

ইরানিদের ক্ষমতায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজা পাহলভি। তিনি বলেন, তেহরানের বর্তমান সরকার ভেঙে পড়লে বিরোধী শক্তিগুলো দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাসিত এই রাজপুত্র বলেন, ৪৭ বছর ধরে আমাদের জাতিকে নির্মমভাবে দমন করা একটি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা বা তোষণ করার চেষ্টা করে আমাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন না। অনেক মানুষই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। ইরানের বাইরে এমন একটি অংশ রয়েছে, যারা এক ধরনের সমন্বিত বা হাইব্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে ভেতরের শক্তিগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই দেশের ভেতরের সেই শক্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারব। এর আগে ২৩ জুন ২০২৫ ফ্রান্সের প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ইরানকে দুর্বল করার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি বলেছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ওয়াশিংটন ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেতর থেকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। তাদের মতে, ইরানি জনগণের নির্বাচিত একটি স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ব্যর্থ করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হিজবুল্লাহ আরও অভিযোগ করে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর ওপর হামলার পেছনেও এ কৌশল কাজ করছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের সহায়তা আসছে এবং প্রতিবাদকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। মুদ্রা রিয়ালের বড় পতনের ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় এই আন্দোলন শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৬ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
মন্তব্য করুন