কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নেপালে নিহত বেড়ে ১৯ : কোন দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি?

নারী শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে বিক্ষোভে। ছবি : বিবিসি
নারী শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে বিক্ষোভে। ছবি : বিবিসি

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। এর মধ্যে রাজধানী কাঠমান্ডুতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইতাহারীতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসির।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশ কার্যালয়ের মুখপাত্র শেখর খানাল নিশ্চিত করেছেন, সমাবেশ চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, ‘কিছু এলাকায় এখনও বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষ থামেনি।’

বাড়ছে উত্তেজনা, রাজধানীতে কারফিউ

‘জেন জি’ খ্যাত তরুণ ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার বিকেল থেকে কাঠমান্ডু, পোখরা, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া এবং ইতাহারীসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে কারফিউ ঘোষণার পরও কাঠমান্ডুর নিউ বানেশ্বরে ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে মরদেহ আর আহতদের ভিড়

সংঘর্ষে নিহতদের মরদেহ রাখা হয়েছে নিউ বানেশ্বরের সিভিল সার্ভিস হাসপাতাল ও এভারেস্ট হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক মরদেহেই গুলির ক্ষত স্পষ্ট। সিভিল হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর দীপক পাউডেল বলেন, ‘বেশিরভাগ আহতের শরীরে গুলি লেগেছে।’

এদিকে জাতীয় ট্রমা সেন্টারে সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রধান সুপারিনটেন্ডেন্ট ডা. বদরি রিজাল জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সিনামঙ্গলের কেএমসি টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনও মারা গেছেন।

কাঠমান্ডুর তিনটি হাসপাতালে এখনও একশর বেশি আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরও অন্তত ৪৫ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?

নেপালজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পুলিশের প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিদিনই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, হাসপাতালে আহতদের দীর্ঘ তালিকা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যদি তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও দাবি গুরুত্বের সঙ্গে না নেয়, তবে এই আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে। কারফিউ ও দমননীতি হয়তো সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আনবে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে দেশকে অনিশ্চিত রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছুটির আবেদন মঞ্জুর করানোর বিশেষ ৮ কৌশল

শেষ পর্যন্ত ‘পল্টি’ই মারলেন সাকিব

আজকের নামাজের সময়সূচি

জার্সি পরে নামাজ পড়া কি বৈধ?

ব্রাজিল-মরক্কোর শেয়ানে শেয়ানে টক্কর

ব্রাজিলকে সমতায় ফেরালেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র

ব্রাজিলের জালে গোল মরক্কোর

মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে আছেন যারা

শেষ মুহূর্তের গোলে সুইসদের জয় বঞ্চিত করে কাতারের ইতিহাস

এখনো বিয়েই করিনি, গণঅধিকারের কিছু নেতা গুজব ছড়াচ্ছেন : মনিরা শারমিন

১০

এমবোলোর সফল স্পট-কিকে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড

১১

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ২ কোটি বোনাস পাচ্ছেন মিরাজরা

১২

‘এগিয়ে চলো ব্রাজিল’, হুঙ্কার ছুড়লেন নেইমার

১৩

ভারতের বোলারদের পিটিয়ে গুরবাজের ৪৮ বলে সেঞ্চুরি

১৪

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় খুলসী থানার ওসি প্রত্যাহার

১৫

যে রেফারি দিয়ে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন

১৬

গোলাহাট গণহত্যার ৫৫ বছর পূর্তিতে শহীদদের স্মরণে ঢাকায় সভা

১৭

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ / ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা

১৮

জরুরি সেবা নম্বরে কল পেয়ে লঞ্চে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দিল কোস্ট গার্ড

১৯

ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

২০
X