কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৪, ০৯:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সৈকত সরকারি কলেজ

আইন ভেঙে ‘চেয়ারম্যানগিরি’ করছেন কলেজের শিক্ষক

সুবর্ণচরের সৈকত সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
সুবর্ণচরের সৈকত সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

নোয়াখালী সুবর্ণচরের সৈকত সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন আইন ভেঙে ‘চেয়ারম্যানগিরি’ করছেন। এ ছাড়াও নিজেকে অধ্যাপক বলেই দাবি করেন তিনি। অথচ অধ্যাপক পদটি সহকারী অধ্যাপকের দুই ধাপ উপরে।

সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন না। অথচ বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জয়ী হন বেলায়েত। এখন চেয়ারম্যান হিসেবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যস্ততার কারণে কলেজে ক্লাস নেন না। অথচ নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন তিনি। আইন লঙ্ঘন করে চেয়ারম্যান পদে বসে থাকা বেলায়েতের বিষয় নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের পাশাপাশি এলাকার সচেতন মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা,১৯৭৯- এর ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, (১) সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা, রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য হইতে অথবা অন্য কোনোভাবে উহার সহিত যুক্ত হইতে পারিবেন না, অথবা বাংলাদেশে বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করিতে বা কোনো প্রকারেই সহায়তা করিতে পারিবেন না। (৩) সরকারি কর্মচারী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতে অথবা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করিতে বা অন্য কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করিতে বা প্রভাব খাটাইতে পারিবেন না।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মো. ফিরোজ মিয়া কালবেলাকে বলেন, এমপিওভুক্ত কলেজ সরকারি হয়ে গেলে শিক্ষক-কর্মচারীরা পুরোপুরি সরকারি কর্মচারী হয়ে যান। সুতরাং সরকারি কর্মচারী হিসেবে কোনোভাবে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এবং ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এটা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নে সৈকত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ১৯৯৬ সালে পৌরনীতি বিষয়ের প্রভাষক পদে চাকরি হয় শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণির সনদধারী বেলায়েত হোসেনের। কোনো পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণি পাননি। এসএসসিতে তার ফল দ্বিতীয় শ্রেণি, এইচএসসিতে তৃতীয় শ্রেণি। বিএ পাস করেন তৃতীয় শ্রেণি পেয়ে। আর দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে এমএ পাস করেন বেলায়েত। চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম কয়েক বছর তিনি নিয়মিত কলেজে ক্লাস নিতেন। কিন্তু ২০০৩ সালে প্রথমবার সুবর্ণচরের চরআমান উল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বেলায়েত। পরপর দুইবার জয়ী হয়ে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘চেয়ারম্যানগিরি’ করেন এই শিক্ষক। এরপর সর্বশেষ ২০২১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ফের ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৮ সালেই সৈকত কলেজ জাতীয়করণ হয়। অর্থাৎ এমপিওভুক্ত কলেজটি সরকারি হয়। সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে বেলায়েত হোসেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন না। কিন্তু তিনি সরকারি চাকরি আইনের তোয়াক্কা না করেই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে ‘চেয়ারম্যানগিরি’ চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিয়মিত কলেজে না আসলেও হাজিরা খাতায় বেলায়েতের নিয়মিত স্বাক্ষর রয়েছে। মাস শেষে বেতন-ভাতাও তুলে নেন তিনি। নিজে ক্লাসে না গিয়ে নিজাম উদ্দিন নামে একজনকে দিয়ে ভাড়াটিয়া ক্লাস নিচ্ছেন বেলায়েত হোসেন। নিজামকে মাসিক হাজার দশেক টাকা দেন তিনি। এ নিয়ে সৈকত সরকারি কলেজের অন্যান্য শিক্ষকরা চরম ক্ষুব্ধ। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও বেলায়েতের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, বেলায়েত হোসেন চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে কলেজে নিয়মিত আসেন না। আসলেও তিনি ক্লাস নেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবশ্য তিনি তার পরিবর্তে নিজাম উদ্দিন নামে একজনকে বদলি খাটাচ্ছেন। নিজামকে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা দেন বেলায়েত। বাদ বাকি বেতন-ভাতা তিনি ভোগ করেন। সরকারি কর্মচারী হয়েও বেলায়েত চেয়ারম্যান পদে থেকে নৈতিকতাবিরোধী কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন অন্য শিক্ষকরা।

এ প্রসঙ্গে বেলায়েত হোসেন চেয়ারম্যান বলেন, আমি নিয়ম মেনেই চেয়ারম্যান পদে আছি। নিয়মটি সরকারি চাকরি আইনের কোথায় আছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটি সময় হলে বলব। এরপর ফোন কেটে দেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভাইভা দিতে এসে আটক ছাত্রলীগ নেতা

‘নুজসাতের মৃত্যুর আগে সাকিনের সঙ্গে ৪ বার কথা, তিন মাসে ১১৮ কল’

প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

তালাবদ্ধ ঘর থেকে মায়া হরিণ উদ্ধার

সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

মেসির টানা ৭, রোনালদোর ৬, জার্মানির ৭-১ গোলের জয়সহ প্রথম রাউন্ডে যত রেকর্ড

টিউশনি না পেয়ে শরবতের দোকান, অভাব জয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল যুক্তরাজ্য

চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পেটালেন আ.লীগ নেতা

১০

মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

১১

‘বাংলাদেশকে সত্যিই ভালোবাসি, তাদের সমর্থন অসাধারণ’— এমি মার্টিনেজ

১২

ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলায় হামে শিশু মারা গেছে : নাসিক প্রশাসক

১৩

পাগলা মসজিদে মিলল রেকর্ড টাকা

১৪

‘স্বল্প সময়ে জনকল্যাণমুখী-সাহসী বাজেট দিয়েছে সরকার’

১৫

যে কারণে ইসলামি ব্যাংকিং প্রয়োজন

১৬

ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

১৭

হারারেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে টাইগাররা

১৮

যে তিন অভিযোগে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

১৯

কক্সবাজারে সড়কে ঝরল ২ যুবকের প্রাণ

২০
X