বিকাশ চন্দ্র প্রামানিক, নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৪, ০৩:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঈদে ঘুরে আসতে পারেন নওগাঁর যেসব ঐতিহাসিক স্থান

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। ছবি : কালবেলা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। ছবি : কালবেলা

কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। আর সেই কৃষির অধিকাংশ চাহিদা মিটায় উত্তরের খাদ্যশস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলা নওগাঁ। এই জেলা শুধু খাদ্যভাণ্ডার হিসেবেই পরিচিত নয়, জেলাতে আছে ইতিহাস ঐতিহ্য ঘেরা স্মৃতিবিজড়িত অনেক দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান আর স্থাপনা। যান্ত্রিক জীবনে কাজের ফাঁকে একবার ঘুরে দেখার পর মন হবে ভালো, যেতে ইচ্ছে করবে আরেকবার।

আবার কিছু কিছু দর্শনীয় স্থান কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। আছে শুধু অবশিষ্ট স্মৃতি। তারপরও এখানে ঐতিহ্যে ভরা ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা রয়েছে অসংখ্য। তাই মন চাইলে এবারের ঈদে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরবঙ্গের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁ জেলা। জানতে পারবেন অনেক ইতিহাস, ভাগাভাগি করতে পারবেন আনন্দ। এই জেলার ইতিহাস ও কোথায় কীভাবে যাবেন।

জেলার ইতিহাস

১৯৮৪ সালের পহেলা মার্চ ১১টি উপজেলা নিয়ে জেলা হিসেবে ঘোষিত হয়। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে আয়তনে ও সীমান্তবর্তী এ জেলা বৈচিত্র্যে ভরপুর। ছোট ছোট নদী বহুল এ জেলা প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি কাজের জন্য প্রসিদ্ধি। অসংখ্য পুরাতন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও জমিদার বাড়ি, প্রাচীন স্থাপনা প্রমাণ করে নওগাঁ জেলা সভ্যতার ইতিহাস অনেক পুরাতন। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ইতিহাস বিজড়িত নানা স্থান ও স্থাপনা। যেখানে গেলে আপনার মনকে নাড়া দিবে গভীরভাবে। তাই জেনে নেওয়া যাক এ জেলার যেসব ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সব দর্শনীয় স্থানের কথা।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহার

নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার উত্তর দিকে বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহার। মোট ৭০.৩১ একর জমির উপর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারটি অবস্থিত। আয়তনে এর সঙ্গে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা করা হয়। ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। কথিত আছে বাংলার সুবিখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও কুমার শরৎকুমার রায় ১৯২৩ সালের ১ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে সোমপুর বিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু করেন এবং এই খননের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এটি ছিল একটি বৌদ্ধ মন্দির ও তৎকালীন বৃহত্তর বিদ্যাপীঠ।

১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা হয়। বিহারটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল। চীন, তিব্বত, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সহ উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। আকর্ষণীয় স্থাপত্য বিশাল আয়তন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার আজ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিদিন এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সমাগম হয়ে থাকে। ঐতিহাসিক এই মহা বিহারটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ বিহার বলে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। যা আপনাকে নজর কাড়াবে। কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজুর চেষ্টায় বর্তমানে বিহারটিকে আধুনিক মানের করা হয়েছে। সর্বশেষ দর্শনার্থীদের যোগাযোগের সুবিধার্থে হাতে নেওয়া হয়েছে আধুনিক মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কাস্টো ডিয়ানের অক্লান্ত পরিশ্রমে সড়ক ও জনপথ, জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় এমপিসহ সকলের সহযোগিতায় আধুনিক মানের সড়ক হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই বিহারটিতে যাতায়াতের জন্য।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফজলুল করিম আরজু কালবেলাকে বলেন, বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিহার পাহাড়পুরের আদি নাম সোমপুর বিহার। এখানে সারা বছর দেশ ও বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। এই বিহারটিকে পর্যটকবান্ধব ও আধুনিকায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা নানাবিধ পরিকল্পনা ইতিমধ্যই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে আমাদের প্রত্নতত্ত্বের সাইড পাহাড়পুর ও আত্রাই উপজেলার পতিসরের কাচারিবাড়ি রবীন্দ্র নাথ কুঠিবাড়ি। যেখানে টিকেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। আমাদের এখানে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত সবাই ফ্রি। ক্লাস সিক্স থেকে ইন্টার পর্যন্ত ১০ টাকা। এর উপরে সবাইকে ৩০ টাকা দিয়ে টিকেট কাটতে হবে। আর বিদেশি পর্যটকদের ৫০০ টাকা এবং সার্কভুক্ত দর্শনার্থী ২০০ টাকা। এই টিকিটগুলো শুধুমাত্র বিহারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এই পাহাড়পুর জাদুঘরের জন্য পৃথকভাবে একই মূল্য মানের টিকিট করতে হবে। ঈদ উপলক্ষে ছাড় দেওয়ার আমার কোনো ক্ষমতা নেই জানিয়ে কাস্টোডিয়ান আরজু বলেন, আমাদের মিনিস্ট্রি থেকে সাধারণত কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। ছাড় দেওয়া হয় বিজয় ও স্বাধীনতা দিবসসহ বিশেষ দিনে।

তিনি বলেন, এবারে কুরবানির ঈদের দিন আমাদের ঐতিহাসিক নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বন্ধ থাকবে। তবে পরের দিন থেকে যথাযথ নিয়মে খোলা থাকবে। আর সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার জন্য আমি ডিসি ও এসপি স্যারকে জানিয়েছি। তাঁরা সকলে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। সর্বোপরি ঈদকে সামনে রেখে দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তাসহ সকল প্রস্ততি আমরা প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে গ্রহণ করে রেখেছি। যেহেতু এই সময় সরকারের একটা বিশেষ রাজস্ব আসে। আমাদের স্টাফদেরও সেইভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে ঈদের পরদিন থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করবে। এবং শনিবার পর্যন্ত বেশি দর্শনার্থী আশা করছি।

পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানোর দাবি নিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক বিশ^বিদ্যালয় অথবা প্রত্নতত্ত্ব গবেষণা ইন্সটিটিউট স্থাপনসহ জেলায় একটি পর্যটন মোটেল তৈরির দাবি জানান অনেকে। আর পাহাড়পুরের ঐতিহাসিক এই বিহারটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে এবং দেশ বিদেশে এর সুনাম যেন আরও ছড়িয়ে পড়ে সেই জন্য যা যা করার সকল কিছু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবেন বলে জানালেন নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর) আসনের সংসদ সদস্য সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী সৌরেন। ইতিমধ্যে তিনি বিহারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন মহান জাতীয় সংসদে।

হলুদ বিহার

হলুদ বিহার বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর স্বীকৃত একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থান। নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ১৫কিলোমিটার দূরে বদলগাছীর বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের দ্বীপগঞ্জ গ্রামে এর অবস্থান। বর্ষাকালে হলুদ বিহার ঢিবিটি দ্বীপের ন্যায় দেখাতো, যার ফলশ্রুতিতে এটি দ্বীপগঞ্জ নামে পরিচিত। দ্বীপগঞ্জ গ্রামের হাটের পাশে স্তূপীকৃত মাটির ঢিবি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ঢিবির পরিধি প্রায় ১০০ ফুট এবং সমতল ভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানে এটি একটি বৌদ্ধ বিহার বলে ধারণা পাওয়া যায়। কিছু কিছু ঐতিহাসিকরা এটিকে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সমসাময়িক বলেই মনে করেন। তবে এর নির্মাণে শুধু সিঁড়ির ইটের সঙ্গে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কেন্দ্রীয় মন্দিরের পশ্চিম পাশের ইটের মিল পাওয়া যায়। হলুদ বিহারের একটি প্রাচীন পথ কোলা অতিক্রম করে পাহাড়পুর, আরেকটি পথ জগদল মহাবিহারের অগ্রসরমান। অবস্থাদৃষ্টে এ বিহার তিনটির মধ্যে গভীর যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করা হয়।

পতিসর কাছারিবাড়ি

জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে জেলার আত্রাই উপজেলায় অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত পতিসর কাছারিবাড়ি। যেতে পারবেন নওগাঁ থেকে আত্রাই হয়ে, রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হয়ে অথবা নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা কালিগঞ্জ হয়ে। ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে; বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে’ বিশ্ব কবির বিখ্যাত এ কবিতাটি তিনি লিখেন পতিসরের কাছারিবাড়িতে বসে। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা নাগর নদীকে কেন্দ্র করেই এটি লিখেন তিনি।

এছাড়া বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে বসেই লিখেন ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সবগাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে’ কবিতাটি। ১৮৯১ সালের পর কবি বহুবার এসেছেন পতিসর কুঠিবাড়িতে নাগর নদী পথে বজড়ায় চড়ে। ১৮৯১ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত এ পতিসরে বসে অসংখ্য গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, চিঠিপত্র, কাব্য নাটিকা লেখেন। ১৯৩৭ সালে ২৬ জুলাই কবি শেষবারের মতো এসেছিলেন তার পতিসরের কাছারিবাড়িতে।

কবির ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৪ সালে এ এলাকার প্রজাদের জন্য সর্বপ্রথম আধুনিক সময়ের কলের লাঙল এনেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সরকার ১৯৫২ সালে এক অর্ডিন্যান্স বলে কালিগ্রাম পরগনার জমিদারি কেড়ে নিলে ঠাকুর পরিবারের এ জমিদারি হাতছাড়া হয়ে যায়। এর ফলে কবির ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর সস্ত্রীক পতিসর যাতায়াত বন্ধ করে দেন। কবির কাছারিবাড়ি এখন মিউজিয়াম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৫ টাকার টিকিট নিয়ে এ মিউজিয়ামে ঢুকতে পারবেন। জানতে ও দেখতে পারবেন পুরাতন অনেক কিছু।

দিবরদিঘি

নওগাঁ জেলার পত্মীতলা উপজেলা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে সাপাহার-নওগাঁ সড়কের পাশেই ঐতিহাসিক দিবর দিঘি অবস্থিত। দিবর দিঘির ঐতিহাসিক পটভূমি ছাড়াও রয়েছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দিঘিটিকে ঘিরে লোকমুখে অনেক গল্প কাহিনি, কাল্পনিক গল্প-কথা প্রচলিত। দিঘির মূল ঘাটে প্রবেশ করার সময় দু’পাশে উইপিং দেবদারু গাছ দিয়ে ঘেরা রাস্তা আপনাকে স্বাগত জানাবে। এই দিঘির মাঝখানে রয়েছে আশ্চর্যজনকভাবে স্থাপিত অখণ্ড গ্রানাইট পাথরের স্তম্ভ। যা সুদূর অতীতের বাঙালির শৌর্যবীর্যের সাক্ষ্য বহন করছে আজও। দিঘির পাড়ে কয়েকশ’ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গাছের সমন্বয়ে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প এবং দীঘির পশ্চিম পাড়ে বিশাল আম-কাঁঠালের বাগান। অর্ধ বর্গ বিঘা দিঘির মধ্যখানে অবস্থিত আট কোণাবিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরে নির্মিত এতবড় স্তম্ভ বাংলাদেশে বিরল। এটিকে জয়স্তম্ভ নামে ডাকা হয়। সকলের কাছেই ওই দিঘিটি কর্মকারের জলাশয় নামে পরিচিত। স্তম্ভটির সর্বমোট উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। পানির নিচের অংশ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং পানির উপরের অংশ ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। স্তম্ভটির ব্যাস ১০ ফুট ৪ ইঞ্চি। প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। স্তম্ভের উপরিভাগ খাঁজকাটা অলংকরণ দ্বারা সুশোভিত।

আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান

নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর ভারতীয় সীমান্তের কোল ঘেঁষে ধামইরহাট উপজেলা। উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান। প্রায় ২০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে আলতাদিঘি শালবন, যা আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান নামে পরিচিত। এর মাঝখানেই ৪৩ একরের আয়তনের বিশাল আলতাদিঘি। এ ছাড়া শালবনের আয়তন ২৬৪.১২হেক্টর। দিঘীর স্বচ্ছ পানিতে ফুটে থাকা হাজারো পদ্মফুল যে কোন ভ্রমণপিপাসু মানুষকে বিমোহিত করবে। প্রতি বছর শীত যখন জেঁকে বসে, তখন ভারত সীমান্ত ঘেষা এই দিঘীতে বিভিন্ন প্রজাতির নাম না জানা অতিথি পাখি এসে দিঘির নির্মল পানিতে দাপিয়ে বেড়ায়, ডাহুক, পানকৌড়ির কলকাকলি আর তাদের চঞ্চল উড়াউড়িতে প্রাণ প্রাচুর্যে মুগ্ধ হয় যেকোনো বয়সের মানুষের হৃদয়।

এ ছাড়া শালবনে রয়েছে ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। একদিকে পর্যটক ও দর্শকদের আনন্দ ও বিনোদন যেমন বেড়েছে তেমনি এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজার রাখার জন্য এ বনাঞ্চল যথেষ্ট অবদান রাখছে।

এদিকে চলতি বছরের গত ৯ মে জাতীয় সংসদের আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকার আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যানে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের উদ্বোধন করেছেন। এক কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উন্নত মানের ও আধুনিক ডিজাইনের এই ওয়াচ টাওয়ার উদ্যান এলাকায় মাটি খুড়ে ৭২০ ফিট উঁচু নির্মাণ করা হবে। এই ওয়াচ টাওয়ারটি পুরোপুরি নির্মাণ হলে আলতাদিঘি ও বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক লীলাভূমি দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা বলে জানান রেঞ্জ কর্মকর্তা একে এম ফরহাদ জাহান।

জগদ্দল বিহার

জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তরে ধামইরহাট উপজেলার জগদ্দল গ্রামে অবস্থিত জগদ্দল বিহার । একাদশ শতকে বিদ্রোহী বঙ্গাল সৈন্য কর্তৃক পাহাড়পুর (সোমপুর) বিহার আক্রান্ত ও অগ্নিদগ্ধ হয়। এই বিশৃঙ্খলা এবং বাইরের আক্রমণের ফলে পাল সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব লুণ্ঠন হয়ে যায়। বরেন্দ্র অঞ্চল কিছুকালের জন্য স্থানীয় কৈবর্ত নায়েব দিব্যোক এবং তার ভ্রাতুষ্পুত্র ভীমের শাসনাধীনে চলে যায়।

একাদশ শতকের শেষার্ধে ভীমকে পরাজিত করে রামপাল প্রিয় পিতৃভূমি বরেন্দ্র উদ্ধার করেন। তিনি প্রজা সাধারণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা অর্জনের জন্য মালদহের সন্নিকটে রামাবতী নামক রাজধানী এবং এর নিকটবর্তী স্থানে জগদ্দল বিহার (বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। ইউনেস্কো ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের সম্ভাব্য তালিকায় জগদ্দল বিহারের নাম রয়েছে।

ধ্বংসের মুখে কাশিমপুর রাজবাড়ি

রাজ্য আছে, রাজা নেই। আছে শুধু অবশিষ্ট। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে ছোট যমুনা নদীর পাশে জেলার রাণীনগর উপজেলায় অবস্থিত কাশিমপুর রাজবাড়ি। বর্তমানে রাজবাড়িরর শেষ অংশটুকুও ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মন্দিরের কিছু অংশ এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ বাড়িটি পাগলা রাজার বাড়ি বলে বেশ পরিচিত। পাগলা রাজা নাটোরের রাজার বংশধর শ্রী অন্নদা প্রসন্ন লাহিড়ী বাহাদুর ছিলেন এই রাজত্বের শেষ রাজা। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে ছিলেন।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর রাজবংশের সবাই এই রাজত্ব ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যান। শুধু ছোট রাজা শ্রী শক্তি প্রসন্ন লাহিড়ী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কাশিমপুর রাজবাড়িতে বসবাস করতেন। সময়ের বিবর্তনে সেও এক সময় কিছুটা চুপিসারে রাজবাড়ির স্টেটের অঢেল সম্পদ রেখে ভারতে চলে যান। এই রাজবাড়িটির নিদর্শন সমূহ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সকল কারুকার্য ধ্বংস প্রায়।

রাজবাড়ির মূল ভবনের সামনের চারটি গম্বুজ, উত্তর পাশে হাওয়াখানা ও পশ্চিম পাশে একটি দুর্গা মন্দির ছিল। প্রতিনিয়ত মন্দিরে পূজা ও সন্ধ্যায় জ্বালানো হতো প্রদীপ, শোনা যেত শঙ্খ ও উলুর ধ্বনি। বর্তমানে রাজার জায়গার কিছু অংশ এখন কাশিমপুর ইউপি ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কাশিমপুর রাজার শত শত বিঘা জমি ও পুকুর স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন কায়দা-কৌশলে দখলে রেখেছে।

রাজার সম্পত্তিগুলো সবই এখন প্রায় বেদখল। রাজবাড়ি ও রাজার সম্পদগুলোর উপর নজর না দেওয়ার কারণে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সরকারি উদ্যোগ নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে দৃষ্টি নন্দন করলে এখানেও গড়ে উঠতে পারে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য দর্শনীয় স্থান।

দুবলহাটি রাজবাড়ি

নওগাঁ শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে দুবলহাটি ইউনিয়নে অবস্থিত দুবলহাটি রাজবাড়ি। জমিদার বাড়িটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। বাংলাদেশের অন্যান্য জমিদার বাড়ির তুলনায় এটি বেশ বড়।

১৭৯৩ সালে রাজা কৃষ্ণনাথ এই অঞ্চলটিতে শাসনকার্য শুরু করেন। তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ লর্ড কর্নওয়ালিসের কাছ থেকে ১৪ লাখ ৪ শত ৯৫ টাকায় জায়গাটি কিনেছিলেন। রাজা কৃষ্ণনাথের কোনো সন্তান বেঁচে না থাকায় তার নাতি রাজা হরনাথ রায় ১৮৫৩ সালে সেখানকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রাজা হরনাথের শাসনামলে দুবলহাটি সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হয়। দুবলহাটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে তিনি বিভিন্ন নাট্যশালা এবং স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেন, প্রাসাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সাধারণ মানুষদের পানির চাহিদা পূরণ করতে পুকুর খনন করেন।

১৮৬৪ সালে জমিদার পরিবারের উদ্যোগে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টির নামকরণ রাজা হরনাথের নামে করা হয়। জমিদারি প্রথার উচ্ছেদের পর রাজা হরনাথ ভারতে চলে যান। কিন্তু এক গৌরবান্বিত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে প্রাসাদটি। তবে রাজা না থাকলেও এলাকার সৈন্যরা (ছেলেরা) মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলে ব্যস্ত রেখেছে রাজবাড়িটি।

বলিহার রাজবাড়ি

রাজা নেই, ধ্বংসাবশেষ রাজ্য থাকলেও নেই কোনো প্রজা। নেই কোনো মন্ত্রীও। এখানে আজও আছে দেবালয়। দেবালয়ে দেবতার সন্তুষ্টিতে দেবদাসীদের নৃত্যাঞ্জলি, শঙ্খধ্বনি, পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, ধূপের ধোঁয়া আর খোল করতালের শব্দ থেমে গেছে বহু আগে। তবুও কালের সাক্ষী হয়ে রাজার শাসনামলের স্মৃতি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িটি। নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ২০কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নে অবস্থিত রাজবাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জৌলুস হারাতে বসেছে।

জানা যায়, জমিদারগণের মধ্যে জমিদার রাজেন্দ্রনাথ ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে বলিহারে একটি রাজ-রাজেশ্বরী দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মন্দিরে রাজেশ্বরী দেবীর অপরূপা পিতলের মূর্তি স্থাপন করেন। এখানে বসত নিয়মিত জলসা। বলিহারের রাজাদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন। রাজা কৃষ্ণেন্দ্রনাথ রায় বাহাদুর একজন লেখক ছিলেন। দেশ বিভাগের সময় এবং জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে অন্য সব রাজার মতো বলিহারের রাজার উত্তরাধিকারী বিমলেন্দু রায় চলে যান ভারতে। পরবর্তীতে লুট হয়ে যায় রাজবাড়ীর বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মূল্যবান নিদর্শন, আসবাবপত্র, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সামগ্রী। দর্শনীয় প্রাসাদটির কয়েকটি ভবন বর্তমানে কোনো রকমে দাঁড়িয়ে এক সময়ের বলিহার রাজাদের ঐতিহ্যের জানান দিচ্ছে।

কথিত আছে, বলিহারের জমিদারিতে ৩৩০টি দিঘি ও পুকুর ছিল। এখনও অনেক দীঘি ও পুকুর রয়েছে। এসব দিঘি ও পুকুরের নাম খুবই শ্রুতিমধুর যেমন মালাহার, সীতাহার, বলিহার, অত্মাহার নানান নামেই ছিল দিঘি ও পুকুরগুলো পরিচিতি। বেশি দিন বসে থাকলে সৈন্যরা অলস হয়ে যেতে পারে ভেবে মানসিংহ সৈন্যবাহিনী দিয়ে ওই ৩৩০টি দিঘি ও পুকুর খনন করেন। রাজ ভবনটি তৃতীয় তলা। প্রাসাদ কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত বিশাল দেবালয়টিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা-অর্চনা করেন।

দেবালয়ের ভিতরে অনেক কক্ষ আছে। বিভিন্ন পার্বণের দিনগুলোতে অনুষ্ঠিত হতো নাটক, যাত্রা, কবিগান, কীর্তনসহ আরও কত কি! এই রাজবাড়ীর অবশিষ্ট অংশটুকু সরকারিভাবে সংস্কার আর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় তবে ভবিষ্যতে এই রাজবাড়ীটি একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। হবে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত।

কুসুম্বা মসজিদ

জেলা শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে জেলার মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের মান্দা ব্রিজের পশ্চিম দিকে ৪০০ মিটার উত্তরে কুসুম্বা মসজিদটির অবস্থান। কুসুম্বা মসজিদ উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘার একটি বিশাল দিঘি। দিঘিটি লম্বায় প্রায় ১২০০ ফুট ও চওড়ায় প্রায় ৯০০ ফুট। গ্রামবাসী এবং মুসল্লিদের খাবার পানি, গোসল ও অজুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই দিঘিটি খনন করা হয়েছিল। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, ৪২ ফুট চওড়া। চারদিকের দেয়াল ৬ ফুট পুরু। তার ওপর বাইরের অংশ পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

কুসুম্বা মসজিদের সামনের অংশে রয়েছে তিনটি দরজা। আকারে দুটি বড়, অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মেহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোনাকার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ছয়টি গম্বুজ। যা দুইটি সারিতে তৈরি। দ্বিতীয় সারির গম্বুজগুলো আকৃতির দিক দিয়ে ছোট। সবরখান বা সোলায়মান নামে ধর্মান্তরিত এক মুসলমান মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদের দুটি শিলালিপি এর প্রতিষ্ঠাকাল সম্পর্কে মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তবে মূল প্রবেশপথে শিলালিপি থেকে প্রমাণিত হয় এই মসজিদটি ৯৬৬ হিজরি বা ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি। শের শাহের বংশধর আফগান সুলতান প্রথম গিয়াস উদ্দীন বাহাদুরের শাসনামলে (১৫৫৪-১৫৬০ সালে) নির্মিত। সে হিসাবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৪৫৯ বছর। সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের আমলে তার মন্ত্রী বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা রামন দল ৯০৪ হিজরি বা ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।

যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো জায়গা থেকে বাসযোগে সরাসরি এবং ট্রেনযোগে সান্তাহার জংশন স্টেশনে নেমে নওগাঁ শহরে আসতে পারবেন। এরপর শহরের যেকোনো জায়গা থেকে কিংবা নওগাঁর বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে এবং সিএনজিতে চড়ে প্রতিটি স্থানে যেতে পারবেন।

এ ছাড়াও এ জেলায় ঘুরে দেখতে ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন জবাইবিল, ভীমের পান্টিসহ বেশ কিছু স্থান। যা আপনার ভ্রমণপিপাসু মনকে আনন্দিত করে তুলবে। যেতে পারেন জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ঘুঘুডাঙ্গায়। যেখানে সারি সারি তালগাছ আপনার মনকে করবে আনন্দিত।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান। ঈদকে সামনে রেখে এখানে অনেক দেশি বিদেশি দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। দর্শনার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে নিরাপদে ঘুরতে পারে এবং পাহাড়পুরের যে ইমেজটা আছে সেটা যেন আরও বৃদ্ধি পায় সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া সেখানে ট্যুরিস্ট পুলিশও আছে। আশা করছি এবারের ঈদে দর্শনার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে একটা ভালো সময় কাটাতে পারবে।

তিনি বলেন, শুধু পাহাড়পুরে নয়, জেলার সকল ঐতিহাসিক স্থানগুলোতেই পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হবে যাতে করে সড়ক দুর্ঘটনা না ঘটে। এক কথায় আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কারফিউর প্রভাবে সুনশান কুয়াকাটা সৈকত

মানিকগঞ্জে পিকনিকের নৌকা ডুবির ঘটনায় নিহত ১, নিখোঁজ ২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন / সরে দাঁড়ালেন বাইডেন, প্রার্থিতার পথে এগিয়ে কমলা হ্যারিস

ড. ইউনূসের আবেদন খারিজ, মামলা চলবে

জনমনে স্বস্তি না ফেরা পর্যন্ত কারফিউ চলবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রেমিককে যা বললেন ক্যানসার আক্রান্ত হিনা 

সব আরোহী মারা গেলেও বেঁচে ফিরলেন পাইলট!

অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

কসবায় অ্যাম্বুলেন্স-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

চার্জশিট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে জানাল গ্রামীণফোন

১১

‘ভিক্ষা লাগবে না একটা পত্রিকা দেন, দেশের খবর জানি’ 

১২

প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা থাকছে

১৩

যেভাবে দেখবেন অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার ম্যাচ

১৪

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে খুলবে ঢাবি

১৫

স্থানীয় সরকারের ২২৩ পদে নির্বাচন স্থগিত

১৬

ভালো নেই মুরগি ব্যবসায়ীরা

১৭

গাজীপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে পোশাক কারখানা

১৮

পর্যটকশূন্য কাপ্তাই পর্যটনকেন্দ্রগুলো

১৯

ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

২০
X