রাজু দত্ত, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৪, ০৩:৪০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ফাগুয়া উৎসব বোনাস পাননি চা-শ্রমিকরা

চা বাগানে কাজ করছে একজন চা শ্রমিক। ছবি : সংগৃহীত
চা বাগানে কাজ করছে একজন চা শ্রমিক। ছবি : সংগৃহীত

চা-শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ফাল্গুন মাসের মাসের দোল পুর্ণিমার সময় ফাগুয়া (লাল পূজা) উৎসবের সময় প্রাপ্য উৎসব বোনাস সকল চা-বাগানে প্রদান করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে চা-শ্রমিক সংঘ।

চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক রাজদেও কৈরী এবং যুগ্ম-আহাবয়ক শ্যামল অলমিক এক যুক্ত বিবৃতিতে অভিযোগ করেন চা-বাগান মালিকদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এবং চা-শিল্পে সরকার ঘোষিত নির্ধারিত মজুরির গেজেট অনুযায়ী ফাগুয়ায় সকল চা ও রাবার-শ্রমিক উৎসব বোনাস পাওয়ার অধিকারী।

কিন্তু এ বছর ফাগুয়া উৎসবে এখনো অধিকাংশ বাগানের চা-শ্রমিকরা উৎসব বোনাস পাননি, এমন কি কোনো কোনো চা-বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরিও ঠিক মতো পরিশোধ করা হয়নি। ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেডের আলীনগর, সুনছড়া, চাতলাপুর, শমসেরনগর; দেউন্দি টি কোম্পানির মৃত্তিঙ্গা, লালচান, দেউন্দি নয়াপাড়া, এনটিসির দেওরাছড়াসহ বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকদের অদ্যাবধি ফাগুয়া উৎসব বোনাস প্রদান করা হয়নি। আবার কোনো কোনো বাগানে ফাগুয়ায় উৎসব বোনাস প্রদান করা হলেও পূর্ণ বোনাস না দিয়ে আংশিক বোনাস দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন বাগানের চা-শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দৈনিক মাত্র ১৭০ টাকা মজুরিতে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতির বাজারে এমনিতেই চা-শ্রমিকদের অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। তার উপর শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার হতে বঞ্চিত করা হলে শ্রমিকরা কোথায় যাবে? অথচ চা-শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে ২০২৩ সালে লক্ষ্য মাত্রা অতিক্রম করে রেকর্ড পরিমান চা-উৎপাদন হয়।

২৪ মার্চ থেকে ফাগুয়া উৎসব শুরু হয়ে গেলেও এখনো অধিকাংশ চা-শ্রমিকদের উৎসব বোনাস প্রদান করা হয়নি। চা বাগান মালিকদের সঙ্গে সম্পাদিত সর্বশেষ মজুরি চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর একজন চা-শ্রমিক ৫২ দিনের মজুরির সমপরিমান উৎসব বোনাস প্রাপ্য হবেন, যার ৬০ শতাংশ দুর্গা পূজায় এবং অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ ফাগুয়ায় পাবেন। সেই হিসেবে ফাগুয়ায় একজন শ্রমিক ৩ হাজার ৫৩৬ টাকা উৎসব বোনাস পাবেন।

চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা অবিলম্বে সকল চা ও রাবার শ্রমিকদের পূর্ণ বোনাস হিসেবে ৩ হাজার ৫৩৬ টাকা প্রদান এবং যে সকল চা-বাগানে এরিয়ারা টাকা বকেয়া রয়েছে ও মজুরি বকেয়া আছে তা অবিলম্বে পরিশোধ করার দাবি জানান। অন্যথায় চা-শ্রমিকরা বেঁচে থাকার তাগিদে ২০২২ সালের আগস্ট মাসের আন্দোলনের শিক্ষা থেকে নতুন করে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে বাধ্য হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি

বিএনপিতে যোগ দিলেন চাকমা সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক মানুষ

বার্সার ‘ভবিষ্যৎ’ কেড়ে নিল পিএসজি!

বাড়ির মালিক যখন ভাড়াটে হয়ে যায়

আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে : আইজিপি

চুল পড়া কমাতে নিয়মিত খাবেন যে ৫ খাবার

বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক ফিফার সাবেক সভাপতির

ফ্রিজে রাখা ভাত বারবার গরম করে খেলে কী হয়? যা বলছেন চিকিৎসকরা

ইতালিতে সন্ত্রাসবাদ মামলায় দণ্ডিত বাংলাদেশি যুবককে স্থায়ী বহিষ্কার 

১০

জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় এনসিপি নেতার পদত্যাগ 

১১

জোড়া সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের রেকর্ড

১২

ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত আছি : মঞ্জু

১৩

সিআরইউর সভাপতি লিটন সেক্রেটারি মামুন প্রচার সম্পাদক রকি

১৪

জাপান সাগরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার

১৫

ঢাকায় প্রথমবার নারী সমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াত

১৬

বিএনপি খারাপ হলে মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি কেন, জামায়াতকে তারেক রহমান

১৭

ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০ মুসলিম বিজ্ঞানী

১৮

ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষ

১৯

নেতা হয়ে নয়, আপনাদের ভালোবাসায় থাকতে চাই : মান্নান

২০
X