কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৪, ১০:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাঈদ খোকনের বক্তব্যের বিষয়ে কথা বলবেন না মেয়র তাপস

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস (বাঁয়ে), সংসদ সদস্য সাঈদ খোকন (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত
ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস (বাঁয়ে), সংসদ সদস্য সাঈদ খোকন (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এবং বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের পর ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতির দাবি নিয়ে শেখ তাপসের বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ খোকন।

একদিন পর রোববার (১৯ মে) দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক মেয়রের বক্তব্যের বিষয়ে মেয়র তাপসের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি মেয়র তাপস।

তিনি বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে চাই না। কে কি বললো সেটাও আমার কিছু যায় আসে না। ৪০ বছরের কাজ আমরা ৪ বছরে সম্পন্ন করে দেখিয়েছি। আমরা কথার মানুষ না কাজের মানুষ। সেটা এখন ঢাকাবাসী জানেন, সারা দেশের মানুষও এখন প্রমাণ পেয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র তাপস বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বা পরিসংখ্যান এগুলোর হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাখে। সেখানে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করি। ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যত তালিকা আমরা পেয়েছি সেগুলো ধরে আমাদের কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে মশক সুপারভাইজার ও মশককর্মীরা ২৭ হাজারের বেশি স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন। জমা পানি ফেলে লার্ভা ধ্বংস ধ্বংস করা হয়েছে। এই কার্যক্রম কি ২০১৯ সাল বা তার আগে ছিল? কেউ করতে পারতো? কর্মপরিকল্পনা ছিল? কিছুই তো ছিল না। কেউ তো চিন্তাই করেনি। আমরা ২০২০ সালে দায়িত্ব দিয়ে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করেছি।

শেখ তাপস বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক হাজার ৫০ জন জনবল দরকার। তা আমাদের রয়েছে। সকালে সাতজন বিকেলে ছয়জন মশক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সরবরাহ করার বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন কোনোদিন কল্পনাও করেনি। সক্ষমতাও ছিল না কোনোদিন। সুশাসন নিশ্চিত করে কীটনাশকের মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে এখন আর কেউ প্রশ্ন তোলে না।

তিনি বলেন, আমরা একটা রোগীর ঠিকানা পাওয়ার তিনদিন পরে আবার ওই রোগীর ঠিকানা পেয়েছি। কেউ বলতে পারবেন না ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর বাসায় আমার মশক কর্মী ও কাউন্সিলর যায়নি। ভুল আর সঠিক হোক সকালে যে তথ্য পেয়েছি দিনের মধ্যে সেই জায়গা পরিদর্শন করেছি। সেখানে পানি সরানো, লার্ভা ধ্বংস ও পরিষ্কার কার্যক্রম করেছি। অবশ্যই সেখানে সংখ্যা বাড়তে কমতে পারে। সুতরাং রোগীর সংখ্যা দিকে এই সফলতা নির্ণয় করা যাবে না। আমি সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

মেয়র বলেন, মাঠ পর্যায়ে এখন আমাদের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বীকৃত। জলবায়ু প্রভাবের কারণে এখন ডেঙ্গু রোগের বিস্তার সারাদেশে ছড়িয়েছে। সুতরাং এখন জাতীয়ভাবে চিন্তা করতে হবে আরো কোনো কিছু করা যায় কি। মাঠপর্যায়ে সকল প্রস্তুতি নিয়ে মানসম্পন্ন কীটনাশক, জনবল, যন্ত্রপাতি নিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণে আমরা ঢাকাবাসীর পাশে আছি।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো দেশে এক লাখ ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের সময় মেয়র ছিলেন সাঈদ খোকন, আর ২০২৩ সালে তিন লাখের বেশি রোগী শনাক্তের বছরে মেয়র শেখ তাপস।

গত বুধবার মেয়র তাপস এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী কমেছে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ঢাকা শহরে ১ লাখ ৫৫ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত বছর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ২০১৯ সালকেও ছাড়িয়ে যাবে। আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।…সফলতার সাথে এইডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি বলেই ২০২৩ সালে উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোগী ছিল ১ লক্ষ ১৩ হাজার। সুতরাং ২০১৯ এর তুলনায় ২০২৩ সালে ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার কম ছিল। এ বছরও সকলের সহযোগিতায় ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

এর জবাব দিতেই শনিবার সাংবাদিকদের সামনে আসেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের পর ডেঙ্গু পরিস্থিতির ‘উন্নতির দাবি’ নিয়ে ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যে ‘দেশবাসী হতভম্ভ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন খোকন।

সাঈদ খোকন বলেন, বর্তমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ২০১৯-এর তুলনায় ২০২৩ সালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার কম। আমি ভদ্রতার জন্য কারও নাম উল্লেখ করছি না। তবে এ ধরনের অপপ্রচার করা হলে কষ্ট পাই, ব্যথিত হই। আমরা একে অপরকে দোষারোপ না করি। উনি (মেয়র তাপস) আমাদের দলীয় সমর্থনে একজন নির্বাচিত মেয়র। আমি এই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, আমি আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য, আমার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পাবলিকলি আমি যেকোনো বক্তব্য দিতে পারি না, আমার জবাবদিহিতা রয়েছে।

সাবেক এই মেয়র বলেন, ২০১৯ সালে যখন আমি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে ছিলাম, তখন ডেঙ্গুর সূচনা হয় এবং পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। আমার চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না, আমি চেষ্টা করে গেছি, দিনরাত পরিশ্রম করে গেছি, আমার এই হাজার চেষ্টার পরেও আক্রান্তের সংখ্যা সারা দেশে ১ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ১৫৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে আমি অত্যন্ত ব্যথিত ছিলাম।

২০২৩ সালে ডেঙ্গু বিস্তারের সময় তাপসের বিদেশ যাওয়া নিয়ে পরোক্ষভাবে কথা তোলেন সাঈদ খোকন। তিনি ২০১৯ সালের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, আমি চেষ্টা না করে কিন্তু বিদেশে চলে যাইনি। আমি জনগণের সঙ্গে ছিলাম। আমি অসুস্থ হয়েছিলাম। আমি অসুস্থতাকে গুরুত্ব দিইনি।

এর আগেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই দুই নেতার মধ্যে মার্কেট, অনিয়ম-দুর্নীতি ও সিটি করপোরেশনের টাকা রাখা নিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন।

ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পুত্র সাঈদ খোকন ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ডিএসসিসির মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ২০২০ সালের ১৫ মে পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে ব্যারিস্টার তাপসকে মনোনয়ন দেয়। এ সময় থেকেই মূলত তাদের ভেতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। মেয়র নির্বাচিত হয়ে বেশ কয়েকবার ব্যারিস্টার তাপস তার বক্তব্যে সাবেক মেয়র খোকনের আমলে নানা ‘অনিয়ম ও ব্যর্থতার’ অভিযোগ করেন। সাবেক মেয়র খোকনও একাধিকবার পাল্টা অভিযোগ করেন। এ নিয়ে ২০২১ সালের শুরুতে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই দুই নেতার বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের সময় মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশও করেন তাদের অনুসারীরা। শেষ পর্যন্ত এ দ্বন্দ্ব আদালতেও গড়ায়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভাই হারালেন ডিপজল 

সংবর্ধিত হলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল

সিলেটে পশুর হাটে কমছে না দাম, ক্রেতাদের অপেক্ষা

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি

ধাওয়া দিয়ে মাঝ নদীতে লঞ্চ থামালেন ম্যাজিস্ট্রেট

গাজীপুরে মহাসড়কে যাত্রীদের ঢল, ভোগান্তি চরমে

সিলেটে ১১ ট্রাক চিনি জব্দ

কোপায় ব্রাজিলের খেলা দেখবেন না রোনালদিনহো

বসত ঘর থেকে হ্যাপি গোল্ড ও কিং ফিসার মদ উদ্ধার

মেয়াদ শেষেও বিমার টাকা দিচ্ছে না প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স!

১০

কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরু

১১

টঙ দোকানের আয়ে চলছে রতন বেগমের জীবনযুদ্ধ

১২

উত্তরের মহাসড়কে গাড়ির পেছনে গাড়ি, নেই যানজট

১৩

তাসরিফের চোখে টিউমার ধরা পড়েছে

১৪

যত্রতত্র কোরবানি করে জায়গা নষ্ট না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৫

বিয়ের পর হানিমুনে না গিয়ে হজে গেলেন দম্পতি

১৬

‘হেলমেট নাই, তেল নাই’

১৭

রাস্তায় বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের, হুমকিতে শতাধিক পাকা সড়ক

১৮

ডাকাতি করতে গিয়ে নারীর সঙ্গে খোশ-গল্প, অতঃপর...

১৯

ঢাবিতে ঈদের জামাতের সময়সূচি 

২০
X