সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ান
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়

বিজয়ের প্রতীকী ছবি।
বিজয়ের প্রতীকী ছবি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের বিজয়, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশ এসব কথা নিজের মনে মনে বলি, মুখে উচ্চারণ করি রক্তে ঢেউ খেলে যায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন পত্রপত্রিকার খবর, টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্যচিত্র, কবি লেখকদের গল্প, কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটকে উচ্চারিত মুক্তিযুদ্ধ, তাজা তাজা প্রাণের আত্মত্যাগ, সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করা বীর বাঙালি, বাংলাদেশি, যুদ্ধের সহযোগীদের কথামালা, তাদের স্মৃতিচারণা জেনে ও বুঝে শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়, জাগ্রত হয় দেশপ্রেম।

তখন নিজের রক্ত বলে ওঠে একটি নাম বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এনে দিয়েছে আমাদের সাহসী পূর্বপুরুষরা। এ আমাদের পরিচয়, আমাদের আদর্শ, আমাদের ঠিকানা। এই কথাগুলো স্মরণ করছি ৫৪তম বিজয় দিবসের মুহূর্তে, এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে যার বয়স দাঁড়িয়েছে ২৬ বছরে।

আমাদের ইতিহাস বলে, আমাদের মুক্তিকামী জনগণকে নির্বিচারে হত্যা করে, জুলুম করে পরাজিত করতে পারেনি পাকিস্তানি বাহিনী। তারা আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে মেধাশূন্য জাতি করার অপচেষ্টা করেছে। তাদের প্রতি ও তাদের সহযোগীদের প্রতি আমাদের ঘৃণা জানাই।

আমরা এই দিনে লাখ লাখ নাম না জানা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাই, তাদের স্মরণ করি ও সালাম জানাই। যারা প্রস্তুতি ছাড়াই দখলদার পাকিস্তানি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এ দেশেকে স্বাধীন করতে শহীদ হয়েছেন, সর্বহারা হয়েছেন, আহত হয়েছেন, সম্ভ্রম হারিয়েছেন৷ তাই আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি বীরগাঁথা ইতিহাস, ঐতিহাসিক বিজয়, মা ও মাটির জন্য আবেগ ও অনুভূতি।

আমাদের প্রশ্ন জাগে, বিজয়ের ৫৪ বছর পর বাংলাদেশের গণমানুষ কেমন আছে? রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে মানুষ নিজেকে কতটা মুক্ত ভাবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার নিয়ে এদেশের মানুষ কেমন আছে। এই প্রশ্নগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এই ভূখণ্ডে হাজার হাজার বছর ধরেই প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে। এর কারণ, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত। আমরা চেয়েছি সাম্য, মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দেওয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, শোষণ-নিপীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, মায়ের ভাষায় কথা বলতে বাধা দেওয়া বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ মেনে নেয়নি। বীর যোদ্ধারা হাসিমুখে প্রাণ দিয়েছেন বৈষম্যকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে, একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়তে। তাদের দেখা স্বপ্ন আমাদের সামনে সর্বদা উজ্জ্বল ও আলোকিত হয়েছে তাদের জীবন উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে।

আমাদের মুক্তিকামী বীর জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যেখানে আমাদের যেভাবে এগিয়ে আসা উচিত ছিল, সেই তুলনায় আমরা পিছিয়ে। আমাদের সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক সমস্যা আমাদের পিছিয়ে রাখে। তৈরি হয় দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। তাই আমরা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়গুলোতে বিপ্লব দেখেছি, গণঅভ্যুত্থান দেখেছি আর ঝরেছে অগণিত মানুষের প্রাণ। যদি সম্পূর্ণরূপে আমরা মুক্তিযুদ্ধকে লালন করতে পারতাম, বীর শহীদদের স্বপ্নকে ধারণ করতে পারতাম, আমরা আরও এগিয়ে যেতাম।

কবি শামসুর রহমান তার ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় লিখেছিলেন, আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়? এই প্রশ্ন যেন আর ফুরাচ্ছে না। তিনি ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘স্বাধীনতা নামক শব্দটি লিখে দিতে চাই বিশাল অক্ষরে’। যা আমরা আজও চাই।

আমাদের আশা দেখায়, আমাদের লাল-সবুজের পতাকা, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধকে লালন করা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দেখে। যাদের হাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। যে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে লাখ লাখ মানুষ ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখেছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাগ্রত থাকুক আমাদের দেশপ্রেম, সমুন্নত থাকুক মানবাধিকার। এই দেশ হোক স্বনির্ভর। আজকের এই মহান দিবসে শ্রদ্ধা জানাই সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই বাংলাদেশকে।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষাখাতের বাজেটে আসছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী

রাতের মধ্যে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

লেবাননে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত

অবশেষে বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী

বিশ্বকাপের আগেই পুরস্কার জিতলেন মেসি

বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহকদের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বর্ধিত দাম প্রত্যাহার

কলাটি কত নম্বরের সুতা দিয়ে বাঁধা হয়েছে?

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব

ট্রাক-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২

ঢাকায় ২ দিনব্যাপী সার্সোর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভা সম্পন্ন

১০

মিথিলার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মাহি

১১

জামিনে মুক্তি পেয়েও ফের জেলগেটে আটক আওয়ামী লীগ নেতা

১২

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগেই গুরুকে হারালেন নাহিদ-মোস্তাফিজরা

১৩

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে অর্ধেক ভিজিটের ঘোষণা চিকিৎসকের

১৪

সরকার আওয়ামী লীগের লাশকেও ভয় পায় : হাছান মাহমুদ

১৫

বাজেট : সংখ্যা নয়, বদলাতে হবে অর্থনৈতিক চিন্তার কাঠামো

১৬

ছবিতে প্রথম দেখায় কী দেখলেন, উত্তরই বলে দেবে আপনার ব্যক্তিত্ব

১৭

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

১৮

ট্রাম্পকে কড়া বার্তা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের, ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাস

১৯

বাংলাদেশ সফর নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল আইসিসি

২০
X