রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে লেনদেনের ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন ডলার ও ইউরোর ব্যবহার কমছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।
পুতিন বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে জাতীয় মুদ্রা রুবল ও লিরা ব্যবহারের সক্রিয় প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলার ও ইউরো ব্যবহারের পরিমাণ ক্রমাগত কমছে।
এ ছাড়া বৈঠকে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার বাণিজ্যের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি বলেন, ২০২২ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা আরও ৪ শতাংশ বেড়েছে।
এর আগে আজ সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুতিনের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক করতে কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী রুশ শহর সোচিতে যান এরদোয়ান। এরপর দুপুর ১টার দিকে তাদের এই বৈঠক শুরু হয়।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার কৃষ্ণসাগর শস্যচুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো বৈঠকে মিলিত হন পুতিন ও এরদোয়ান। ফলে এই দুই নেতার আলোচনার পরপর কৃষ্ণসাগর শস্যচুক্তি পুনর্বহাল নিয়ে ঘোষণা আসবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছিল। যদিও দুই নেতার তিন ঘণ্টার বৈঠকের পরও কৃষ্ণসাগর শস্যচুক্তি পুনর্বহাল নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা না আসেনি। তবে শিগশিরই এ চুক্তি পুনরায় সচল হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এরদোয়ান।
২০২২ সালের জুলাইয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের মাঝে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগর শস্যচুক্তি হয়। এ চুক্তির আওতায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে বিনা বাধায় এতদিন খাদ্যশস্য রপ্তানি করে আসছিল ইউক্রেন। তবে দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় গত ১৭ জুলাই এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় রাশিয়া। মস্কোর দাবি, পশ্চিমাদের দেওয়া শস্য ও সার রপ্তানিতে বিধিনিষেধ তুলে নিলেই এই করিডোর পুনরায় চালু করা হবে।
মন্তব্য করুন