শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৭:৪৯ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৮:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ায় রেল দুর্ঘটনায় কুমিল্লার ২ যুবক নিহত

নিহত দুলালের ছবি হাতে তার মা আনোয়ারা বেগম। ছবি : কালবেলা
নিহত দুলালের ছবি হাতে তার মা আনোয়ারা বেগম। ছবি : কালবেলা

অভাব ঘুচাতে ধার-কর্জ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল কামাল-দুলাল। অনেক স্বপ্ন ছিল তাদের মা-বাবা আর স্বজনদের চোখে। ঋণের বোঝা শেষ হলেই সংসারে ফিরবে সুদিন। একটুখানি সুখের দেখা মিলবে পরিবার দুটিতে। অথচ সুদূর প্রবাসে ট্রেনের ধাক্কায় দুজনের মৃত্যুতে অন্ধকার নেমে এসেছে দুটি পরিবারে। ঋণের বোঝা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎই যেন নিশ্চিত পরিণতি শোকার্ত পরিবার দুটিতে।

গত ৩ মার্চ রাতে রেললাইনের পাশ থেকে কামাল ও দুলালের লাশ উদ্ধার করে মালয়েশিয়ান পুলিশ। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের এলাহাবাদ গ্রামের লিটন মেম্বারের বাড়ির শহিদ মিয়ার ছেলে মো. কামাল হোসেন (২৫) ও একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. দুলাল মিয়া (৩২)। দুজনেই কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। কাজ করতেন একটি ওয়ার্কশপে। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান বাংলাদেশ হাইকমিশন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে এলাহাবাদ গ্রামের লিটন মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মালয়েশিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত কামাল-দুলালের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাদের মা-বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে চারপাশ।

নিহত মো. দুলাল মিয়ার মা আনোয়ারা বেগম জানায়, গত এক বছরে তিনি স্বামী এবং আরও দুই সন্তান হারিয়েছেন। চার ভাই পাঁচ বোনের সংসারে দুলাল ছিল সবার ছোট। আরেক সন্তান দেলোয়ার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন চট্টগ্রামে। ১৬ মাস আগে সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় দুলাল। স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে রেখে যায় মায়ের কাছে। দুলালের মৃত্যুতে এখন অথই সাগরে পড়েছেন তার মা। কী দিয়ে পরিশোধ করবে ঋণ, পুত্রবধূ ও দুই নাতনি নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন তিনি। এই চিন্তায় পুত্রশোকও মলিন হয়ে উঠছেন কখনো কখনো। তারপরও নিহত সন্তানের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চান তিনি। বারবার শুধু বলছেন আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও বাবা।

দুলাল মিয়ার প্রতিবেশী ছিল মো. কামাল হোসেন। সম্পর্কে চাচাতো ভাই। মেধাবী ছাত্র কামাল টাকার জন্য করতে পারেনি লেখা-পড়া। ১৪ মাস আগে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ করে চলে যায় মালয়েশিয়া। বাবা-মায়ের অতি আদরের ছোট সন্তান ছিলেন তিনি। বাবা-মা চার ভাইয়ের অভাবের সংসারে সে আনতে চেয়েছিল সুখ। এরই মধ্যে ঋণের বেশ কিছুটা পরিশোধ করেছে। দেশে ফিরলেই বসতো বিয়ের পিড়িতে।

কামালের শোকাহত বাবা শহিদ মিয়া জানান, কামালের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছে গত বুধবার রাতে। এই সোমবারে ফোনে জানতে পারি আমার ছেলে কামাল আর নাই। পিতা হিসেবে তার জন্য তো আর কিছু করার নাই, শুধু দেশের মাটিতে যদি তার দাফনটা করতে পারতাম। আমার ছেলের লাশটা দেশে এনে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেষ ষোলোর টিকিট কেটে যে রেকর্ড গড়ল স্পেন

সাঁতার শিখতে গিয়ে প্রাণ গেল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রের

অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন

শ্রমিক নেতাকে হত্যা, ছাত্রদলের ২ নেতা বহিষ্কার

নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় সুসংবাদ

বিএনপি নেতার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

কেন বাতিল হলো কুকুরেয়ার গোল?

মুক্তিপণের আদায়ে অপহরণ, পুলিশের অভিযানে বাঁচল যুবক

পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ কে জিতবে, জানাল সুপার কম্পিউটার

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গেল স্পেন

১০

আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেপ্তার

১১

কলাবাগানে নিয়ে মাকে হত্যা, ঘাতক ছেলে গ্রেপ্তার

১২

স্বপ্নভঙ্গের খতিয়ান: বাল্যবিয়ের বিষ-ছোবলে লাখো ছাত্রী

১৩

আনোয়ার ইস্পাতের আয়োজনে বুয়েটে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

১৪

স্থানীয় সরকারে ভোট দিতে ভোটার হওয়ার শেষ সময় ৩১ জুলাই

১৫

শাশুড়িকে হত্যার পর গোপনে দাফন, পুত্রবধূর স্বীকারোক্তিতে রহস্য ফাঁস

১৬

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল ২ ভাইয়ের

১৭

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৮

এইচএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক

১৯

পাবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

২০
X