সিলেটের কানাইঘাটে গলায় রশি দিয়ে ঘরের ভেতর টিকটক ভিডিও করার সময় ৭ম শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খালেদ আহমদ (১৩) কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আব্দুল আহাদের একমাত্র ছেলে। সে পৌরসভার আইডিয়াল স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, রোববার স্কুল ছুটির পর খালেদ আহমদ তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতে যায়। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে খালেদ আহমদকে খাওয়ার জন্য মা ও দাদি খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে খালেদের রুমে গিয়ে তীরের রশির সঙ্গে তাকে ঝুলে থাকতে দেখেন। পাশেই তার স্মার্টফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে তার লাশ থানায় নিয়ে আসেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ময়নাতদন্ত ছাড়াই খালেদ আহমদের লাশ দাফনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।
নিহতের স্বজন ও আশপাশের লোকজন জানান, খালেদ আহমদ মোবাইল ফোনে আসক্ত ছিল। সে সবসময় টিকটক ভিডিও করত, তার মা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করলেও সে তা মানত না। বিকেলে খালেদ আহমদ স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর তার মা রান্না-বান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই ফাঁকে স্কুল শিক্ষার্থী খালেদ আহমদ নিজ বাড়িতে একটি কক্ষে তীরের সঙ্গে রশি ঝুলিয়ে গলায় প্যাঁচিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত এ মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্কুলশিক্ষার্থী খালেদ আহমদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
কানাইঘাট থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, স্কুলশিক্ষার্থী খালেদ আহমদ টিকটক ভিডিও করতে গিয়ে গলায় রশি প্যাঁচিয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। লাশ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন