কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৫, ১০:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিস দিয়ে কথা বলেন ভারতের এই গ্রামের মানুষেরা

ভারতের মেঘালয়ার কংথং গ্রাম। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মেঘালয়ার কংথং গ্রাম। ছবি : সংগৃহীত

কখনও শিস, কখনও কিচিরমিচির, আবার কখনও অন্য রকম কিছু সুর। তবে পাখির নয়, এ সুর মানুষেরই। এমনও এক গ্রাম আছে যেখানে পরস্পর পরস্পরকে ডাকেন সুরে সুরে। মায়েরা প্রতিটি সন্তানের জন্য তৈরি করেন আলাদা আলাদা সুর। সেই সুরেই বাকিরা তাদের ডাকে সারাটা জীবন। তাই প্রত্যেকের রয়েছে নিজের একটি সুর, এটাই তাদের পরিচয়।

পাহাড়ি এই গ্রামে মানববসতি খুবই সীমিত। মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই আলাদা এই গ্রামের নাম কংথং। গ্রামটির অবস্থান ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। এখানকার মানুষজন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে বিচিত্র সব সুরের মাধ্যমে।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গ্রামের বাসিন্দাদের অক্ষরভিত্তিক নামও রয়েছে। তবে নিজেদের মধ্যে সেই নামের ব্যবহার খুবই কম। সন্তানদের আলাদা আলাদা সুরে ডাকেন মা। খাবার খেতে সন্তানদের ডাকতে হলে, সুরের আশ্রয় নেন মায়েরা। আবার সুরে সুরেই জবাবও দেয় সন্তানেরা। এভাবেই সুরে সুরে চলে কথাবার্তা। এটাই এই গ্রামের রীতি।

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখাতেই মূলত সুরে সুরে ডাকেন মায়েরা। তবে রেগে গেলে কিন্তু পোশাকি নামেই ডাকেন। আবার জঙ্গলে কাজ করার সময় গ্রামের বাসিন্দারা একে-অপরের সঙ্গে সুরে সুরে কথা বলেন। আধুনিক পৃথিবী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন কংথং। ২০০০ সালে গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাগে। রাস্তা তৈরি হয় আরও তিন বছর পর অর্থাৎ ২০১৩ সালে।

কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আস্তে আস্তে এই গ্রামের সুর ও গানে আসছে পরিবর্তন। কিন্তু নিজের ঐতিহ্য ধরে রাখছেন গ্রামের বাসিন্দারা। তাদেরই একজনের ভাষায়, আমরা ছোটকাল থেকেই এভাবে গাইতাম, শব্দ তৈরি করতাম। আমাদের বাবা-মা এই সুর শিখিয়েছেন। আমরা আমাদের সন্তানদের মাঝেও এখন সেই সুর ছড়িয়ে দিচ্ছি।

অনন্য এমন জীবনযাত্রার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কংথং গ্রাম। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামের অবস্থান। মাতৃতান্ত্রিক এই গ্রামে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মায়েরা। কারণ মায়েরা সন্তানের প্রতিপালন করেন, আবার সংসারও সামলান। তাই মায়ের সুরেই পরিচিতি পায় সন্তানরা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন পে-স্কেল কার্যকর করলে বাতিল হবে যে বিশেষ সুবিধা

সরকারি খরচে বিশেষ বিমানে কানাডায় গেল কাতারি সমর্থকরা

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছেন ডা. জুবাইদা : মঈন খান

জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চান পার্থ, বিরোধীদলীয় নেতা বললেন—‘ওনার কাছে চাইছে নাকি’

এসএসএফের ফায়ারিং রেঞ্জে নিশানা পরীক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে বিশ্বকাপে, পর্তুগালকে রুখে দিয়ে গড়লেন ইতিহাস

মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন কিশোর

অবশেষে দলের সঙ্গে নেইমারের অনুশীলন

হাম ও উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু

পানির ট্যাংক বসাতে গিয়ে প্রাণ গেল ইলেকট্রিশিয়ানের

১০

‘রাজধানীর কোন রুটে কোন কোম্পানির বাস চলবে, তা নিয়ে কাজ চলছে’

১১

গৃহকর্মী ‘নির্যাতন করা’ পুলিশ দম্পতি কারাগারে 

১২

বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

১৩

হাইকোর্টের যে রায়ে ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী

১৪

৩৫ বছরেই চলে গেলেন ডাভেইগ চেজ

১৫

চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

১৬

অক্সফোর্ড ইউনিয়নে টমি রবিনসনের বক্তৃতা ঘিরে বিক্ষোভ  

১৭

‘নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়’

১৮

ভারতে বিজেপি নেতাকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা

১৯

ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচের রেফারি নিয়ে বিতর্ক

২০
X