আড়াই বছরের অসুস্থ এক শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্সের চালকের আসনে বসেন বিজয় মিয়া। গাড়ি চালু করতেই হঠাৎ বিস্ফোরণে অ্যাম্বুলেন্সে ধরে যায় আগুন। এতে চালক ও রোগীর এক স্বজন দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ হয়েছেন, চালক বিজয় মিয়া (৩০) ও রোজিনা বেগম (৫০)।
দগ্ধ রোজিনার বোন ফরিদা বেগম বলেন, নাতি আয়ান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরাপর্শ দেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তখন আমরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করি। চালক গিয়ে আসনে বসেন। নাতিকে নিয়ে রোজিনা ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আর আমি পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় ও অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরে যায়। তখন আমিসহ কাছাকাছি থাকা লোকজন দূরে সরে যাই। আগুনে রোজিনার শরীরের ডান পাশের কিছু অংশ ও পা ঝলসে গেছে।
অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ইকবাল খান বলেন, রোগী বহন করার জন্য গাড়িটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পার্কিং করা ছিল। রোগী নিয়ে চালক গাড়িতে উঠে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়।
দগ্ধ চালককে তাৎক্ষণিক জাতীয় বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। রোজিনাকে জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিয়ে পরে ঢাকার বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে মণ্ডলপাড়া স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। গাড়িটিতে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হওয়ার কারণে আগুনের ব্যাপকতা বেশি ছিল। গাড়িতে গ্যাস জমে থাকায় ইঞ্জিন চালু করতেই বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
মন্তব্য করুন