শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

খাবার টেবিলের গল্প

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

শহরের ব্যস্ত জীবনে একই বাড়িতে থেকেও পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসা যেন একটা দুর্লভ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন ছুটোছুটির পর সবাই ঘরে ফেরে সন্ধ্যায়। দিনের নানা ব্যস্ততার ফাঁকে একমাত্র যেটা প্রায় প্রতিদিনই একসঙ্গে কাটে, সেটা হলো রাতের খাবারের সময়।

খাবার টেবিলকে ঘিরেই জমে ওঠে দিনের গল্প, হাসি-মজা, খুনসুটি আর ছোট ছোট মধুর মুহূর্ত। তাই এই জায়গাটা শুধু খাওয়ার জন্য নয়; বরং সম্পর্ক গড়ে তোলার জায়গাও বটে।

একটা খাবার টেবিল কেমন হবে, সেটা নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর। নবদম্পতির ঘরে হয়তো ছোট আর আধুনিক নকশার টেবিল মানায়, আবার পরিবারে যদি বয়স্ক কেউ থাকেন, তাহলে চেয়ার আর টেবিল হতে হবে আরামদায়ক।

টেবিল ঘরের আয়তনের সঙ্গে মানানসই হওয়াটাও জরুরি। ছোট ঘরে বিশাল টেবিল যেমন বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, তেমনি বড় ঘরে অতিরিক্ত ছোট টেবিলও অস্বস্তিকর হতে পারে।

ঘরের ধরন অনুযায়ী টেবিলের গঠনও বদলে যায়। কেউ পছন্দ করেন গোল টেবিল, কেউবা আয়তাকার বা বর্গাকৃতির। সদস্যসংখ্যার ওপর নির্ভর করে টেবিলের সাইজ নির্ধারিত হয়। ছোট পরিবার হলে চার সিটের টেবিলই যথেষ্ট, কিন্তু সদস্য বেশি হলে প্রয়োজন পড়ে বড় টেবিলের। আবার যারা বন্ধু-আত্মীয়দের বেশি ডেকে খাওয়াতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য টেবিল হওয়া উচিত প্রশস্ত ও দীর্ঘ।

সবসময় চেয়ারই যে একমাত্র বসার ব্যবস্থা, তা নয়। জায়গা বাঁচাতে কেউ কেউ টেবিলের পাশে রাখেন বেঞ্চ। এতে একই সারিতে একসঙ্গে কয়েকজন বসতে পারেন। আবার জায়গা যদি খুবই কম হয়, তাহলে ফোল্ডিং ডাইনিং টেবিল হতে পারে দারুণ সমাধান। দরকারের সময় খোলা যায়, আবার খাওয়া শেষ হলে ভাঁজ করে জায়গা ফাঁকা রাখা যায়।

নতুন সংসারে আলাদা করে খাবার টেবিল কেনার সামর্থ্য বা জায়গা না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই। এখন এমন টেবিল পাওয়া যায়, যেটা একসঙ্গে কাজের টেবিল আর খাওয়ার টেবিল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। কেউ কেউ নিচে স্টোরেজও যোগ করছেন—যেখানে রাখা যায় টিস্যু, প্লেট বা ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস।

আর যদি আপনি একটু ভিন্ন কিছু চান, তাহলে জাপানি ধাঁচে নিচু টেবিল বানিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। কয়েকটি মজবুত পাত্র বা কাঠের টুকরোর ওপর একটি বোর্ড বা গ্লাস বসিয়ে তৈরি হয়ে যায় অনন্য এক খাবার টেবিল। নিচে পাতা থাকে শতরঞ্জি বা ম্যাট, আর বসার জন্য বড় বালিশ।

এমন পরিবেশে খাবারের পাশাপাশি সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাটাও হয়ে ওঠে অন্যরকম। তবে পরিবারের কেউ যদি বয়সে বড় হন, তাদের জন্য নিচু টেবিলের বদলে উঁচু, আরামদায়ক টেবিলই বেছে নেওয়া ভালো।

খাবার টেবিলের গল্প শুধু আসবাবের কথা নয়—এটা একটি পরিবারের আবেগ, সম্পর্ক আর সময় ভাগাভাগির জায়গা। তাই সেটিকে ঘিরে যত্ন, ভালোবাসা আর একটু ভাবনা থাকলেই এই ছোট্ট কোণ হয়ে উঠতে পারে ঘরের সবচেয়ে আপন জায়গা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

১০

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

১১

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

১২

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

১৩

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

১৪

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

১৫

সান মারিনো ম্যাচের একাদশে নেই শমিত

১৬

ইউএনওর অভিযানে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

১৭

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

১৮

ভারতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার ক্লার্ক

১৯

আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুখবর, দলে যোগ দিলেন মেসি

২০
X