

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নেওয়া বা ছাপানো নিয়ে দেশে আলোচনা-সমালোচনা চলার মধ্যে তার একটি সাক্ষাৎকার ছেপেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। গত বছরের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ইমেইলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সাক্ষাৎকারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার দেশে ফেরা প্রসঙ্গও আসে। ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম কোনো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া শেখ হাসিনার এ সাক্ষাৎকার নিয়ে নানা মহলে চলছে আলোচনা।
গত মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে আগামী নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, তিনি আশা করেন, তার দলকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে তিনি বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগের জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নেপথ্যে আলোচনা করছেন কি না, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা কিছু জানাননি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া না হলে দলটির ভোটারদের অন্য দলকে সমর্থন দিতে বলা হবে না বলেও জানান তিনি।
দেশে ফিরবেন কি না, সে বিষয়েও রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, তার দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে তাতে যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং তিনি ভারতেই অবস্থান করবেন।
গত বছরের আন্দোলন দমাতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বা অন্য কথিত অপরাধের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং এ কার্যক্রমগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।