শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২১ এএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেই দিনটি

ফরাসি ঔপন্যাসিক এমিল জোলা

জন্মদিন
ফরাসি ঔপন্যাসিক এমিল জোলা

এমিল জোলা বিশ্বখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তিনি তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণশীল ও সমাজমনস্ক একজন লেখক। জোলা ১৮৪০ সালের ২ এপ্রিল প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার কর্মস্থল প্যারিসের বাইরে হওয়ায় তিন বছর বয়সে জোলা পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলে চলে যান। ১৮৪৭ সালে বাবার অকালমৃত্যুর পর প্যারিসে ফিরে আসেন। প্যারিসে তার বাল্যবন্ধু পল সেজানের সঙ্গে দেখা হয়। অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন তিনি। জোলা অল্প বয়সেই অসংখ্য ছোটগল্প, প্রবন্ধ, গোটা চারেক নাটক এবং তিনটি উপন্যাস লেখেন। লেখক জীবন শুরু করার আগে নিজেকে তৈরি করতে থাকেন নানা পেশায়। প্রথমে এক জাহাজ কোম্পানির কেরানির কাজ করেন। ‘লে রুগুনমাকা’ হলো তার ২০টি উপন্যাসের সংকলনের নাম। ১৮৫২ থেকে ১৮৭০ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্যের একটি কল্পিত পরিবারের দুটি শাখার সদস্যদের জীবনকথা নিয়ে তৈরি হয়েছে উপন্যাসগুলোর কাহিনি। ২০টি উপন্যাসে তিন শতাধিক প্রধান চরিত্র তৈরি করেছেন তিনি। পরিবারের দুটি শাখা থেকে তাদের বংশগতি হওয়ার কারণে তারা সবাই একে অন্যের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কে সম্পর্কিত। মানুষে মানুষে সংঘর্ষ, মাদকের প্রভাব এবং শিল্পবিপ্লবের দ্বিতীয় ধাপে বেড়ে ওঠা পতিতাবৃত্তি মানুষের জীবনে কী কী ভয়াবহ প্রভাব ফেলে, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এসব কাহিনিতে।

নয়া সাংবাদিকতার সৃষ্টির সঙ্গে উলফ, কাপোতে, টমসন, মেইলার, ডিডিওনসহ যেসব লেখকের নাম জড়িয়ে আছে, তাদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে জোলার। টম উলফ বলেন, তার কথাসাহিত্য লেখার পেছনে উৎসাহের মতো কাজ করেছে জন স্টাইনবেক, চার্লস ডিকেন্স এবং এমিল জোলার মতো করে সমসাময়িক সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার বাসনা। আসলে জোলা নিরীক্ষাধর্মী উপন্যাসে বাস্তব সমাজের নিরাবেগ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি মনে করতেন, প্রতিটি উপন্যাসের ভিত্তি হবে বাস্তবতার তথ্যাবলি।

জোলা মনে করেন, তার উপন্যাসে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ রয়েছে। তবে জর্জ লুকাসের মতো কোনো কোনো সমালোচক মনে করেন, জোলার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বালজাক কিংবা ডিকেন্সের চরিত্রদের মতো জীবনঘনিষ্ঠ ও স্মরণীয় হয়নি। মানুষের গণ-অবস্থার চিত্র বেশ ভালোভাবে তুলে ধরতে পারলেও ব্যক্তিক চরিত্র স্মরণীয় হয়নি বলে মনে করেন তারা। অন্যদিকে জোলা মনে করতেন, কোনো চরিত্র যেন বাস্তবজীবনের চেয়ে বড় না হয়ে যায়। যদিও তিনি বৈজ্ঞানিকভাবে এবং শৈল্পিক দিক থেকে কোনো চরিত্রকে জীবনের চেয়ে বড় করে দেখানো উচিত নয় বলেই মনে করেন। তবু তার কিছু চরিত্র বাস্তব অবস্থাকে ছাড়িয়ে গেছে। ‘লা তেরে’ উপন্যাসে ফ্রান্সের মধ্যাঞ্চলের পল্লি এলাকার প্রাকৃতিক চলমানতার চিত্র যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে বীজ বপনের সময়, ফসল তোলার সময়, মৃত্যু ইত্যাদির মাধ্যমে মানব প্রবৃত্তিকে এক মহান প্রাণশক্তি দেওয়া হয়েছে, যেটা মানবীয় নয়; বরং জীবনেরই মৌলিক শক্তি। বিখ্যাত সাহিত্যিক এমিল জোলা ১৯০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্যারিসে মারা যান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আড্ডা দিচ্ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মীরা, অতর্কিত হামলায় আহত ৪

চৈত্রসংক্রান্তি আজ

১৩ এপ্রিল : নামাজের সময়সূচি

দুদিন বন্ধের পর আজ থেকে মেট্রোরেল চালু 

মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার হুমকি ইরানের

বিমান থেকে সংকেত দেখেই দ্বীপ থেকে তিন নাবিককে উদ্ধার

বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই মাদ্রাসাছাত্র নিহত

সৌদি আরবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল বাংলাদেশির

এবারই প্রথম স্বস্তিতে মানুষ ট্রেন ভ্রমণ করছেন : রেলমন্ত্রী

খুলনায় ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

১০

দিনদুপুরে তরুণীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

১১

ঈদে পর্যটকে মুখরিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

১২

‘বাঙালিত্বের সঙ্গে ধর্মের কোনো সংঘর্ষ নেই’

১৩

খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আ.লীগের তিন নেতা গুরুতর আহত

১৪

সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াল বান্দরবান প্রশাসন

১৫

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা চরমে, মার্কিন রণতরীর অবস্থান পরিবর্তন

১৬

দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

১৭

মসজিদের টাকার হিসাবকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১২

১৮

স্ত্রী-সন্তানকে মাংস কিনে খাওয়াতে না পারায় চিরকুট লিখে আত্মহত্যা

১৯

মারাঠা বর্গীদের মতো দেশে লুটপাট চলছে : বিএসপিপি 

২০
*/ ?>
X