সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭ ভাদ্র ১৪৩২
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:২৭ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের যে গ্রামে বাস করেন মাত্র ৪ জন

গ্রামের একমাত্র বাড়ি। ছবি : কালবেলা
গ্রামের একমাত্র বাড়ি। ছবি : কালবেলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সবচেয়ে ছোট গ্রামের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার ৮ নম্বর রাজীবপুর ইউনিয়নে এ গ্রামটি অবস্থিত। গ্রামের নাম উমানাথপুর। এখানে বাস করেন মাত্র চারজন।

ব্যতিক্রমী এ গ্রামের অস্তিত্ব সম্পর্কে স্থানীয় আশপাশের গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া জানেন না বেশিরভাগ এলাকার মানুষ। বিচিত্র এ গ্রামের অস্তিত্ব রয়েছে ভূমি মানচিত্রেও। উমানাথপুর নামে রয়েছে আলাদা মৌজাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজীবপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উমানাথপুর গ্রাম। গ্রামটিতে রয়েছে একটি মাত্র বাড়ি, যেখানে বসবাস করে একটিমাত্র পরিবার। বাড়িটি দলিল লেখক সিরাজুল সরকারের (৭৫)। মাত্র ২৫ শতক জমির ওপর নির্মিত এ বাড়িতে রয়েছে দুটি বসতঘর, একটি গোয়ালঘর, আছে একটি পুকুর ও একটি টয়লেট।

অন্যের জমির আইল দিয়ে এ বাড়িতে যেতে হয়। আর এ বাড়ি ঘিরেই গঠিত হয়েছে ‘উমানাথপুর’ গ্রাম। এ গ্রামের পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদ। আশপাশে গ্রামের মধ্যে রয়েছে- উত্তরে রামগোবিন্দপুর, দক্ষিণে হরিপুর, পূর্বে উদয়রামপুর এবং পশ্চিমে রামগোবিন্দপুর ও হরিপুর গ্রাম। সম্প্রতি এ গ্রামের একমাত্র বাড়ির কর্তা দলিল লেখক সিরাজুল সরকারের ছেলে শরীফুল আলমের মৃত্যু হয়েছে। এরপর এ গ্রামের কথা জানাজানি হয়।

পাশের রামগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল হক পারভেজ বলেন, একটি বাড়ি নিয়ে একটি গ্রাম। কয়েক যুগ আগেই এ গ্রাম গড়ে উঠেছে। বাপ-দাদাদের আমল থেকেই আমরা এ গ্রামের অস্তিত্ব দেখে আসছি। জমির কাগজপত্রে এ গ্রামের অস্তিত্ব আছে। এ বাড়িতে আসার একমাত্র রাস্তাটা সংস্কার করে প্রশস্ত করে দিলে বাড়িতে থাকা মানুষদের চলাচলে অনেক সুবিধা হতো। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের কাছে রাস্তাটি প্রশস্ত করার দাবি জানাই।

বাড়ির কর্তা সিরাজ সরকার (৭৫) কালবেলাকে বলেন, আমার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য রমজান আলী সরকার ও তার পূর্বপুরুষরা এ বাড়িটি ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ গ্রামে মোট জমির পরিমাণ ছয়/সাত একর। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি পরিবার নিয়ে এ বাড়িতে বসবাস করি। আমাদের পরিবারের মোট সদস্য বর্তমানে চারজন। এর মধ্যে নাতি ছাড়া আমি, আমার স্ত্রী ও এক পুত্রবধূ ভোটার। এ গ্রামের জেএল নম্বর ১১৬। তবে আমার বোনেরা বসবাস করেন বাড়ির পেছনে অন্য গ্রামে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তার বলেন, উমানাথপুর গ্রামটি আমাদের ঈশ্বরগঞ্জের সম্পদ। আমরা ইতোমধ্যে গ্রামটি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। অতিদ্রুত গ্রামে ভালোভাবে যাতায়াত করার জন্য সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তার উন্নয়নে কাজ করব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যানসার হাসপাতালকে প্রতিশ্রুতির ১ কোটি টাকা দিচ্ছে জামায়াত

ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ রাজনৈতিক নেতারা, নতুন বিধান যুক্ত

হত্যার উদ্দেশ্যে নুরের ওপর হামলা : রিজভী

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিলে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চাপ কমবে

চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

চাকরির মেয়াদ বাড়ল র‍্যাবের ডিজি ও এসবি প্রধানের 

বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা

চট্টগ্রামে স্কুল থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

পিটার হাস বাংলাদেশে, নির্বাচনের আগে আবার আলোচনায়

১০

বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার

১১

রূপসা সেতুর নিচ থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার

১২

চবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান চসিক মেয়র শাহাদাত

১৩

কুকুর ঘেউ ঘেউ করায় মালিককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

১৪

আটক ১৪ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ

১৫

উচ্চশিক্ষায় গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : রুয়েট উপাচার্য

১৬

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

১৭

অভ্যুত্থানের এক বছর পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি : আদীব

১৮

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কেএসআরএমের ট্রাফিক সাইন হস্তান্তর

১৯

ইয়েমেনে হুতিদের নতুন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিফতাহ

২০
X