কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৩, ০৩:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
অভিযোগ রিজভীর

সরকারের পতন ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা

সরকারের পতন ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, অবৈধ সরকার দেশকে ভয়ানক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজা দেয়ার মতো ঘৃণ্য চক্রান্ত জনগণ রুখে দেবে। এবার কোনো অপচেষ্টায় সরকারের পতনকে ঠেকানো যাবে না। এবার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবেই। জনগণ সবকিছু খেয়াল করছে। তারা এখন সব দিক থেকে প্রস্তুত। শেখ হাসিনার একক জবরদস্তি শাসনের আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিদায়ের বাঁশি বেজে উঠবে।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটা রাজনৈতিক দল যারা মানবিক পরিবেশের মূল থেকে উৎসারিত হয়নি। এ জন্য বহু মত ও পথকে তারা সহ্য করতে পারে না। ক্ষমতায় এসেই চিরদিন ক্ষমতায় থাকার উগ্র লালসা তাদের হিংস্র ও রক্তপিপাসু করে তোলে। ক্ষমতায় এসেই বারবার এই দৃষ্টান্ত তারা রেখেছে। ওরা বদ্ধ পানিতে লগি ঠেলে নৌকা বাইতে অভ্যস্ত। এরা সুস্থ সমাজ ও মুক্তচিন্তার খরস্রোতে প্রবহমান হওয়া বিশ্বাস করে না। তাই ক্ষমতা ক্ষুধার অস্থিরতায় ভিন্ন মত ও দলের অস্তিত্ব ধূলিসাৎ করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকে।

তিনি বলেন, অবৈধ আওয়ামী সরকার এক সর্বনাশা বিভীষিকা সঞ্চার করার জন্য নতুন অশুভ পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোকে দুর্বল করার জন্যই সরকারের ভেতরে চলছে নানামুখী অপতৎপরতা। স্বেচ্ছাতন্ত্র, উগ্রতা, একক কর্তৃত্ব ইত্যাদি দ্বারা গণতন্ত্রের নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধবিরোধী এমন একটি বিকৃত রাষ্ট্র চরিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা অপহরণ করা হয়েছে। এবারও জনগণকে বঞ্চিত করে একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য সরকার মনুষ্যত্বহীন ফন্দি এঁটে চলেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছি, সরকার ২০১৩/২০১৪ সালে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় সাজা দিতে জেলা ও মহানগরগুলোর বিচারকদের নির্দেশ প্রদান করেছে। আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, সাজা দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করা হবে আগামী দুই মাসের মধ্যেই। এ বিষয়ে বিচারকদের সরকারি সিদ্ধান্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলার পুলিশ সুপারদের। বিরোধী দল নির্মূলে সরকার হাতের মুঠোয় ধ্বংসের শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। জনগণকে পরাজিত করার জন্য পর্দার আড়ালে চলছে নানা শলাপরামর্শ ও গোপন বৈঠক।

রিজভী বলেন, ইতোমধ্যে সরকারি অশুভ নীলনকশার কিছু আলামত ফুটে উঠেছে। দলের সিনিয়র নেতাসহ সব স্তরের নেতাকর্মীদের বিচারের নামে আদালতে সাক্ষী হাজির করা হচ্ছে। এই সাক্ষীদের পুলিশের শেখানো বুলি বলার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। সাক্ষীরা পুলিশের হুমকির ভয়ে সাক্ষী দিতে আসেন। কিন্তু এরা এমনই গরিব মানুষ যে, বিএনপি নেতাকর্মীদের নামও শোনেননি এবং চেহারা পর্যন্ত দেখেননি। এমনকি অনেক পুলিশ সদস্যদেরও চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ভয় দেখিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে সাক্ষী দিতে নিয়ে আসা হয়। এদের অনেকেই আমাদের বলেছেন ‘আমরা যদি সাক্ষী না দেই, তাহলে চাকরি থাকবে না’।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যিনি নিপীড়ন ও জুলুমের পন্থা অবলম্বন করেছেন তিনি হলেন সরকারের আস্থাভাজন ডিসি প্রসিকিউশন আনিছুর রহমান। তিনি উদ্বুদ্ধ আওয়ামী দলীয় ক্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। কারান্তরীণ সাইফুল আলম নীরব, রফিকুল আলম মজনু, মোনায়েম মুন্না, এসএম জাহাঙ্গীর, ইউসুফ বিন জলিল, গোলাম মাওলা শাহিন ও আজিজুর রহমান মুসাব্বিরসহ অসংখ্য নেতা আজ ডিসি প্রসিকিউশনের অন্যায়, অন্যায্য হস্তক্ষেপের কারণে কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উল্লিখিত নেতাদের ব্যাকডেট দিয়ে পেন্ডিং মামলায় নাম দিয়ে আটকে রাখার মূল নায়কই হচ্ছেন ডিসি প্রসিকিউশন। এমনও শোনা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম শুনলেই ডিসি প্রসিকিউশন নাকি তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের প্রতি দপ্তরেই আওয়ামী গেস্টাপো বাহিনী মনুষ্যত্বহীন এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। বিরোধী দলবিদ্বেষী ডিসি আনিছুর রহমান বিএনপিকে নির্মূল করার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করছেন। এসব কর্মকর্তা ইতিহাস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে আগ্রহী নন। তারা দেশে দেশে ফ্যাসিবাদের পতনের পরিণাম থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেননি। এরা দুষ্কর্ম করেও পার পাচ্ছে বলেই নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন। তাদের আমি নুরেমবার্গ ট্রায়ালের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশে সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনী কর্তৃক হামলা এবং মামলার বিবরণ তুলে ধরেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, মো. মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খালেদা জিয়া কখনো জোর করে ক্ষমতায় থাকেননি : খায়রুল কবির

জামায়াতের প্রার্থীকে শোকজ

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে : সেলিমুজ্জামান

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, সন্দেহ রয়ে গেছে : মঞ্জু

ঢাবির ৪ শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য চার্জ গঠন

নবম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন নিয়ে যা জানাল কমিশন

ইউজিসি কর্মচারী ইউনিয়নের নতুন কমিটির অভিষেক

গ্যাস যেন সোনার হরিণ, এলপিজি সংকটে নাভিশ্বাস

খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বহ্নিশিখা : কবীর ভূঁইয়া

মুসাব্বির হত্যা নিয়ে মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

১০

ছাত্রলীগ পুনর্বাসিত হচ্ছে শিবিরের দ্বারা : ডা. আউয়াল

১১

আইসিসিকে পাঠানোর বিসিবির নতুন চিঠিতে যা আছে

১২

জবির ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার

১৩

মুদ্রা ছাপাতে প্রতি বছর ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা : গভর্নর

১৪

পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ কিনছে সৌদি আরব

১৫

চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড অগ্রগতি, রাজস্ব বেড়েছে ৭.৫৫ শতাংশ

১৬

রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না : রবিউল আলম

১৭

মঈন আলীর ঝলকে ঢাকাকে হারাল সিলেট

১৮

এবার পিএসএলেও দেখা যাবে হায়দরাবাদ দল

১৯

জামায়াতে কোনো রাজাকার ছিল না : মেজর আক্তারুজ্জামান

২০
X