ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বলা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বুথফেরত জরিপের সঙ্গে প্রকৃত ফলাফলের ব্যবধান ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জোট এনডিএর দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মোদির দল বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার এই ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
দ্য তেলেগু দেশম পার্টি এবং জনতা দলও (ইউনাইটডে) জানিয়েছে, তাদের জোট মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সরকার গঠন করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা হলে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা অর্থনীতির দেশটির ৭৩ বছর বয়সী এই নেতার সঙ্গেই আরও পাঁচ বছর কাজ করতে হতে পারে পশ্চিমা বিশ্বের।
মোদির নেতৃত্বে ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের জন্য জোর তদবির চালিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তাকে মনে করেছেন চীনের বিপরীতে এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে। অধিকারকর্মীরা অবশ্য মোদির শাসনের মধ্যে কর্তৃত্ববাদ দেখতে পাচ্ছেন, যার সমালোচনাও কম নয়।
নরেন্দ্র মোদি একইসঙ্গে অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন। ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সর্বাধুনিক ড্রোন কিনছেন তিনি, ফ্রান্স থেকে যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন কেনার পথে রয়েছেন। আবার রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার নিন্দায় তাকে বিশেষ সরব হতে দেখা যায়নি। উল্টো জাতিসংঘে ভোটাভুটিতে রাশিয়ার পক্ষ নিতে দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশটিকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের সঙ্গে ভারতের বিরোধ থাকলেও ব্রিকস জোটে রয়েছে দেশ দুটো। এই জোটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগেও রয়েছেন মোদি।
মন্তব্য করুন