কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চাকরির প্রত্যাশায় রাশিয়ায় গিয়ে ‘যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা’

ট্রেনে চড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছেন রুশ সেনারা। ছবি : সংগৃহীত
ট্রেনে চড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছেন রুশ সেনারা। ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ায় বেসামরিক কাজের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাকসুদুর রহমান নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, এক দালাল তাকে বাংলাদেশ ছেড়ে রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য রাজি করায়। সেখানে তাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মস্কো পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে দেখতে পান।

এপি তিন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছে। তারা তিনজনই রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছেন। তারা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় সেগুলো ছিল সামরিক চুক্তি। এরপর তাদের একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়; যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মাকসুদুর রহমান এ কাজের প্রতিবাদ করলে একটি অনুবাদ অ্যাপের সাহায্যে এক রুশ কমান্ডার তাকে বলেন, তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনে নিয়েছি।

এই তিনজন জানান, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামনের সারির কাজে বাধ্য করা হয়। এর মধ্যে ছিল রুশ বাহিনীর আগে এগিয়ে যাওয়া, রসদ বহন, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিহত ব্যক্তিদের দেহ উদ্ধার করা। আরও তিনজন নিখোঁজ বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যরাও জানান, তাদের স্বজনরা নিখোঁজ হওয়ার আগে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন।

মাকসুদুর রহমান বলেন, কাজ করতে অস্বীকার করলে তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হতো এবং মারধর করা হতো। তিনি বলেন, ‘ওরা বলত, কাজ করছ না কেন? কাঁদছ কেন? এই বলে লাথি মারত।’ সাত মাস পর পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন তিনি।

এপি যে নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশি প্রতিবেদন এবং যুদ্ধের সময় পাওয়া আঘাতের ছবি। এসব নথি ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয়।

কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা এপিকে বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে শত শত বাংলাদেশিকে তারা দেখেছেন।

এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকার; কেউই এপির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, একই ধরনের কৌশলে রাশিয়া ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও টার্গেট করেছে রাশিয়া। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণের বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আরও ২ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

পেটের পরজীবী কী এবং কেন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা

একমাত্র আমরাই শরিয়ার পক্ষে লড়াই করে যাচ্ছি : চরমোনাই পীর

নবম পে-স্কেল আদায়ে যে আলটিমেটাম দিলেন সরকারি কর্মচারীরা

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

মোবাইল ফোন বা ওয়াই-ফাই কি ক্যানসারের কারণ

মার্কিন হামলায় কেন এবার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাবে ইরান

জাতিসংঘ শান্তি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত বাংলাদেশ

মিছিল-স্লোগানে মিলছে জনস্রোত, লোকারণ্য কালেক্টরেট মাঠ

চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফে আবার মুখোমুখি রিয়াল ও বেনফিকা

১০

বাসের ধাক্কায় নৌবাহিনীর সদস্য নিহত

১১

ভরদুপুরে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

১২

শবেবরাতে কি ভাগ্য লেখা হয়? যা বলছেন ইসলামি স্কলার

১৩

টেইলরের পরামর্শে বদলায় রোজের পথচলা

১৪

চাকরির প্রত্যাশায় রাশিয়ায় গিয়ে ‘যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা’

১৫

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

১৬

শীত নিয়ে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

১৭

দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

১৮

রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিততে নতুন পরিকল্পনা ইউক্রেনের

১৯

সাদিক কায়েমের ‘ডিল’ বক্তব্য নিয়ে ছাত্রদলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

২০
X