কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রতিহিংসার রাজনীতি নয় খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই হাঁটবো : রবিন

দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন তানভীর আহমেদ রবিন। ছবি : কালবেলা
দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন তানভীর আহমেদ রবিন। ছবি : কালবেলা

ঢাকা–৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথে হাঁটবো। মানুষের উপকার করতে না পারলে অন্তত ক্ষতি করবো না। শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ গড়তেই আমি রাজনীতি করি।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন নন তিনি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। সীমাহীন নির্যাতন, কারাবাস ও ব্যক্তিগত ত্যাগের পরও তিনি কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যাননি বলেই আজও তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত।

সোমবার (0৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আলমবাগে শ্যামপুর থানার ৫৪নং ওয়ার্ড বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রবিন বলেন, আমার জীবনে দুইবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রথমটি ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়, দ্বিতীয়টি ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে। শৈশব ও কৈশোরের অনেক স্মৃতি আজ হারিয়ে গেছে, কিন্তু দেশনেত্রীর স্নেহ, ভালোবাসা ও পরামর্শ আজও আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।

শ্যামপুর–ডেমরা–যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় বেগম খালেদা জিয়া বহুবার শ্যামপুর এলাকার আমাদের বাড়িতে এসেছেন। সে সময় থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তার এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে এলাকার সালাউদ্দিন আহমেদ বিএনপির নেতৃত্বে আসেন এবং বেগম জিয়ার হাত ধরেই এ এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন এই এলাকার সন্তান সালাউদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকাবাসীর যেকোনো দাবি নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে গেলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতেন। সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হয়ে যেত।

উন্নয়নের সূচনা বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সময় শ্যামপুর, কদমতলী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইল ছিল অবহেলিত জনপদ। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়া তেমন কোনো রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি হাসপাতাল ছিল না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ ও দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়া নিজে ডেমরা ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাতুয়াইলে মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সে সময় তিনি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সরাসরি নির্দেশ দেন, যার সুফল আজও এ অঞ্চলের মা-বোনেরা পাচ্ছেন। এছাড়া জিয়া সরণি খাল খনন ও খালের পাশের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই শুরু হয়। আজ যে এলাকায় ঘনবসতি, ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল সেই সময়েই।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল যেখানে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জেলে রাখা হয়, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়, গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

তিনি স্মরণ করেন, গুলশান কার্যালয়ে বন্দী অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে ফ্যাসিস্ট সরকারের অমানবিক আচরণ। তবুও বেগম খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি করেননি।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কখনো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটূক্তি করেননি। বরং সর্বশেষ বার্তায় তিনি দেশ পুনর্গঠনের জন্য ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, সহনশীলতা ও শান্তির রাজনীতির কথা বলেছেন।

৫৪নং ওয়া বিএনপির সভাপতি জামান আহমেদ পিন্টুর সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য তোফায়েল আহমেদ, বিএনপি শ্যামপুর থানার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঢালি, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সেলিম, শ্যামপুর থানা মহিলা দলের সভানেত্রী নাসরিন সুলতানা, কদমতলী থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল গাজী, সাবেক কাউন্সিল হাজী মো. মোজাম্মেলসহ প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোয়ালন্দে ওয়ে ব্রিজ স্কেলের গার্ডার ভেঙে বন্ধ ওজন কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ট্রাকচালকরা

নড়াইল জেলা ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র আহ্বায়ক জাকারিয়া, সদস্যসচিব সাগর

স্কুলে যাওয়ার পথে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ বুধবার

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী  

থাইল্যান্ডে আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলন শেষ, কর্মব্যস্ত সময় কাটালেন আইজিপি

১০

রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

১১

আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

১২

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

১৩

নতুন বাংলাদেশ গড়তে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হাসনাত আব্দুল্লাহ

১৪

‘রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে’

১৫

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারিতে যে শাস্তি পেতে পারেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা

১৬

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়তে চান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, দাবি ট্রাম্পের

১৭

হুতিদের হুমকির মুখে লোহিত সাগর থেকে ফিরে গেল ২ সৌদি জাহাজ

১৮

চুক্তি আগস্টে / এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

১৯

উন্নয়ন কোনো দলের নয়, জনগণের অধিকার: মান্নান

২০
X