শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বৃহত্তর ইসরায়েলের ধারণা- স্বপ্ন না কি বাস্তব পরিকল্পনা?

বৃহত্তর ইসরায়েলের কল্পিত সীমানা। ছবি : সংগৃহীত
বৃহত্তর ইসরায়েলের কল্পিত সীমানা। ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বৃহত্তর ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাটি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি লেখক আভি লিপকিনের একটি সাক্ষাৎকার ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমানা লেবানন থেকে সৌদি আরবের বিশাল মরুভূমি, ভূমধ্যসাগর থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর ইসরায়েলের ধারণা একটি প্রাচীন বিশ্বাসের অংশ। থিওডোর হার্জল, যিনি আধুনিক ইহুদীবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত, তার সময় থেকেই এ ধারণা প্রচলিত। তিনি বলেছিলেন, এ অঞ্চলগুলোতে ইহুদিদের অধিকার রয়েছে, যা মিসরের নীল নদ থেকে শুরু করে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।

এদিকে এখনকার ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ ধারণা সমর্থনকারী অনেকেই রয়েছেন। উগ্র ডানপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের মতে, ইসরায়েলের পবিত্র ভূমি কেবল বর্তমান সীমানা নয়, বরং আরও বিস্তৃত এলাকা।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে গাজায় হামলার পর এবং ইসরায়েলের লেবাননে চলমান অভিযানগুলো এ ধারণাটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি সৈন্যরা তাদের ইউনিফর্মে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ মানচিত্রযুক্ত ব্যাজ পরেছিল। এ ঘটনায় আরব দেশগুলোতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ এ ধারণার মানচিত্রে জর্ডান, সিরিয়া এবং অন্যান্য আরব অঞ্চলের অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তাকি নুসরাত বলেন, ‘বৃহত্তর ইসরায়েলের ধারণাটি ইসরায়েলি সমাজে গভীরভাবে গেঁথে আছে।’ কিন্তু, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ওমার করিম এ ধারণাটিকে শুধু একটি কল্পনা হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

এ বিষয়ে পশ্চিমা দেশের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ নিয়ে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে খুব একটা কঠোর অবস্থান নেয়নি। চলতি বছরই, যখন ইসরায়েল কিছু নতুন বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়, তখন বাইডেন প্রশাসন তাদের খুব সূক্ষ্মভাবে নিন্দা জানায়। তাকি নুসরাতের মতে, এ ধরনের দুর্বল প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলকে বৃহত্তর ইসরায়েলের স্বপ্নপূরণে উৎসাহিত করছে।

বৃহত্তর ইসরায়েলের ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য এক বড় প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন সময়ের মধ্যে, ইসরায়েলের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিক্রিয়া এ ধারণার বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নির্ধারণ করবে। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের এ জটিল পরিস্থিতি আগামীদিনে কীভাবে পরিবর্তিত হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আবারও দেশে ভূমিকম্প

নতুন রাস্তা হলো, তবুও দুর্ভোগ গেল না

বরিশালে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সৌদি প্রবাসী নিহত

ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আরইউজের

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

শাহজাহান চৌধুরীকে গুলির পরিকল্পনা ফাঁস, লোহাগাড়া-সাতকানিয়াজুড়ে তোলপাড়

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের

দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা

এসএসসি বিরাশিয়ান বন্ধুদের উদ্যোগে ৮২টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

১০

২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নারীদের জন্য জব ফেয়ার

১১

মেসিকে কেন ছাড়? ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ

১২

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক খেলা দেখেছে?

১৩

ওপিসিডব্লিউ’র পরিদর্শক দল কর্তৃক ৩ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন 

১৪

ঢাকা থেকে যুবলীগ নেতা আটক 

১৫

দাবি রাশেদ খাঁনের / জামায়াতের নেতারা বিনা জামানতে কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়

১৬

গ্রুপ পর্বে নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল? যা বলছেন চিকিৎসকরা

১৭

সংসদে ‘কাঁচা রাস্তা’ বলার ব্যাখ্যা দিলেন জেবা আমিন

১৮

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল 

১৯

নারী বাদিকে দেখেই ওসির মন্তব্যে ‘আপনি সেই মাল’

২০
X