ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

পোষ মেনেছে বন্য শজারু

লিটন মিয়ার হাতে পাউরুটি খাচ্ছে শজারু। ছবি : সংগৃহীত
লিটন মিয়ার হাতে পাউরুটি খাচ্ছে শজারু। ছবি : সংগৃহীত

মানুষের ভালোবাসায় পোষ মেনেছে কুড়িয়ে পাওয়া বন্য শজারু। এলাকার লোকজনের সঙ্গেও দারুণ সখ্যতা হয়েছে তার। দিনরাত এলাকায় ও বাড়িতে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রাণীটি। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের কুশারিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল এমন চিত্র।

প্রায় ১১ মাস আগে ঘাটাইল-সাগরদদিঘী আঞ্চলিক সড়কে কুড়িয়ে পেয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকে সজারুর ছানাটিকে পরম যত্নে লালনপালন করছেন লিটন। বর্তমানে প্রাণীটি ভালোবাসা পেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে পোষ মেনে বসবাস করছে।

সন্ধানপুর ইউনিয়নের কুশারিয়া এলাকায় লিটনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িটির এপার-ওপার দৌড়ে বেড়াচ্ছে সজারুর ছানাটি। কেউ চলার পথে বাধা দিলে পুরো শরীরের কাঁটাগুলো মেলে ধরে। আদরে গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে আনন্দ পায়। প্রতিদিন দুপুরে বিকেলে গর্ত থেকে বের হয়ে বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। প্রাণীটি দেখতে অনেকে ভিড় করছেন লিটনের বাড়িতে।

কুড়িয়ে পাওয়া বন্য সজারুটির নাম ‘পাগলা’ রেখেছেন জানিয়ে লিটন মিয়া বলেন, নাম ধরে ডাক দিলে খাবারের জন্য ছুটে আসে। পেছনে পেছনে যেতে বললে সে পোষা অন্যান্য প্রাণীর মতো সঙ্গে চলতে থাকে। কলা, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পাউরুটি, ভাত, দুধ, বিস্কুট ইত্যাদি খেতে বেশি পছন্দ করে পাগলা।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১১ মাস আগে রমজানের রাতে কুশারিয়া এলাকায় সড়কের পাশে একটি কলার বাগানে পড়ে ছিল শজারু ছানাটি। পরে আমি এটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরিবারের সদস্যরা মিলে পরিচর্যার মাধ্যমে অসুস্থ শিশু শজারুটিকে পরম যত্নে সুস্থ করে তোলার পর থেকে সে একজন সদস্য হিসেবে আনন্দে আমাদের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। ঘরের ভেতর খড় দিয়ে থাকা ও ঘুমানোর জন্যে জায়গা তৈরি করে দিয়েছিলাম, কিন্তু শজারুটি সেখানে না ঘুমিয়ে ঘরের বাইরে একটা জায়গায় মাটির নিচে নিজেই সুরঙ্গ তৈরি করে সুন্দর বসবাস করছে।

লিটন বলেন, একেবারে অল্প বয়স থেকে শজারুটি আমার সংস্পর্শে থাকার সুযোগে সেও যেমন পোষ মেনেছে, ঠিক তেমনই ওর প্রতি এতো দিনে একটা মায়া তৈরি হয়েছে। রোজ দুপুরে গর্ত থেকে বের হয়ে আমার হাতে খেয়ে গর্তে চলে যায়, আবার বিকেলে বের হয়ে সে বাড়ির ঘরে বা আশেপাশের দোকানপাটেও নির্দ্বিধায় ঘুরে বেড়ায়। গভীর রাত পর্যন্ত সে আশেপাশে খেলাধুলা ছোটাছুটি করে খাবার খায়। সবার কাছে সে একটা আদরের পোষ্য প্রাণী হিসেবে কোনো সমস্যা ছাড়াই বসবাস করছে।

কুশারিয়া গ্রামের সাগর আহমেদ বলেন, বন্যপ্রাণী শজারু পোষ মানার বিষয়টি আশ্চর্যজনক। এ প্রাণী তো লোকালয়ে মানুষের কাছে পোষ মানার কথা না। এরা সাধারণত পাহাড়ের গর্তে থাকে। লিটনের পরিবারে প্রাণীটি প্রাকৃতিক উপায়ে পোষ মানার বিষয়টি আমাকে চরম মুগ্ধ করেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনআরবি গ্রাহকদের জন্য চার্জ-ফ্রি বিশেষ ডিপোজিট প্রোডাক্ট চালু করল কমিউনিটি ব্যাংক

রাবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সর্বকালের সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

অরিজিতের গান ছাড়ার সিদ্ধান্তে মুখ খুললেন বোন অমৃতা

এনটিআরসিএ সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ আজ

যে কারণে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রুপ বদলাতে রাজি হয়নি আয়ারল্যান্ড

ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

উন্নত ফর্মুলা ও আধুনিক প্যাকেজিংয়ে বাজারে ফিরেছে পন্ডস সুপার লাইট জেল

বিশ্বকাপে হঠাৎ সুযোগের পর বড় সংকটে স্কটল্যান্ড

১০

পাচারের সময় ২০০ বস্তা সার জব্দ করল স্থানীয়রা

১১

বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ নেতা

১২

এনসিপির প্রার্থীসহ দুজনকে জরিমানা

১৩

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ / বিদায়ের পর আইসিসির দিকে বাংলাদেশের অভিযোগের তীর 

১৪

আফগান আদালতে অপরাধ নয়, শ্রেণি দেখে শাস্তি

১৫

শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়তে প্রতিদিনের কথার গুরুত্ব

১৬

সিম কার্ডের এক কোনা কেন কাটা থাকে

১৭

ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ শিক্ষার্থী নিহত

১৮

তিতাসের নেতৃত্বে ঐশী-রিফতি

১৯

ভারত থেকে এলো ৫১০ টন চাল

২০
X