ভেতরে ঢুকে হাতের ডানে তাকালে চোখে পড়বে দুটি পরিত্যক্ত বাস। তার পাশেই পড়ে আছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। সীমানা ঘেঁষে আছে একটি বড় গর্ত যেখানে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। গেট থেকে ডান দিকে একদম কোণায় গেলে দেখা যায় একগুচ্ছ ভাঙাচোরা চেয়ার, বিভিন্ন ধরনের ময়লার স্তূপ।
এটি দেশসেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখ ভাগের চিত্র। দেখে মনে হবে যেন ডাম্পিং জোন ও ময়লার ভাগাড়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে এভাবে পড়ে আছে বাস দুটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সময় ডিজেল চালিত বাস চালু হলে তখন এই দুই বাসসহ গ্যাস চালিত বাসগুলো চলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখভাগে এভাবেই ফেলে রাখা হয় বাস দুটিকে। বাসের পাশে করা হয়েছে একটি বড় গর্ত, যেখানে প্রশাসনিক ভবনের আশপাশের ময়লা রাখা হয়। এতে করে ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়ায় উৎকট গন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সামনের এই অবস্থায় বিব্রত এখানে কোনো কাজে আসা শিক্ষার্থী-শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদ আদনান রনি কালবেলাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আবর্জনার স্তূপ এবং ভাঙাচোরা বাসগুলো ভবনটির সৌন্দর্য নষ্ট করছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবনের সামনে এমন চিত্র কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বাইরে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা যে কেউ এমন নোংরা পরিবেশ দেখে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত প্রশাসনিক ভবনের সামনের পরিবেশ সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন বাগান তৈরি করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের এক সিকিউরিটি গার্ড জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাসগুলো এভাবে পরে আছে। ডিজেল চালিত বাস চালু হওয়ার পর থেকে এগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে সেটি সচল বলে জানান তিনি।
প্রশাসনিক ভবনের পেছনেও এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে ফেলে না রেখে যদি নিলামে উঠানো হতো তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত আয় হতো। ফেলে রাখায় একদিকে যেমন দৃষ্টিকটু লাগছে অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ফিটনেসবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ বাসগুলো নিলাম প্রক্রিয়াধীন। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নিলাম হয়ে যাবে। নিলাম প্রক্রিয়া অনেক দিন থেকে চলমান ছিল। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা লেগেছে নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করতে। এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ৫ আগস্টের আগে থেকেই। অতি দ্রুতই বাসগুলোকে সরানো হবে, নাহলে নতুন বাস নিয়ে আসলেও রাখার জায়গা হবে না। নিলামের প্রক্রিয়া অফিসিয়ালি শেষ পর্যায়ে আছে।
কামরুল বলেন, যে বাসগুলো মানসম্পন্ন এবং কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ন অর্থাৎ চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সেগুলো বিআরটিএর অনুমতিক্রমে চালিয়ে যাওয়া হবে। এটা নিয়ে মিটিংও হয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। যেগুলো একেরারেই চালানোর উপযোগী না সেগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মোট ৬ টা গাড়ি নিলামে বিক্রি হবে। মেডিকেল সেন্টারের পরিত্যক্ত অ্যাম্বুলেন্সটিও পরিবহন দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে নিলামের জন্য। যদিও শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, নিলামের প্রক্রিয়া কি আদৌ শেষ হবে?
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বাস ও অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন অফিস এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ এস্টেট অফিস করে থাকে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাবো তারা যেন এ জায়গা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করে। পরিবহন ম্যানেজারকে জানানো হবে বাসগুলোকে সরিয়ে ঠিকঠাক জায়গায় রাখার জন্য।
মন্তব্য করুন