লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর দেরনায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন হাজার লোক নিহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ দেশটিতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি সাহায্যকারী দলগুলোকে একত্রিত করছে। দেশটি মূলত রাজনৈতিকভাবে দুইভাগে বিভক্ত।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওসমান আবদুলজালিল বলেছেন, এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বিপর্যয়কর। অনেক জায়গায় এখনো মরদেহ পড়ে রয়েছে। হাসপাতালগুলো মরদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে। এমন অনেক জায়গায় আছে যেখানে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
রেড ক্রসের কর্মকর্তা তামির রমাদান বলেন, বন্যায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার লোক নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটিতে আশঙ্কার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে হতাহতরে সংখ্যা বাড়ছে। এতে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
সংবাদমাদ্যম জানিয়েছে, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলটি লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) দখলে। এলএনএর মুখপাত্র আহমেদ মিসমারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কয়েকটি বাঁধ ভেঙে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে শহবের সব এলাকা তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে বহু মানুষ সাগরে ভেসে গেছে।
এর আগে গতকাল সোমবার রেড ক্রিসেন্টের প্রধান বলেছিলেন, দেরনার বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৫০ জন। এ সংখ্যা ২৫০ পর্যন্ত যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি। তবে রয়টার্স এদের কারও দাবির বিষয়েই স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে দেশের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভ্রাতৃপ্রতিম-বন্ধু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লিবিয়ার প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল। তিন সদস্য বিশিষ্ট এই কাউন্সিলই সংঘাতে জর্জরিত দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
গত সপ্তাহে গ্রিসে তাণ্ডব চালিয়ে ঝড় ড্যানিয়েল রোববার ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে আঘাত হানে। এ ঝড়ের প্রভাবে দেরনা শহরের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এ ছাড়া লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিসহ উপকূলীয় এলাকায় বাড়িঘর ধসে গেছে।
মন্তব্য করুন