শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ',39)' at line 1
ইমন চৌধুরী, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ০৮:৫০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্গম পাহাড়ে আলো ছড়াচ্ছে যে স্কুল

দুর্গম পাহাড়ে আলো ছড়াচ্ছে যে স্কুল

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হরিণছড়া। যান্ত্রিকতা আর কোলাহল থেকে অনেকটা দূরের এ এলাকায় যাওয়ার জন্য নেই কোনো সড়ক। কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বোটে ঘণ্টাখানেকের পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় সেখানে। সংগত কারণেই অনেক নাগরিক সুবিধা ছুঁয়ে যায়নি এ অঞ্চলকে। ঘটেনি শিক্ষার প্রসারও।

দুর্গম এ এলাকায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও ছিল না কোনো উচ্চ বিদ্যালয়। ফলে প্রাথমিক শেষের পর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে প্রতিদিন দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কাপ্তাই সদরে আসতে হতো শিশুদের। অনেকে কষ্ট করে এ পথ পাড়ি দিয়ে বা বাড়ি থেকে দূরে সদরে থেকে লেখাপড়া করলেও, অর্থ সংকটে ঝরে পড়ত অনেক শিশু। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের বিশেষ উদ্যোগে এবং সহযোগিতায় হরিণছড়ার বেচারাম কারবারিপাড়ায় গত ২০২২ সালে গড়ে তোলা হয় হরিণছড়া উচ্চ বিদ্যালয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিশির কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা জানান, মাত্র ২৯ জন শিক্ষার্থী, ছয়জন শিক্ষক এবং একজন অফিস সহায়ক নিয়ে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমরা এলাকার শিক্ষা বিস্তারের কথা চিন্তা করে বিনা বেতনে এখানে শিক্ষকতা করে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা গরিব হওয়ায় সব ছাত্রছাত্রী ঠিকভাবে বেতনও দিতে পারে না। তাই মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা বেতন হিসেবে যৎসামান্য যা দেয়, তা দিয়েই চেয়ার-টেবিল এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য খরচ বহন করা হয়। এভাবেই চলছে এ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। সহকারী শিক্ষক রূপন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, জনি তঞ্চঙ্গ্যা, নুহাইচিং মারমাসহ সবাই বিদ্যালয়টির উন্নয়নে এমপিও ভুক্তকরণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বসন্ত কুমার কার্বারী জানান, দুর্গম এই জনপদে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। তাই এ এলাকার ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক শেষ করে অনেক দূরে গিয়ে বাসাভাড়া নিয়ে বা হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করছে। আবার আর্থিক অনটনের কারণে অনেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আর পড়ালেখা করতে পারেনি। তাই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ স্থানীয় উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেছি। তবে আমরা এখনো পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন দিতে পারিনি।

তিনি আরও জানান, হরিণছড়া মুখ, ভাঙামুড়া, পাংখোয়া পাড়া, বেচারাম কার্বারী পাড়া, নবীন মেম্বার পাড়া থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। তাই সরকারি সাহায্য ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো পথ নেই।

৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, এখানে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগ ও অনেকদিনের চেষ্টার ফলে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এ বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু করেছি। দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষাব্যবস্থার কথা চিন্তা করে এই বিদ্যালয়টি এমপিও করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই।

এদিকে সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমন দে। তিনি জানান, দুর্গম এলাকায় যাতে শিক্ষা কার্যক্রম আরও প্রসারিত হতে পারে, সে বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী। তাই কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাতে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করা যায়, সেজন্য সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সাতক্ষীরার এমপি খালেক

ভুলের জন্য নাহিদ ইসলামদের উচিত দুঃখপ্রকাশ করা: রাশেদ খাঁন

রাজধানীতে যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ ২

সাহাবুদ্দিনসহ যেসব রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ করতে পারেননি

শনিবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

কয়েল জ্বালাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ শ্রমিক দম্পতি

পেয়ারা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

ঝাঁকড়া চুলের হৃদয়বিদারক গল্প শোনালেন স্পেনের ডিফেন্ডার

এমপির ইমামতি নিয়ে মসজিদে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

মেসির অবসর ও বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে এবার মুখ খুললেন ডি মারিয়া

১০

‘জালালাবাদ গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন জবির কাওছার

১১

নতুন কোচের নাম ঘোষণা করল বেলজিয়াম

১২

১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা ফের দেওয়ার সুযোগ, অংশ নিতে পারবেন যারা

১৩

ফ্যাসিস্টের দোসর চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

১৪

ইরানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা

১৫

বিশ্বকাপের যে ব্যতিক্রম তালিকায় সবার উপরে এমবাপ্পে

১৬

রাশিয়া-চীনকে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

১৭

মেসির বিদায় হবে আর্জেন্টিনায়, পরিকল্পনায় ‘বিশেষ’ ম্যাচ

১৮

শীর্ষ মাদক কারবারি সীমা গ্রেপ্তার, পলাতক স্বামী ‘প্লাস্টিক ফারুক’

১৯

স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পরই বড় দুঃসংবাদ পেলেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলজয়ী নায়ক

২০
X