কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০৮:১০ এএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০৪:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ নিয়ে একদিনে দুই আন্তর্জাতিক সংস্থার কঠোর বিবৃতি

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় বাংলাদেশ। বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনে প্রশাসনের বাধা, সরকারের পাল্টা কর্মসূচি ও হামলা নিয়ে একের পর এক বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশের পুলিশকে উদ্দেশ করে কড়া বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অপরদিকে সব রাজনৈতিক দল, তার সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা বলেছেন, পুলিশ হামলা করার আগ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি ওইদিন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে অবস্থান নেয়। তাদের এই বিক্ষোভ পুলিশের সঙ্গে সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অন্তর্বর্তীকালীন দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক স্মৃতি সিংহ বলেন, যেসব ভিডিও ও ছবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যাচাই করেছে, সেগুলো বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আলোকপাত করে। আমরা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কঠোরভাবে আইন মেনে চলে এবং নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। মানুষের আরও শারীরিক ক্ষতি এড়াতে এবং সংকট যেন আরও না বাড়ে, সে কারণেই এটা করা দরকার।

আরও পড়ুন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে যা বললেন পিটার হাস

তিনি বলেন, পুলিশের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশের পুলিশ হাসপাতালের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে, যার মধ্য দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করার বিষয়টি প্রকাশ হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষকেরা এবং ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাব বাংলাদেশের ওই বিক্ষোভের ৫৬টি ছবি ও ১৮টি ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি ঘটনার নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারা।

অপরদিকে একই দিন শুক্রবার (৪ আগস্ট) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে একটি প্রেস নোট প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিরোধীদলগুলোর বেশ কয়েকটি সমাবেশে সহিংস হামলা দেখা গেছে। সমাবেশগুলোতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে। পুলিশের পাশাপাশি কিছু সাধারণ পোশাকধারীদেরও বিক্ষোভকারীদের মারতে হাতুড়ি, লাঠি, ব্যাট এবং লোহার রড ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এসব সংঘর্ষে অনেক বিরোধীদলীয় সমর্থক ও কিছু পুলিশ আহত হয়েছেন। বিরোধীদলের সিনিয়র নেতাদের প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করা হয়েছে। আবার আইন-প্রয়োগকারী সংগঠনের সদস্য পরিচয়ে তাদের বাড়িতে অভিযানও চালানো হয়েছে। এসব সমাবেশের আগে ও সমাবেশের সময় বিরোধীদলের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন : এবার বাংলাদেশ নিয়ে কড়া বিবৃতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মানবাধিকারের প্রতি তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে এবং জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে এসব অধিকার চর্চার প্রচেষ্টাকে দমিয়ে দিতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন শুধু যেখানে অত্যন্ত প্রয়োজন সেখানেই বল প্রয়োগ করেন। আর সেক্ষেত্রেও এই বল প্রয়োগ হতে হবে বৈধ, সংযমের সঙ্গে এবং সংশ্লিষ্ট নীতি অনুসারে।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই যেন আগামী বছরের নির্বাচনের আগে যারা রাজনৈতিক প্রচার শুরু করেছেন তাদের সবার জন্য একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। তাদের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে রাজনৈতিক বহুত্ব এবং ভিন্ন মতামত প্রকাশকে সম্মান জানাতে হবে।

এর আগে সোমবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশের আন্দোলন-গ্রেপ্তার নিয়ে কথা বলেন সভা-সমাবেশের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ক্লেমো ভউল।

এক টুইটার (এক্স) পোস্টে তিনি বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি।’

টুইটে হ্যাশট্যাগ বাংলাদেশ লিখে ক্লেমো ভউল লেখেন, ‘চলমান বিক্ষোভ সমাবেশে সংঘাত ও গ্রেপ্তারের মাত্রা বাড়ছে। এ অবস্থায় সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার টুইটে আরও বলেন, ‘দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোকে বলব, তারা যেন সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে এবং বাড়তি বাহিনী মোতায়েন না করে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য বিরোধীমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি।’

বাংলাদেশের পতাকার একটি চিত্রজুড়ে দিয়ে টুইট করেন জাতিসংঘের এই বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে মাজআসের গোলটেবিল আলোচনা সভা

একই গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশের সঙ্গে কারা?

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

যে দুর্গম এলাকায় র‌্যাবের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা

ফের মা হচ্ছেন বুবলী? গুঞ্জনের জবাবে নায়িকার ‘রহস্য’

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, এনসিপি নেতাসহ আটক ৩

নির্বাচন সুষ্ঠু করার প্রচেষ্টা চলছে : শিল্প উপদেষ্টা

বিমানবন্দর ও গুলশান-বনানীতে হর্ন বাজালেই কঠোর ব্যবস্থা ডিএমপির

চট্টগ্রামকে শিক্ষাবান্ধব নগরী গড়তে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি অব্যাহত থাকবে : ডা. শাহাদাত

শাবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

১০

কারাগারে গ্যাং সদস্যদের সহিংসতা, জরুরি অবস্থা জারি

১১

চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী অফিস পুড়িয়ে দেওয়ায় ডা. তাহেরের নিন্দা ও প্রতিবাদ 

১২

ফেসবুকে ভাইরাল ছবি নিয়ে ক্ষুব্ধ হাসান মাসুদ

১৩

স্বেচ্ছাসেবক দলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, একাধিক নেতা পুনর্বহাল

১৪

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত আমিরের মৃত্যুতে ডা. শফিকুর রহমানের শোক

১৫

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থী নিহত

১৬

বিএনপিতে যোগ দিলেন এনসিপির ৫০ নেতাকর্মী

১৭

জাবির বরখাস্ত হওয়া নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে

১৮

পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকরের তারিখ চূড়ান্ত

১৯

সানওয়ে-জেজি হেলথকেয়ারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

২০
X