চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ
আলোচিত রুবেল হত্যা মামলা

১৯ বছর পর রায়, ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

এরশাদুল হাবিব রুবেল। ছবি : কালবেলা
এরশাদুল হাবিব রুবেল। ছবি : কালবেলা

২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর। রমজান মাস। ইফতারের পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের রাস্তা। লোকজনের যাতায়াত তখনো কমেনি। সেই রাস্তার ওপরই রিকশা থেকে নামিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্র ও কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এরশাদুল হাবিব রুবেলকে।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আলোচিত হত্যকাণ্ডের এই মামলার রায় হয়েছে বুধবার (৭ জানুয়ারি)। চট্টগ্রামের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন রায়ে চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। খালাস পেয়েছেন চারজন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ, আবু এরশাদ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন সোহেল। তাদের মধ্যে জাহেদুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অন্যদিকে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন তৌহিদুল ইসলাম আরাফাত, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সৈয়দ ও আজাহারুল ইসলাম ছোটন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বলেন, নিহত এরশাদুল হাবিব রুবেলের মা ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর কুতুবদিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

মামলার কার্যক্রম শেষ হতে দীর্ঘ বছর লাগার কারণ হিসেবে পিপি আশরাফ চৌধুরী বলেন, ‘বাদীপক্ষের সাক্ষীদের বিগত সরকারের আমলে আদালতে উঠতে দেওয়া হয়নি।’

ভাই হত্যার মামলা লড়তেই দুই ভাই-বোন আইনজীবী: ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম ও অ্যাডভোকেট পাইরিন আক্তার ভাই-বোন। দুজনই উচ্চ আদালতের আইনজীবী। বড় ভাই রুবেল যখন খুন হন, তখন হানিফ দশম শ্রেণিতে ও পাইরিন এইচএসসিতে পড়ছিলেন। ভাইয়ের খুনিদের সঙ্গে আইনি লড়াই করতে দুজনেই হয়েছেন আইনজীবী। এই সময়ের মধ্যেই মারা যান তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও মামলার বাদী মা। ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর মারা গেছেন তাদের মা। ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি মামলার বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন কাশেম।

মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে ভয়ভীতি দেখানোর নেপথ্যে ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী—অভিযোগ হানিফ ও পাইরিনের। তারা জানান, ফরিদের পৃষ্ঠপোষকতায় রুবেল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পদও পেয়েছিলেন। ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিয়েছিলেন সাক্ষ্য না দিতে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদে আমির হামজা / ‘৩০টি নোটিশ দিয়েছি, কোনটার ওপর বলব জানি না’

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪৫ নেতাকর্মী আটক

গাজীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারা গেছেন

ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে বোর্ড পরিচালক হলেন যারা

গান শোনাতে ঢাকা আসছেন অনুপম রায়

সংসদে সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা / ‘হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে’

ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম

প্রেম ভাঙেনি, বরং বিয়ের পথে সজল আলি ও হামজা সোহেল

শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধের অভিযোগ

১০

১৯ মে থেকে ৭ জুন : রামিসার জন্য বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়েছে

১১

১০০ দিনের যুদ্ধ : টিকে থাকাই কি ইরানের বিজয়?

১২

পোপ লিওর উন্মুক্ত প্রার্থনায় মাদ্রিদের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল

১৩

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চায় নেজামে ইসলাম

১৪

এক বছরেই উধাও সাড়ে ৪ হাজার ডাস্টবিন

১৫

‘মিমিকে শাস্তি তাকে পেতেই হবে, তার শেষ দেখেই ছাড়ব’

১৬

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

১৭

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হলেন তামিম

১৮

বিএমডিএর ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

১৯

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তুরুপের তাস হতে পারেন এন্দ্রিক

২০
X