ করে, এমনকি তার বাড়িতে গিয়েও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে কষ্টার্জিত অর্থের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা গ্রাহকরা।
সোহেল রানা নামে সেই সমিতির একজন মাঠকর্মী বলেন, এই সমিতিতে চাকরির ফলে ৩০০ লোকের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আমার মাধ্যমে জমা রেখেছি। সমিতির মালিক কামরুল ৩ মাস ধরে উধাও। তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। লোকজন এখন আমাকে ধরতেছে। আমি কি করব, বুঝতেছি না।
সোহানুর ইসলাম নামে এক গ্রাহক বলেন, আমি ৫ লাখ টাকা রাখছি। টাকা ফেরত দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই সমিতির চেয়ারম্যান কামরুল পলাতক। টাকার চিন্তায় এখন আমরা দিশেহারা।
মোছা. সিমু আক্তার নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ভালো লাভ দিবে- এই আশায় আড়াই বছর আগে ভ্যানগাড়ি চালক স্বামীর কষ্টের টাকা আর পালের গরু বিক্রির টাকা রাখি। কিন্তু সমিতির মালিক কামরুল পলাতক থাকায় টাকা ফেরত পাচ্ছি না। অসুস্থ স্বামীকে যে চিকিৎসা করাব সেই টাকাও নেই। এখন আমরা নিঃস্ব।
এদিকে টাকা ফেরত পেতে সমবায় সমিতির অফিসের সামনে ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কয়েকজন গ্রাহক।
মানবাধিকারকর্মী জাহিদুর রহমান তালুকদার উজ্জল বলেন, আশার আলো সমবায় বহুমুখী সমবায় সমিতি মাদারগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকের আমানত নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার পরিবার এখন নিঃস্ব। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অসহায় মানুষের আমানত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খানের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
মাদারগঞ্জ মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমি স্থানীয়ভাবে জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন