সালাহউদ্দিন সালমান, সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ)
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আট বছরেও শেষ হয়নি দুই বছরের কাজ

সিরাজদীখানের ধলেশ্বরীর শাখা সেতু
সিরাজদীখান ও কেরানীগঞ্জের মোল্লাবাজার এলাকায় ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু। ছবি : কালবেলা
সিরাজদীখান ও কেরানীগঞ্জের মোল্লাবাজার এলাকায় ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু। ছবি : কালবেলা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার সিরাজদীখান ও কেরানীগঞ্জের মোল্লাবাজার এলাকায় ধলেশ্বরীর শাখা নদীর সেতুর কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। সেতুর অভাবে মুন্সীগঞ্জের চার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাদের দাবি সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা হোক।

স্থনীয়রা জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে মুন্সীগঞ্জ সদর, সিরাজদীখান, টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলার ছয় লাখ মানুষ যানজটহীনভাবে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে। বর্তমানে এসব এলাকার মানুষ সেতুর স্থল দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রলার ও দেশীয় ফেরিতে নদী পার হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, সিরাজদীখানের বেতকা চৌরাস্তা থেকে মোল্লাবাজার হয়ে ব্রিজের গোড়া পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার। সেখান থেকে ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত আরও ৬ কিলোমিটার। পুরো পথে যানজট না থাকলে মাত্র ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানো সম্ভব। বিপরীতে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে বা চাষাঢ়া-পাগলা রুট দিয়ে যেতে সময় লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। অথচ ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর নির্মিতব্য ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুর কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। উত্তর পাড়ের পাঁচটি পিলারের কাজ কচ্ছপগতিতে চলছে। ফলে রাজধানীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের চার উপজেলার দ্রুত ও যানজটমুক্ত যাতায়াতের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যানজটবিহীনভাবে ঢাকায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে এই সেতুর কাজ হাতে নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ‘সুরমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পটির কাজ দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার। পরবর্তী সময়ে সময় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালেও কাজ শেষ হয়নি। বরং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে মূল সেতুর নির্মাণকাজ। আর যতটুকু কাজ দৃশ্যমান, তা শুধু লোক দেখানো বলে জানান স্থানীয়রা।

কেরানীগঞ্জ এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ১৩টি পিলারের ওপর ১২টি স্প্যান বসিয়ে সেতুটি নির্মাণের কথা ছিল। এখন পর্যন্ত ৮টি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে দুটি করে স্প্যান বসানো হয়েছে। তবে নদীর মাঝখানের পিলারগুলো মোটামুটি শেষ হয়েছে। এখন স্প্যান বসানোর কাজ বাকি। সব মিলিয়ে সেতুর ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে।

কেরানীগঞ্জ এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য সুরমা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ১৬ কোটি টাকা নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে সেতু নির্মাণকাজ শেষ হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সব মামলায় জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদি, মুক্তিতে নেই বাধা

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নৌবাহিনীর সদস্যদের হত্যার বিচার চায় ইরান

ইতালিতে পুলিশি হেফাজতে প্রবাসী নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

রাতে যে ৭ ব্যায়াম করলে দ্রুত ঘুম আসবে

প্রবাসী কার্ডধারীরা বিমান টিকিটসহ পাবেন বিশেষ সুবিধা: বিমানমন্ত্রী

সীমান্তে খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পিছু হটল বিএসএফ

চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’, এক ক্লিকেই মিলবে যেসব সেবা

নতুন করে জর্ডান ও বাহরাইনে হামলা

ইয়েমেনের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিল কাতার

১০

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

১১

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

১২

ট্রাকচালকদের জন্য নতুন ভিসা চালু করল সৌদি আরব

১৩

অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা

১৪

ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করল কাতার

১৫

দুই মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারসহ ৪ কর্মকর্তাকে বদলি

১৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সেনাদের মরদেহ উদ্ধারে খনন অভিযান

১৭

ইরানের পাহাড়ি এলাকায় বিমান হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

এনসিপির এক নেতাকে শোকজ, অন্যজনকে অব্যাহতি

১৯

তিন মেয়েসহ মাকে হত্যা করল ইসরায়েলি বাহিনী

২০
X