

আজ শনিবার শেষ হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর। রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এ মেলায় রয়েছে দেশি-বিদেশি পণ্যের সমারোহ। বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে স্টল ও প্যাভিলিয়নের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের পুরস্কৃত করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের।
মেলার শেষ শুক্রবার ছিল দর্শনার্থী ও
ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করেন মেলায়। বিকেল গড়াতেই পুরো প্রাঙ্গণ জনারণ্যে পরিণত হয়। কোনো কোনো স্টলে এতটাই ভিড় ছিল যে, বিক্রয় প্রতিনিধিদের হিমশিম খেতে হয় পণ্য সরবরাহে। বিশেষ করে বাংলাদেশ স্কয়ার ও ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ প্যাভিলিয়নে শিশু-কিশোরদের ব্যাপক ভিড় ছিল।
এবারের মেলায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কার্যক্রম ও রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরতে নির্মাণ করা হয়েছে ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শন করে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের সুবিধা পেয়েছেন।
মেলায় ছিল ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩২৭টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন। দর্শনার্থীদের প্রবেশে এবার ছিল ই-টিকিটিং ব্যবস্থা। ফলে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় প্রবেশ করেছেন সবাই।
তবে ঢাকা বাইপাস সড়কে দীর্ঘ যানজট ও ধুলাবালির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন অনেক দর্শনার্থী। বিশেষ করে কাঞ্চন সেতুর পূর্ব পাশে টোলপ্লাজা এলাকায় যানজট ছিল তীব্র। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে বসে থেকে মেলার আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি। তবে ঢাকার ভেতর থেকে আগত দর্শনার্থীরা তুলনামূলকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় পৌঁছেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার ক্রেতা আকর্ষণে তারা পণ্যে ছাড় দিয়েছে। কোনো কোনো পণ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। পণ্যের দাম বেশি ট্যাগ করে ছাড়ে বিক্রি করা হলেও, লাভ-লোকসানের হিসাব ছিল ভারসাম্যপূর্ণ।
নাদিয়া ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধি আকাশ মাহমুদ বলেন, ‘দর্শনার্থীরা স্টলে এসে পণ্য পছন্দ করছেন। কেউ নগদে কিনছেন, কেউ অর্ডার দিয়ে ফ্রি হোম ডেলিভারিতে নিচ্ছেন।’
দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি পরিতোষ সরকার জানান, ‘এবার মেলা অনেক গোছানো হয়েছে। আমাদের কোম্পানি মূলত ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য অংশ নিচ্ছে। সব পণ্যে ৩০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছি।’
রায়েরবাগ থেকে আসা ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, ‘এটি আমার পঞ্চমবারের মতো মেলায় আসা। এবারের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নান্দনিক।’ তিনি ইলেকট্রনিক পণ্য কিনেছেন ফ্রি হোম ডেলিভারিতে।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন আমিনুল ইসলাম হৃদয় জানান, ‘শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক দর্শনার্থী টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছেন। মেলা সফল হয়েছে।’
ইপিবির সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, ‘প্রথম থেকেই দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে মেলা জমে উঠেছিল। তীব্র শীত উপেক্ষা করেও তারা এসেছেন। শেষ শুক্রবারে মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের মেলা ব্যবসার দিক থেকেও সফল।’
মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল কড়া। র্যাব, পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে ছিল ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাও। পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখতে ছিল সিসিটিভি।
সব মিলিয়ে এবারের বাণিজ্য মেলা ছিল আকর্ষণ, বিক্রি ও ব্যবস্থাপনায় একটি সফল আয়োজন—এমনটিই মনে করছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সবাই।
মন্তব্য করুন