কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:০৯ পিএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বেইলি রোডে আগুনে মৃতের সংখ্যা বাড়ার কারণ জানালেন চিকিৎসক

ডা. তানভীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
ডা. তানভীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতদের বেশিরভাগই এক্সটার্নাল বার্ন কম ছিল। এ অবস্থায় কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় আহত ও মৃতদের ইন্টার্নাল বার্ন হয়েছে বলে ধারণা করছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানভীর আহমেদ।

শুক্রবার (১ মার্চ) শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগীদের শারীরিক অবস্থা বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, আমাদের এখানে ১০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে একজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রতে (আইসিইউ) ভর্তি। বাকিরা পোস্ট অপারেটিভ সেন্টারে রয়েছে। তাদের এক্সটার্নাল বার্ন মারাত্মক নয়। তবে সকলের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে এবং ইন্টার্নাল বার্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সবার অক্সিজেন সেচুরেশন ভালো রয়েছে। তবে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পার না হলে বোঝা যাবে না। তারা প্রত্যেকে কার্বন মনোক্সাইড ইনফেল করেছেন। এটি মারাত্মক বিষাক্ত। এটি ইন্টার্নাল অর্গানগুলোকে নষ্ট করে দেয়। অক্সিজেন গ্রহণে বাধা প্রদান করে। ফলে যতক্ষণ না এই গ্যাস বের হচ্ছে রোগীরা শঙ্কামুক্ত নয়। যে কারণে আমরা স্পটে যাদের মৃত পেয়েছি তাদের এক্সটার্নাল বার্ন খুব বেশি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের শরীর থেকে এটি দ্রুত ক্লেয়ার হয়। তবে কারও যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগ থাকে তাহলে সে সহজে কার্বন মনোক্সাইড মুক্ত হতে পারনে না। এর সেকেন্ডারি ইনফেকশনের জন্য যদি অর্গান ফেইলিউর ঘটে তবে তার মেডিকেল প্রবলেম ডেভেলপ ঘটবে। তখন তাদের আমরা মেডিসিন বিভাগে রেফার করবো। আমরা সর্বোচ্চ ভালোটা আশা করছি। তবে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

কার্বন মনোক্সাইডের সম্ভাব্য উৎসের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের যে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা হয় তাতে হাইড্রো কার্বন থাকে। এ ছাড়া মিথেন গ্যাস পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড ও ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়। হাইড্রো কার্বন থেকে ডাই ও মনোঅক্সাইড তৈরি হয়। এটি মারাত্মক বিষাক্ত, এমনকি তাৎক্ষণাত মৃত্যুও হতে পারে। আমরা ধারণা করছি কার্বন মনোক্সাইডের কারণেই এত অধিক মৃত্যু হয়েছে।

মৃত ও আমাদের এখানে ভর্তিদের অবস্থা দেখে এমন মনে হয়েছে। আমাদের এখানে সবাই অল্প বার্ন নিয়ে ভর্তি। এ ছাড়া বাকিরা যারা ছাড়া পেয়েছে তাদের হাতে বা অন্যান্য বহিঃঅঙ্গে সামান্য বার্ন ছিল বলেও জানান তিনি।

বোর্ড গঠন বিষয়ে ডা. তানভীর বলেন, রাতেই আমাদের বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মেডিকেল বোর্ডের সবাই রোগীদের দেখে গেছেন। আমাদের সকল সেটআপ রয়েছে। প্রতিদিন আমরা গড়ে ১২০ জন রোগী ডিল করে থাকি।

বার্নের অনেক ক্রাইটেরিয়া রয়েছে জানিয়ে এই সহযোগী অধ্যাপক বলেন, আমরা পানি ও আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে অভ্যস্ত ছিলাম। এখন আমাদের দেশে বৈদ্যুতিক বার্ন ও এই ধরনের বিষক্রিয়ার বার্ন বাড়ছে। এ ধরনের বার্ন শতাংশ দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। একসময় এসিড বার্ন ছিল। অল্প এসিড ছুড়ে মারত, কিন্তু বিকৃতি হতো ভয়ানক পর্যায়ের। তেমনই বৈদ্যুতিক বার্নে বাইরে অল্প পুড়ে অথচ হার্ট, কিডনি ও লিভার পুড়ে যায়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

বিশ্বকাপের আগে টাইগার কোচের ‘বিশেষ’ পরিকল্পনা

কেন রাতে ধান কাটছেন কৃষকরা

উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হবে দেশে গণতন্ত্র আছে : সিইসি

এক জেলায় পাঁচ সাগর

ম্যানসিটি-আর্সেনালের দিকে তাকিয়ে ক্লপ

ভোলায় ইসতিসকার নামাজ আদায়

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ

যে কারণে চাকরি ছাড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫৭ কর্মকর্তা

শনিবার শুরু গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা, জবিতে পরীক্ষা দেবেন অর্ধলক্ষ শিক্ষার্থী

১০

হিটস্ট্রোকে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

১১

তীব্র গরমে ঢাকার বাতাসের কী খবর

১২

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে চায় আর্জেন্টিনা

১৩

হজ পারমিট দেওয়া শুরু করেছে সৌদি আরব

১৪

নওগাঁয় বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ আদায়

১৫

হঠাৎ বার্সা কোচের ‘ইউটার্ন’

১৬

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের ৩ বিচারপতি

১৭

তীব্র গরমের মধ্যেই শিলাবৃষ্টির আভাস

১৮

যুদ্ধ বন্ধ করতে বিশ্বনেতাদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৯

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ

২০
*/ ?>
X