কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশের কিছু অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা

দেশের কিছু অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের কিছু অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। পানি সংকটাপন্ন এলাকায় সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গত ২৮ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী পানি সংকটাপন্ন এলাকার সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে জলাধার বা পানি ধারক স্তরের সুরক্ষার জন্য যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে নিদিষ্ট সময়ের জন্য কিছু এলাকা পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশের উত্তর পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ২৫টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়ন অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন, ৪০টি ইউনিয়ন উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এবং ৬৬টি ইউনিয়ন মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার পটিয়া পৌরসভার ৫টি মৌজা অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এবং ৩টি মৌজা উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৭টি মৌজা অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন, ৯টি ইউনিয়নের ২৭টি মৌজা উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং ৮টি ইউনিয়নের ৩০টি মৌজা মধ্যম পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পানি সংকটাপন্ন এলাকায় বেশকিছু নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

১। পানি সংকটাপন্ন এলাকায় বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩ ও ১৮ অনুযায়ী পানি সম্পদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক ব্যবহার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

২। খাবার পানি ব্যতীত অন্যকোনো কারণে নতুন করে নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ থাকবে এবং খাবার পানি সরবরাহ ছাড়া অন্যকোনো কারণে বিদ্যমান নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ থাকবে।

৩। ভূগর্ভস্থ পানি নির্ভর শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না।

৪। খাল, বিল, পুকুর, নদী তথা কোনো জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না এবং জলাশয়গুলো জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

৫। জনগণের ব্যবহারযোগ্য খাস জলাশয় ও জলমহালগুলো ইজারা দেওয়া নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৬। জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত করা যাবে না।

৭। কোনো জলাধারের সমগ্র পানি আহরণ করে নিঃশেষ করা যাবে না।

৮। ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট/পরিবর্তন করতে পারে এমন কাজ করা যাবে না।

৯। নদী-জলাশয়-লেক-জলাভূমিতে বসতবাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তরল ও কঠিন অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন ও দূষণ করা যাবে না।

১০। অধিক পানি নির্ভর ফসল উৎপাদন নিরুৎসাহিত/ সীমিত করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে পানি সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বৃষ্টি করতে হবে।

১১। জনসাধারণের সুপেয় পানি ও গৃহস্থালি কাজে পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য নির্দেশনা প্রদান করা যাবে।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব নির্দেশনা প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা লঙ্ঘন বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৯ এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপিতে যোগ দিলেন এনসিপির শতাধিক নেতাকর্মী

৫০০ গজ ধাওয়া করে মিয়ানমারের নাগরিককে ধরল বিজিবি

ভারতকে রুখে দিয়ে বাংলাদেশের চমক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আরও ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

কেএফসির মেন্যুতে নতুন চমক ‘বক্স মাস্টার’

রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনেই বিএনপি জিতবে : মিনু

আবারও আসছে শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে যত দিন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত

১১ দলের স্থগিত সংবাদ সম্মেলন নিয়ে যা বলছে ইসলামী আন্দোলন

লিবিয়ায় বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ

১০

চবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

১১

বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা সম্পন্ন

১২

নরসিংদীতে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৭

১৩

তিন মুসলিম দেশের মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার ‍হুঁশিয়ারি ইরানের

১৪

হাইকোর্টের নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন এবি পার্টির সেই প্রার্থী

১৫

মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক

১৬

হঠাৎ কথা বলতে পারছেন না শবনম ফারিয়া

১৭

গাজায় আইএসএফে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবে আলোচনা চলছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৮

স্পিরিট পানে আরও দুজনের মৃত্যু

১৯

ফারহান-কেয়া জুটিতে আসছে ‘ইউ অ্যান্ড মি ফরএভার’

২০
X