ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মাছ শিকারে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে চায়না দুয়ারি। পদ্মা নদীসহ বিভিন্ন খালবিলে এসব নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি পেতে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশি প্রজাতির ডিমওয়ালা মাছসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী। সংশ্লিষ্টদের নাকের ডগাতেই সারা বছরই চলে এ ধ্বংসযজ্ঞ।
শুক্রবার (৮ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের বিশাই মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রাম সংলগ্ন পদ্মা নদীতে দেখা যায়, প্রায় পাঁচশত মিটার দীর্ঘ ও চারশত মিটার প্রস্থ জলসীমায় অসংখ্য বাঁশ পুতে রাখা হয়েছে। প্রথমে দেখে বোঝার উপায় নেই কী কারণে পদ্মাজুড়ে এ বাঁশ। কৌতুহল বসত স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এই বাঁশের সাথে চায়না দুয়ারি পাতা রয়েছে। সে সময় লক্ষ্য করা যায় নদীর পাড়ে সারি সারি চায়না দুয়ারি রোদে শোকনো হচ্ছে। এ ছাড়া চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের কল্যানপুর, চর গোপালপুর, চর হরিরামপুরের নমুর ছাম, পাঁচ নম্বর কোল, সদর ইউনিয়নের লোহারটেক কোল, গোপলপুর ঘাট এলাকায় সারা বছরই এরকম বাঁশ পুতে চায়না দুয়ারি পাতা হয়।
জানা গেছে, চরভদ্রাসনে চায়না দুয়ারির ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ২০১৫ সালের দিকে চরভদ্রাসনে প্রথমে অল্পবিস্তরে চায়না দুয়ারির ব্যবহার শুরু হয়। সে সময় ২২ মিটার দৈর্ঘের একটি দুয়ারির দাম ছিল ৭ থেকে আট হাজার টাকা। ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে এবং হারিয়ে যেতে থাকে বাঁশের তৈরি দুয়ারি। বর্তমানে এ দুয়ারির ব্যবহার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন সব থেকে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে ১৯ মিটার দৈর্ঘের চায়না দুয়ারি। যার মূল্য তিন হতে সাড়ে তিন হাজার টাকা। চরভদ্রাসনের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অধিকাংশ জেলেই এ দুয়ারি ব্যবহার করে থাকেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, এসব বিষয়ে অবগত রয়েছে মৎস দপ্তর। বিশাই মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মো. মোতাহার হোসেন (৬৯) বলেন, চায়না দুয়ারির ব্যবহার রোধ করা না গেলে অচিরেই আমারা মাছের সংকটে পরব।
ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা সেখ সালাম বলেন, আগের চেয়ে চায়না দুয়ারির ব্যবহার এখন অনেক বেশি বেড়েছে। এর ব্যবহার রোধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
চরভদ্রাসন ক্ষুদ্র মৎসজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আত্তাফ মুন্সি বলেন, বর্তমান সময়ে মৎস সম্পদ ধ্বংসের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে চায়না দুয়ারি। এর ফলে দেশীয় বাঁশের তৈরি চাঁই বা দুযারি বিলুপ্তির পথে। চায়না দুয়ারির দুই দিকে মুখ ও যেকোনো স্থানে পাতা যায় বলে একচেটিয়াভাবে ধরা পরে বিভিন্ন জাতের মাছ।
নদীতে অনেক চায়না দুয়ারি আছে এমন কথা স্বীকার করে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের মাসে একটি অভিযান ও একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নির্দেশনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন