কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কাজাখস্তান তো ইসরায়েলের ‘ব্যবহৃত মাল’ : ফিলিস্তিনি নেতা

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ একটি নতুন দেশ যোগ দিচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা পরই জানানো হয়, সেই দেশটি হলো মধ্য এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র কাজাখস্তান।

লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য নিউ আরব জানায়, ঘোষণাটি অনেকের কাছেই ‘নীরস’ মনে হয়েছে। কারণ ১৯৯২ সাল থেকেই ইসরায়েল ও কাজাখস্তানের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে অনেকে একে ‌‌‌‌‘পুরনো সম্পর্কের নতুন মোড়ক’ হিসেবেই দেখছেন।

নতুন রূপে পুরনো কৌশল ২০২০ সালে শুরু হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডস মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। প্রথমে এতে যোগ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন, পরে মরক্কো ও সুদান সই করে—যদিও সুদান এখনো চুক্তি অনুমোদন করেনি।

এখন কাজাখস্তানের সংযোজনকে বিশ্লেষকরা দেখছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ‘চুক্তি পুনরুজ্জীবনের’ প্রচেষ্টা হিসেবে—তবে এক ভিন্ন আঙ্গিকে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইয়র্কটাউন ইনস্টিটিউটের তুরান রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক জোসেফ এপস্টাইন রেডিও ফ্রি ইউরোপকে বলেন, ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগদান চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি উদ্যোগ থেকে পরিবর্তন করে একপ্রকার প্রো–আমেরিকান জোটে রূপ দিচ্ছে— যেখানে সহনশীলতা ও সমৃদ্ধিকে সামনে রেখে ‘মধ্যপন্থী মুসলিম দেশগুলো’কে একত্র করার চেষ্টা চলছে।’

সৌদি যোগদানের আশা ভঙ্গ আব্রাহাম চুক্তির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল সৌদি আরব এতে যোগ দিক। মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ এবং ইসলামের পবিত্রতম দুই স্থানের রক্ষক হওয়ায় রিয়াদকে ছিল মূল লক্ষ্য।

তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার পর সৌদি নেতৃত্ব এই ধারণা পুরোপুরি নাকচ করে দেয়। তারা স্পষ্ট জানায়, ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখা’ না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো স্বাভাবিক সম্পর্ক সম্ভব নয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার অটল অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও সরবে না, এবং এই অবস্থান কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।

এরই মধ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে খবর বেরোয়— প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সৌদি আরব বা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি করতে চান। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, রিয়াদের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত ক্ষীণ’।

জানা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়াও আলোচনায় রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে জাকার্তা চায় অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওসিইডি) যোগ দিতে— যেখানে তেলআবিব সদস্যপদ পেতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন মোড়কে পুরনো মাল কাজাখস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করার এই পদক্ষেপকে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ ও সমালোচনার চোখে দেখেছেন। অনেকে একে ইসরায়েল-স্বাভাবিকীকরণ উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার মরিয়া প্রয়াস হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি-মার্কিনি সাংবাদিক আহমেদ শিহাব-এলদিন এক্সে (টুইটার) লিখেছেন, ইসরায়েল এখন এতটাই মরিয়া যে গাজায় গণহত্যাকে ‘শান্তি’ বলে প্রচার করতে তারা কাজাখস্তানকেও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ করল—যে দেশের সঙ্গে ১৯৯২ সাল থেকেই তাদের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদিদের রাজি করাতে না পেরে এখন বিভ্রমে বাঁচছে তারা।

ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) সাবেক নির্বাহী সদস্য হানান আশরাওয়ি মন্তব্য করেন, আবার ইতিহাস ঘেঁটে নতুন রূপ দিচ্ছে তারা। কাজাখস্তান কোনো আরব দেশ নয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তার সম্পর্ক তিন দশক আগেই স্থাপিত। এটা আসলে ‘ব্যবহৃত মাল’।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথ বলেন, গাজায় গণহত্যা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা রুদ্ধ করার পরও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন এমন এক দেশকেও টানছে, যার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক বহু পুরোনো। এটি সম্পূর্ণ এক প্রহসন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টানা ৩ দিন ৭ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম

২৪-০ গোলে জিতল ঋতুপর্ণারা

ডাকসু নেতার ‘কোটা না সংস্কার’ স্লোগানের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’

বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া দিল না আয়ারল্যান্ড

জামালপুরের একমাত্র নারী প্রার্থী পূথির মনোনয়ন বৈধ

বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে : শামা ওবায়েদ

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির সমন্বিত কাজ অপরিহার্য : উপদেষ্টা ফরিদা

খোলা জায়গায় প্রস্রাব করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : সেলিমুজ্জামান

১০

এমপি প্রার্থীর কর্মীকে হত্যা, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ

১১

প্রাণ গেল নারী-শিশুসহ ৩ জনের

১২

ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূতের সম্মানে এএজিইউবি’র সংবর্ধনা, এজিম ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

১৩

রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের সেলস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

১৪

একুশ শতাব্দীতে যে কীর্তিতে দ্বিতীয় দ্রুততম এমবাপ্পে

১৫

মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর

১৬

খালেদা জিয়ার কফিন বহনের সুযোগ পেয়ে যাদের কৃতজ্ঞতা জানালেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক

১৭

ডার্বিতে সিটিকে গুঁড়িয়ে দিল ইউনাইটেড! 

১৮

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ জনের

১৯

দুর্দান্ত শুরুর পরও জিততে পারল না বাংলাদেশ

২০
X