এখনই যুগপতের কর্মসূচিতে যাচ্ছে না রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। বরং কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দলটি। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সারা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। ৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। ফলে এই মুহূর্তে দলীয় কোনো বড় কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। বরং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করছেন বিএনপির হাইকমান্ড। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মোক্ষম সময়েই নতুন কর্মসূচি আসবে।
৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ৬ মাস পর আবারও যুগপৎ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে চেয়েছিল বিএনপি। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি মিত্র দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে দলটি। গতকাল মঙ্গলবারও বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়েছে। এতে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম গতকাল কালবেলাকে বলেন, আমরা আপাতত দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের সমমনা দল ও শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী শনিবার ঢাকায় সমাবেশের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কারণে সেটি আপাতত হচ্ছে না। তবে কর্মসূচির সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বিএনপি ও এর মিত্ররা। মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিসহ পাঁচ ইস্যুতে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গত শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভিন্ন কর্মসূচির একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন। এ নিয়ে গত সোমবার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে আলোচনা হয়। বিশেষ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী হবে এবং পরবর্তী কর্মসূচি কী দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু কোনো কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপির যুগপতের নতুন কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল সন্ধ্যায় কালবেলাকে বলেন, দেশের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে ভালো নেই। সুতরাং, এখন যেটা চলছে আমরা সেটাই পর্যবেক্ষণ করছি।
স্থায়ী কমিটির ওই বৈঠকে বলা হয়, দেশে বর্তমানে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিসহ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফেরানোর দাবিতে এবং ভারতের সঙ্গে দেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ চুক্তি, সরকারের ‘সীমাহীন দুর্নীতি’র প্রতিবাদে আগামী শনিবার ঢাকায় সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু হাইকমান্ড এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করেনি। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে শিগগির ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ, সমাবেশ, পদযাত্রা, গণমিছিল, রোডমার্চসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। চলতি মাসেই বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। তাই যেসব জেলার ওপর ‘রেল করিডোর’ যাবে সেইসব জেলায় কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যুগপৎ শরিকদের সুপারিশ করা কর্মসূচির প্রস্তাবগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।