ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, নুরুল হক নুরের মতো ফ্যাসিবাদবিরোধী পরিচিত নেতাকে যে নৃশংসতায় হামলা করা হয়েছে তাতে দেশ কে বা কারা চালাচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
গণঅধিকারের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপরে বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে শনিবার (৩০ আগস্ট) বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ইউনুস আহমদ বলেন, পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কারণে পুলিশ বাহিনী অনেক আগে থেকেই কলুষিত। ২৯ আগস্টের ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতির গৌরব সেনাবাহিনীকেও কলংকিত করা হয়েছে। এর পেছনে কারা ক্রীড়নকের কাজ করছে তা খুঁজে বের করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের অগ্রপথিক নুরের ওপরে এভাবে হামলা কল্পনাও করা যায় না। এর পেছনে ইন্ধনদাতা কারা তা জাতি জানতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় পার্টির মতো নগ্ন দালালদের ব্যবহার করে কেউ সুযোগ নিতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।
সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতেয়াজ আলম বলেন, নুরসহ আমাদের প্রচেষ্টায় গঠিত এ সরকারের পুলিশ ও সেনাসদস্যরা নুরের ওপরে যে স্টাইলে হামলা করেছে তাতে বোঝা যায় এটা কোনো আকস্মিক হামলা না বরং পরিকল্পিত হামলা। জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তার ওপরে এভাবে হামলা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ফ্যাসিবাদ এখনো শেষ হয়নি। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, জাপাকে নিষিদ্ধ করতে হবে। জাপার কোনো সদস্যকে নির্বাচন করতে দেওয়া যাবে না।
তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা চাঁদাবাজদের ধরতে পারেন না কিন্তু একজন জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে পেটাতে পারেন। এটা হতে দেওয়া হবে না।
সমাবেশের সভাপতি, ঢাকা উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, গতকাল নুর ভাইয়ের ওপরে হামলা আমাদের ২০০৬ সালের লগি-বৈঠা সন্ত্রাসের কথা স্মরণ করিয়েছে। তার ওপরে হামলা রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত। তিনি সতর্ক করে বলেন, মনে রাখবেন জুলাই যোদ্ধারা এখনো জাগ্রত আছে। আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিবাদের দোসরদের ফিরিয়ে আনার যে কোনো চেষ্টা জুলাইয়ের জাগ্রত জনতা রুখে দেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টিকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে।
বাদ আসর অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইউমসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড় হয়ে বিজয় নগরে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন