

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। উচ্চ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার দুর্নীতি বিষয় নিয়ে পুনরায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. হান্নান হোসেনকে এ শোকজ করা হয়।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক নোটিশ হতে এ তথ্য জানা যায়।
এতে শোকজের বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার লিখিত জবাব আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নোটিশে বলা হয়, যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফট ক্রয় সংক্রান্ত টেন্ডার নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংবলিত একটি পোস্টার ঝুলতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে পোস্টারটি মো. হান্নান হোসেন স্থাপন করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, উক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তদন্ত সম্পন্ন করে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। যার প্রেক্ষিতে আদালত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেন। আদালতের মাধ্যমে মীমাংসিত ও খারিজকৃত বিষয়ে পুনরায় মিথ্যা তথ্য প্রচার করা একদিকে যেমন আদালত অবমাননার শামিল, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস।
মো. হান্নান হোসেনের এ কর্মকাণ্ডে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনের ১১ এবং ১৫ (ক) নং ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আদালত অবমাননা করিনি। আদালতকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। আমি কোথাও বলিনি আদালতের রায় আমি মানি না। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছি ব্যানারের মাধ্যমে, আপনারা দেখলে বুঝতে পারবেন। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন আমাকে বহিষ্কার করতে পারলে অবাধে দুর্নীতি, নিয়োগবাণিজ্য করার সুযোগ পাবে, সেজন্যই এ নোটিশ।
নোটিশে ভিসি মিথ্যা উল্লেখ করেছে। আমি ব্যানার ঝুলিয়ে ভিসিকে জানিয়েছি খুলে ফেলার পর। দুর্নীতিতে বাধা দেওয়া, আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছে বলে তার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার লেখালেখি বন্ধ করা, মুক্ত চিন্তা করার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে বলে আমি মনে করি। সাংবাদিকরা এর আগে ও এইটা নিয়ে নিউজ করেছে, তাহলে তার জন্য কি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না?
১৫ কিলোওয়াটের মোটর দেওয়ার কথা বলে ১১ দশমিক ৮ কিলোওয়াটের মোটর দিয়েছে। ১১ কিলোওয়াটের মোটর দেওয়ার কথা বলে ৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াটের মোটর দিয়েছে। তা হলে আপনারাই বলুন?
মন্তব্য করুন