দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৭:৪৯ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৮:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ায় রেল দুর্ঘটনায় কুমিল্লার ২ যুবক নিহত

নিহত দুলালের ছবি হাতে তার মা আনোয়ারা বেগম। ছবি : কালবেলা
নিহত দুলালের ছবি হাতে তার মা আনোয়ারা বেগম। ছবি : কালবেলা

অভাব ঘুচাতে ধার-কর্জ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল কামাল-দুলাল। অনেক স্বপ্ন ছিল তাদের মা-বাবা আর স্বজনদের চোখে। ঋণের বোঝা শেষ হলেই সংসারে ফিরবে সুদিন। একটুখানি সুখের দেখা মিলবে পরিবার দুটিতে। অথচ সুদূর প্রবাসে ট্রেনের ধাক্কায় দুজনের মৃত্যুতে অন্ধকার নেমে এসেছে দুটি পরিবারে। ঋণের বোঝা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎই যেন নিশ্চিত পরিণতি শোকার্ত পরিবার দুটিতে।

গত ৩ মার্চ রাতে রেললাইনের পাশ থেকে কামাল ও দুলালের লাশ উদ্ধার করে মালয়েশিয়ান পুলিশ। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের এলাহাবাদ গ্রামের লিটন মেম্বারের বাড়ির শহিদ মিয়ার ছেলে মো. কামাল হোসেন (২৫) ও একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. দুলাল মিয়া (৩২)। দুজনেই কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। কাজ করতেন একটি ওয়ার্কশপে। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান বাংলাদেশ হাইকমিশন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে এলাহাবাদ গ্রামের লিটন মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মালয়েশিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত কামাল-দুলালের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাদের মা-বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে চারপাশ।

নিহত মো. দুলাল মিয়ার মা আনোয়ারা বেগম জানায়, গত এক বছরে তিনি স্বামী এবং আরও দুই সন্তান হারিয়েছেন। চার ভাই পাঁচ বোনের সংসারে দুলাল ছিল সবার ছোট। আরেক সন্তান দেলোয়ার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন চট্টগ্রামে। ১৬ মাস আগে সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় দুলাল। স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে রেখে যায় মায়ের কাছে। দুলালের মৃত্যুতে এখন অথই সাগরে পড়েছেন তার মা। কী দিয়ে পরিশোধ করবে ঋণ, পুত্রবধূ ও দুই নাতনি নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন তিনি। এই চিন্তায় পুত্রশোকও মলিন হয়ে উঠছেন কখনো কখনো। তারপরও নিহত সন্তানের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চান তিনি। বারবার শুধু বলছেন আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও বাবা।

দুলাল মিয়ার প্রতিবেশী ছিল মো. কামাল হোসেন। সম্পর্কে চাচাতো ভাই। মেধাবী ছাত্র কামাল টাকার জন্য করতে পারেনি লেখা-পড়া। ১৪ মাস আগে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ করে চলে যায় মালয়েশিয়া। বাবা-মায়ের অতি আদরের ছোট সন্তান ছিলেন তিনি। বাবা-মা চার ভাইয়ের অভাবের সংসারে সে আনতে চেয়েছিল সুখ। এরই মধ্যে ঋণের বেশ কিছুটা পরিশোধ করেছে। দেশে ফিরলেই বসতো বিয়ের পিড়িতে।

কামালের শোকাহত বাবা শহিদ মিয়া জানান, কামালের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছে গত বুধবার রাতে। এই সোমবারে ফোনে জানতে পারি আমার ছেলে কামাল আর নাই। পিতা হিসেবে তার জন্য তো আর কিছু করার নাই, শুধু দেশের মাটিতে যদি তার দাফনটা করতে পারতাম। আমার ছেলের লাশটা দেশে এনে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে বাড়ছে জ্বালানি তেলের মজুত

পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন বার্তা, কোন গ্রেডের বেতন কত

ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া

ফুটবল খেলা নিয়ে তর্ক, ঘুসিতে যুবকের নাকের হাড় ভাঙার অভিযোগ

ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের সামনে কলম্বিয়া

আজকের স্বর্ণের বাজারদর

বিয়ে করলেন টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি

ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল কিশোরের

ভূমিকম্পে পা হারানো শিশুর মুখে হাসি ফোটালেন রোনালদো

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

১০

যুবলীগ নেতাকে আটকের পর ‘ছেড়ে দিল’ পুলিশ

১১

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা 

১২

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, আহত ৭

১৩

খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কোটি মানুষের ঢল

১৪

বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার খবর কী

১৫

৪৪ ডিগ্রির ইউরোপ: চরম গরম কি আর ‘ব্যতিক্রম’ নয়?

১৬

বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে এভাবে লড়াই করা আমাদের জন্য সম্মানের: কেপ ভার্দের কোচ

১৭

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছাড়াল ৪ হাজার ৩০০ 

১৮

আকিজ বশির গ্রুপে চাকরির সুযোগ, হোস্টেল সুবিধা পাবেন অবিবাহিতরা

১৯

চুরির ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

২০
X