খুলনা থেকে সিআইডি পরিচয়ে তুলে নেওয়া চার চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে রাজধানী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ২০২০ সালের ২০ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদীর আদালতে ডা. লুইস সৌরভ সরকার এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে ডা. শর্মিষ্ঠা মণ্ডল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডা. লুইস সৌরভ সরকার ও শর্মিষ্ঠা মণ্ডল ছাড়াও কারাগারে পাঠানো হয়েছে অপর তিন আসামি ডা. ইউনুচ জামান খান তারিন, ডা. নাজিয়া মেহজাবিন তিশা ও ডা. মুসতাহীন হাসান লামিয়াকে। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিএমএ খুলনার কার্যালয়ে খুলনা থেকে সিআইডি পরিচয়ে উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে চার চিকিৎসকের অবস্থান জানতে চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের পরিবার।
নিখোঁজদের পরিবার সূত্র জানায়, গত ১৮ আগস্ট সকালে খুলনায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি কোচিং থ্রি ডক্টরসের উপদেষ্টা ডা. ইউনুস উজ্জামান খান তারিমকে আটক করে সিআইডি। খুলনা সদর থানা পুলিশের ওসি হাসান আল মামুন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পর দিন জানা যায়, ১৮ আগস্ট রাতে দুই চিকিৎসক এবং ১৯ আগস্ট সকাল থেকে আরও দুজন চিকিৎসক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদেরও সিআইডি আটক করেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে সিআইডির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। গত দুদিন সিআইডি সদর দপ্তরে কয়েক দফায় যোগাযোগ করা হলেও এই বিষয়ে কেউই মুখ খোলেনি। মোবাইল ফোনে কল করা হলেও সেটি রিসিভ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।
এ নিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় মোট ১৭ জন আদালতে জবানবন্দি দিলেন।
আদালতের মিরপুর মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আলমগীর বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এদিন গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে আসামি লুইস সৌরভ ও শর্মিষ্ঠা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত দেন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদীর আদালত লুইস সৌরভের এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালত শর্মিষ্ঠার আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া অপর তিন আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দেশের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে নিয়মিত প্রশ্ন ফাঁসকারী বিশাল এক সিন্ডিকেটের খোঁজ পায় সিআইডির সাইবার পুলিশ। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২০ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। এ মামলার তদন্তে তাদের নাম আসায় গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
মন্তব্য করুন