এনায়েত শাওন
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ০৭:১৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

জোটের হিসাব মাথায় রেখে বাম দলগুলোতেও তোড়জোড়

জোটের হিসাব মাথায় রেখে বাম দলগুলোতেও তোড়জোড়

দেশের বাম ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চালাচ্ছে জোর তৎপরতা। নির্বাচন কেন্দ্র করে জোট বা মোর্চা গঠনের হিসাব-নিকাশ মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থাকা এসব বাম দল। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পর দলগুলোর নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের পালে লাগা হাওয়া আরও জোর পেয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাম ঘরানার দলগুলোর জনপ্রিয় প্রার্থীরা এরই মধ্যে আসনভিত্তিক প্রচার ও জনসংযোগের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি বাম দলগুলো মিয়ানমারের রাখাইনের সঙ্গে ‘মানবিক করিডোর’ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ‘বিদেশিদের কাছে ইজারা’ রুখতে দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে দলকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা বামপন্থি দলগুলোর রাজনীতির মাঠে নিজেদের চাঙ্গা করার নির্বাচনকেন্দ্রিক কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনমুখী বাম দলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি। এর বাইরে নির্বাচন সামনে রেখে সক্রিয় আরও কয়েকটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল।

এ প্রসঙ্গে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স কালবেলাকে বলেন, ‘আগে সংস্কারের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করুক, টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব বন্ধ করুক, তারপর নির্বাচন। তবে নির্বাচনে আমরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব।’

বাংলাদেশ জাসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে তাদের দলগতভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত; কিন্তু নির্বাচন কোন সংবিধানের অধীনে হবে বা সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলোর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তারা দলগতভাবে ৩০ থেকে ৪০টি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে নড়াইল-১ আসনে সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, পঞ্চগড়-১ থেকে সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, পঞ্চগড়-২ থেকে ইমরানুল আমীন এবং সাব্বির আহমেদ রংপুরের, রোকনুজ্জামান কুষ্টিয়ার, মইনুল ইসলাম স্বাধীন বরিশালের, মহব্বত আলী মাগুরার ও ডা. মুশতাক হোসেন ঢাকার আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত আছে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। আমাদের দলের প্রার্থীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কে কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেটাও প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে। তবে একটি সফল নির্বাচনের জন্য সংস্কার শেষে নানা জোট-মোর্চার হিসাব রয়েছে। এ ছাড়া কোন সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হবে, তা-ও চূড়ান্ত নয়। উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ নিয়েও ঐকমত্য হয়নি। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই।’

অন্যদিকে, সারা দেশের প্রায় ৫০টি আসনে নির্বাচনে প্রার্থী দেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনটি ধারার জোট হতে পারে। সেগুলো হলো বিএনপিসহ বাম ধারার জোট, ইসলামী দলগুলোর জোট এবং সরকারের সহায়তাপুষ্টদের জোট। এ তিন জোটের মধ্যে বাম ধারায় থাকবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এজন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে ঢাকা-৮ আসনে সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ হোসেন এবং আনসার আলী দুলাল যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ ও নাটোর থেকে, দলের শুভ্যার্থী আব্দুন নূর সিরাজগঞ্জের একটি আসন, শেখ মো. শিমুল মুন্সীগঞ্জের, জুঁই চাকমা রাঙামাটির আসন এবং রাজিব সরকার রতন নেত্রকোনা সদর থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে পাঁচটি আসনে এবং ২০১৮ সালে দলের ১১ জনসহ ২৮ জন কোদাল প্রতীকে নির্বাচন করেন। তবে ত্রয়োদশ সংসদে এ সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। জোটবদ্ধ হবো কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে ভোটের এত আগে এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা কঠিন, পরিস্থিতিতে অনেক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে। গণতন্ত্র মঞ্চসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে বোঝাপড়া চলছে। তবে যেনতেন ঐক্যের সঙ্গে আমরা যুক্ত হবো না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিপিবির সভাপতি শাহ আলম চট্টগ্রাম-১২, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স খুলনা-২ এবং গাইবান্ধার একটি আসনে দলটির সহকারী সম্পাদক মিহির ঘোষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এর বাইরে নির্বাচন সামনে রেখে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু এবং সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ঢাকা-১২ অথবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, এর মধ্যে যে কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

এ বিষয়ে জোনায়েদ সাকি কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির কাজ করছি। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেব। তবে জোটে থাকব কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনো অনেক সময় রয়েছে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিঙ্গারে চাকরির সুযোগ, থাকবে ভাতাসহ প্রভিডেন্ট ফান্ড

টাঙ্গাইলে সাত মাসে সাপের কামড়ের শিকার ৫৩৫ জন

ব্যাংক এশিয়ায় রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদে আবেদন করুন আজই

তিন দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক আজ

ভারত সফরের পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প : নিউইয়র্ক টাইমস

পুরুষদের জন্য রূপায়ণ গ্রুপে চাকরির সুযোগ

কিশোর-কিশোরীদের জন্য এআই চ্যাটবটে পরিবর্তন আনল মেটা

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন পরিকল্পনা ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

নির্বাচনের কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই : শামীম সাঈদী

১০

ঢাকায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস

১১

রোববার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

১২

৩১ আগস্ট : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৩

পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিলেন ৩ যুবক, অতঃপর...

১৪

নামাজ শেষে বসে থাকা গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

১৫

রাকসু নির্বাচনে সাইবার বুলিং রোধে ৫ সদস্যের কমিটি

১৬

১৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

১৭

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় শঙ্কা দূর হয়েছে : যুবদল নেতা আমিন

১৮

আহত নুরের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া

১৯

বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণে ৩১ দফার বিকল্প নেই : লায়ন ফারুক 

২০
X