কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গর্ভের শিশুর লিঙ্গের পরিচয় প্রসঙ্গে যে রায় দিলেন হাইকোর্ট

হাইকোর্ট।
হাইকোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

মাতৃগর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে কঠোরভাবে এ আদেশ মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন এক আইনজীবী। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে প্রায় চার বছর পর রায় এলো। রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ পেলে মাতৃগর্ভেই লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হতে হয়। এতে গর্ভপাতের মতো ঘটনাও ঘটে। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা যাবে না মর্মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এই নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ল্যাবরেটরি কোনো লেখা বা চিহ্ন বা অন্য কোনো উপায়ে শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করতে পারবে না। পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ নীতিমালা দাখিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে আজ রায় দেন হাইকোর্ট।

নীতিমালায় বলা হয়েছে:

১. কোনো ব্যক্তি, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাবরেটরি কোনো লেখা বা চিহ্ন বা অন্য কোনো উপায়ে শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করতে পারবে না।

২. এ বিষয়ে কোনোরকম বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না।

৩. সরকারের মন্ত্রণালয়গুলো ডাক্তার, নার্স, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, টেকনিশিয়ান কর্মীদের নেতিবাচক ফলাফল সম্পর্কে ট্রেনিং দেবে এবং নৈতিকতা ও পেশাগত আচরণ বিষয়ে ট্রেনিং দেবে।

৪. হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মেডিকেল সেন্টারগুলো এ সংক্রান্ত সব ধরনের টেস্টের ডাটা সংরক্ষণ রাখবে।

৫. হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মেডিকেল সেন্টারগুলো ডিজিটাল ও প্রিন্ট মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা এবং কন্যাশিশুর গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন মেসেজ প্রচার করবে।

২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় রোধে নীতিমালা তৈরি করতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় রোধে নীতিমালা বা নির্দেশনা তৈরি করতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণে নীতিমালা তৈরি করতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিলেন। হাইকোর্টের রুলের পর নীতিমালা তৈরির জন্য কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রুল জারির পর রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেছিলেন, ভারতে আইন করে গর্ভজাত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা হলে প্রসূতি মায়ের মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক চাপে গর্ভপাত করার ঘটনাও ঘটে। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি গর্ভের শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশে পরীক্ষা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার

সম্পত্তির লোভে মাকে নির্যাতন, ছেলে গ্রেপ্তার

যমুনায় নেমেছিল গোসলে, লাশ হয়ে ফিরল ২ শিক্ষার্থী 

ফেসবুকে ‘কোস্টা গ্রুপ অস্ট্রেলিয়া’ খুলে প্রতারণা, আটক ৩

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠলেন যুবক

জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা, সুযোগ পেলেন যারা

মতবিনিময় সভায় বক্তারা / জুলাই কারো একার নয়, জুলাই সবার 

আসামির প্রক্সি দেওয়ার সময় আদালতে আটক নারীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিক্ষাই জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি: মিফতাহ্ সিদ্দিকী

ইপিজেড-সল্টগোলার জলাবদ্ধতা নিরসনে নয়ারহাট খালে স্লুইসগেট নির্মাণের উদ্যোগ

১০

শিক্ষাজীবন থেকেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত: ড. জামাল উদ্দিন

১১

ভারতের সাথে পারল না বাংলাদেশ

১২

পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

১৩

বিশ্বকাপের মাঝে একই ঘরে স্বামী-স্ত্রী! পাকিস্তান মহিলা দলে বিতর্কের আগুন

১৪

আশুরা স্মরণ করিয়ে দেয় ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি : প্রধানমন্ত্রী

১৫

ভুলে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতীয় বিমান, যা ঘটল পাইলটের সঙ্গে

১৬

এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল যারা

১৭

বিমানবন্দরে ইরানি অধিনায়ককে আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

বিশ্বকাপে লাল কার্ডের রেকর্ডে শীর্ষে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার অবস্থান কোথায়

১৯

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

২০
X