শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩, ০৩:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মৃত মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায় এই টেলিফোনে

অলিম্পিয়ার স্কুয়াক্সিন পার্কে স্থাপন করা উইন্ড টেলিফোন। ছবি: সংগৃহীত
অলিম্পিয়ার স্কুয়াক্সিন পার্কে স্থাপন করা উইন্ড টেলিফোন। ছবি: সংগৃহীত

মৃত মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায় এমন একটি টেলিফোনের খোঁজ পাওয়া গেছে। শহর থেকে দূরে একটি গহিন বনের মধ্যে রয়েছে ফোনটি। নেই কোনো সংযোগ, তবুও সেই টেলিফোনে কথা বলার জন্য ছুটে আসছেন অনেকেই। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের অলিম্পিয়া এলাকায়।

ঘটনার শুরু হয় জাপানের ওটসুচি শহর থেকে। ২০১০ সালে ওই শহরের বাগান নকশাকার ইতারু সাসাকি প্রথম সংযোগবিহীন টেলিফোন বুথ তৈরি করেন। তার ধারণা, না বলা কথা বাতাসে ভেসে পৌঁছে যাবে মারা যাওয়া প্রিয়জনের কাছে। সেই ধারণা থেকেই এর নামকরণ দেওয়া হয় ‘উইন্ড ফোন’।

এর ঠিক পরের বছর ২০১১ সালে জাপানের তোহোকু শহরে ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা যায়। এরপর থেকে এই টেলিফোনটি জনপ্রিয়তা পায়। কারণ, তখন হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই ফোনে কথা বলার জন্য ভিড় করত। এ ঘটনা নিয়ে একাধিক উপন্যাস ও চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে।

জাপানের এ ধারণা থেকে ২০২০ সালে কোরে ডেমবেক নামে এক ব্যক্তি অলিম্পিয়ার স্কুয়াক্সিন পার্কে উইন্ড ফোনটি স্থাপন করেন। কারণ, তার এক বন্ধুর মেয়ে চার বছর বয়সে হঠাৎ মারা যান। মেয়ের মৃত্যুর শোকে তার বন্ধু পাগলপ্রায় হয়ে যায়। তাকে সান্ত্বনা দিতেই একটা পুরোনো ফোন কিনে এনে পার্কের গাছের সঙ্গে বেঁধে দেন তিনি। তার বন্ধুকে বলেন, ‘এই ফোনে তুমি তোমার মেয়েকে না বলা কথাগুলো বলতে পার। হয়তো মন কিছুটা শান্ত হবে।’

ওই মেয়েটির নাম ছিল জোয়েল রোজ সিলভেস্টার। তার স্মরণেই পরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুয়াক্সিন পার্কে একটি ফোন বুথ বসানো হয়। ওই বুথের সামনে একটি ফলকে লেখা আছে ‘যারা কখনো না কখনো কোনো প্রিয়জন হারিয়েছেন, এই ফোন তাদের জন্য। এর মাধ্যমে আপনার হারানো বন্ধু বা স্বজনকে না বলা বার্তাটি পৌঁছে দিতে পারেন। বলতে পারেন বিদায়, যা হয়তো কখনো বলার সুযোগ পাননি।’

জোয়েলের মা এরিন সিলভাস্টার বলেন, ‘ফোনের ওপাশ থেকে তো আর মেয়ের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না। তাই একা একা কথা বলতে গেলে আমার বুক ভেঙে যায়। তবু যখন কোনোভাবেই নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারি না, তখন এই ফোন বুথে আসি।’

জোয়েলের সঙ্গে কথা বলতে তার ভাই জেডেন, জোনাহ ও বোন জয়ও আসে। জোয়েলকে তারা কতটুকু ভালোবাসেন ও কতটা মিস করেন সেসব কথাই টেলিফোনে বলেন।

এভাবেই দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভিড় করেন এই ফোনের কাছে। এমনকি ডেমবেকের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে অনেকেই এমন ফোন বুথ স্থাপন করছেন।

সূত্র : রয়টার্স

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

১০

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

১১

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

১২

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

১৩

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

১৪

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

১৫

সান মারিনো ম্যাচের একাদশে নেই শমিত

১৬

ইউএনওর অভিযানে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

১৭

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

১৮

ভারতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার ক্লার্ক

১৯

আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুখবর, দলে যোগ দিলেন মেসি

২০
X