মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
রীতা ভৌমিক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৩:০৫ এএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:২১ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক সিডও দিবস আজ

৩৯ বছর পরও দুই ধারায় আপত্তি

৩৯ বছর পরও দুই ধারায় আপত্তি

১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কার্যকর হয় নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)। আর ১৯৮৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এটি স্বাক্ষর ও অনুমোদন করে সরকার। সিডও সনদের শুরুতে চারটি ধারায় আপত্তি থাকলেও পরে দুটি ধারা তুলে নেওয়া হয়। ২ ও ১৬ (১) (গ) ধারায় আপত্তি বলবৎ রয়েছে। সিডও সনদের ২ ধারায় নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে আইনের সংস্কার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ১৬ (১) (গ) ধারায় বিয়ে ও পারিবারিক আইনে সমঅধিকারের কথা বলা হয়। ৩৯ বছর পরও এ দুই ধারায় আপত্তি প্রত্যাহার করা হয়নি। আপত্তি রেখেই নিয়ম অনুসারে সিডও কমিটিতে জমা দিতে নবম প্রতিবেদন তৈরি করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ওই দুটি ধারা অনুসারে, বিয়ে, বিয়েবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, অভিভাবকত্ব আইনে নারীকে সমান অধিকার দেওয়ার প্রশ্নে সরকার অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এক শ্রেণির নারীবিদ্বেষী গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট রাখতে সিডওর দুটি ধারায় আপত্তি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নারীজীবনে। এরপরও সমঅধিকারের প্রত্যাশায় আজ রোববার দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস।

সিডও নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পলিসি লিডারশিপ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ইউনিট (প্লাউ) নবম প্রতিবেদন তৈরি করছে। সিডও সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতি চার বছরে একবার সিডও কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয় সরকারগুলো। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইডের সম্পাদক রেখা সাহার মতে, দুটি ধারায় আপত্তি রেখেই নিয়ম অনুযায়ী নবম প্রতিবেদন তৈরি করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকার অষ্টম প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ২০১৫ সালে। নবম প্রতিবেদনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মহিলা পরিষদ, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নবম অল্টারনেটিভ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে সরকারকে।

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকার মানে সিডওকে অস্বীকার করা। ২ নম্বর ধারার সব রকমের বৈষম্যমূলক আইন বিলুপ্ত করতে হবে। সরকার ২ নম্বর ও ১৬ (১) (গ) ধারা সংরক্ষণ করে রেখেছে। এটি একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনের অধিকারের প্রশ্ন। একজন নারীর ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতা না থাকলে জনজীবনে তাকে যতই স্বাধীনতা দেওয়া হোক, সে ভোগ করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি, এই দুটি ধারার সংরক্ষণ অবশ্যই তুলে নিতে হবে। এ কারণেই উত্তরাধিকারে কোনো সমঅধিকার দেওয়া যাচ্ছে না। সমাজের দোহাই দিয়ে এটি করা হচ্ছে। আমরা সেটি গ্রহণ করতে রাজি নই। সমাজের এক অংশের আপত্তি থাকতে পারে। তবে সমাজের সমগ্র অংশের আপত্তি আছে কি না, সেটা দেখা দরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক জানান, ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা থেকে অনেকে ভাবছেন, এই দুটি ধারা ধর্মের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। কিন্তু এটি ভাবা দরকার, মানুষ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সরকার বা মূল জায়গা থেকে পরিবর্তন না হলেও কেন বাবা-মায়ের মাথায় ছেলেমেয়ে উভয় সন্তানকে সমঅধিকার দেওয়ার ভাবনা আসছে না। তবে অনেক বাবা-মায়ের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। আবার ছেলের বাড়িতে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে—এমন চিন্তাভাবনা অনেকের মনে গেঁথে আছে। মেয়ের বাড়িতে থাকাটাকে সম্মানের চোখে দেখেন না। দায়বদ্ধতা থেকে ছেলেকে সম্পত্তি বেশি দিয়ে মেয়েকে বঞ্চনা করেন। ধর্ম অবমাননা করে নয়, আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সমাজের নেতৃস্থানীয়দের।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ত্রাণ বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

বরিশালে সাংগঠনিক সভায় একাধিক নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পরাজিত শক্তির আস্ফালন জুলাইয়ের ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে: মঞ্জু

দোকানে আটকে রেখে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

স্পেন নাকি ফ্রান্স সেমিফাইনালে জিতবে কে, আগাম জানালো এআই

ব্রাজিল ও ইতালির ইতিহাস বলছে, এবার বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা

শেখ হাসিনা ফিরলে জেলে যেতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ব্রাজিলের খেলা আবার কবে-কখন, প্রতিপক্ষ কে?

নেশার টাকার জন্য নির্যাতন, মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা

সাবস্টেশনে পানি ওঠায় কুয়েত মৈত্রী ও ফজিলাতুন্নেছা হলে বিদ্যুৎ সংযোগে বিলম্ব

১০

উজানের ঢলে ফুলছে পদ্মা, রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ পানি

১১

বান্দরবানে কমছে বন্যার পানি

১২

ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা / ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি ঢাবি ছাত্রদলের

১৩

বিশ্বকাপ জয়ের সেরা দাবিদারের নাম ঘোষণা করলেন গোল্ডেন বল জয়ী কিংবদন্তি

১৪

টানা বর্ষণে হাতিয়ায় কৃষি খাতে ২০ কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা

১৫

চাচাতো ভাইয়ের হামলায় প্রাণ গেল যুবকের

১৬

মুন্সীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

১৭

ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সীমান্তে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

১৮

আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, যা বলছে সুপারকম্পিউটার

১৯

গাজায় ১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা তহবিল দেবে ইইউ

২০
X