কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ০৯:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হঠাৎ কেন ফারাক্কায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মহড়া

ফারাক্কা বাঁধ। ছবি : সংগৃহীত
ফারাক্কা বাঁধ। ছবি : সংগৃহীত

মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্পে শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ এক বিশাল নিরাপত্তা মহড়া চলতে দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন এই বাঁধে এমন মহড়া দেখে কেউ কেউ প্রথমে আতঙ্কিত হলেও পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি পূর্ব-নির্ধারিত মক ড্রিল, অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক মহড়া।

জানা গেছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও দুদেশের মধ্যে উত্তেজনার মাত্রা এখনো হ্রাস পায়নি। তাই যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী মহড়া শুরু করেছে।

এর মধ্যে ফারাক্কা ব্যারেজ ও ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায়ও জারি করা হয়েছিল লাল সতর্কতা। ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় মকড্রিল করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের আরও ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন মহড়া চালানো হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফারাক্কা ব্যারেজ পর্যন্ত ছিল পাক সেনাদের নজরে। যুদ্ধের আগে আশঙ্কা ছিল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যারাজে যে কোনো হামলা প্রতিহত করতে শুক্রবার থেকে শুরু হয় সেনা মক ড্রিল।

পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্প এবং ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্প সংলগ্ন রেললাইনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইবি, স্থানীয় পুলিশ কৃত্রিম মহড়া চালিয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সুরক্ষা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ভারত সরকারের নির্দেশে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের সংযোগকারী ফারাক্কা ব্যারেজ অঞ্চলকে আরও সুরক্ষিত করার জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে।

ফারাক্কা ব্যারেজ, যা উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গকে গঙ্গা নদীর মাধ্যমে সংযুক্ত করে, সেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যদি কোনো অপ্রীতিকর বা সন্ত্রাসবাদী ঘটনা ঘটে, তা হলে কিভাবে দ্রুততার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করবে। সেই কৌশলগত দিকগুলোই এদিনের মহড়ায় পরীক্ষা করা হয়।

উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের সংযোগ রক্ষাকারী ফারাক্কা ব্যারেজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বলে জানান সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স-সিআইএসএফের সিনিয়র কমান্ড্যান্ট মুকেশ কুমার। এখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দেশের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। তাই এখানকার সুরক্ষা আগের থেকে মজবুত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র : ইটিভি ভারত ও দ্য স্টেটসম্যান

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোল্ডেন গ্লোবসের মনোনয়ন ঘোষণা

গণভোটের ব্যাপক প্রচারণা চালাতে নানা পদক্ষেপ ইসির

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালাবে সরকার : প্রেস সচিব

৫৭ জনকে নিয়োগে দেবে বিমান বাংলাদেশ

এইচএসসি পাসেই চাকরি দিচ্ছে লাজ ফার্মা

মনোনয়ন বৈধ হওয়ার খবরে যা বলেলন মান্না

মিনিস্টার গ্রুপের কর্মকর্তার মৃত্যুতে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয় : হাইকোর্টের রুল

জোহরান মামদানির ওপর চড়াও ভারত সরকার

বহিষ্কৃত ৮ নেতাকে ফেরাল বিএনপি

ফসলি জমি কেটে খাল খনন

১০

ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য যেসব খাবার খাবেন

১১

বিএনপির এক নেতা বহিষ্কার

১২

শান্ত-ওয়াসিমের ব্যাটে রাজশাহীর কাছে পাত্তাই পেল না রংপুর

১৩

পরিবারসহ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পালানোর গুঞ্জন, বিক্ষোভে নতুন মাত্রা

১৪

সরকার কোনো দলকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না : প্রেস সচিব

১৫

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি

১৬

ভালুকা প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি মাইন, সম্পাদক আলমগীর

১৭

মানসিক অবস্থা ভালো নেই, বেশকিছু ভুয়া খবর দেখলাম : তাহসান

১৮

বিটিসিএলের দ্রুতগতির ইন্টারনেটে কোন প্যাকেজে কত গতি?

১৯

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জ্বলছে অনলাইনেও, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ

২০
X