বগুড়া ও শেরপুর
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০২ এএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এক ঘণ্টার বাজারে বিক্রি হয় ৩০ লাখ টাকার দুধ

বগুড়ার দুধের হাট। ছবি : কালবেলা
বগুড়ার দুধের হাট। ছবি : কালবেলা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মামুরশাহী গ্রামের বাসিন্দা রেখা বেগম। বাড়িতে পালন করা একটি গাভী থেকে দুধ হয় ৮ থেকে ১০ লিটার। প্রতিদিন দুধ বিক্রি করতে যান পৌর শহরের শিশুপার্ক বাজারে। প্রতিদিন তার মতো ছোট ছোট খামারিরা সেখানে যান তাদের গাভীর দুধ নিয়ে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই মাত্র ৬০ মিনিটেই শেষ হয়ে যায় এই দুধের বাজার।

শতাব্দী প্রাচীন দইয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে খাঁটি দুধের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এলাকার দই প্রস্তুতকারকরা স্থানীয় বাজার থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় দুধ সংগ্রহ করেন। আগে সকাল বাজার ও বারোদুয়ারী এলাকায় দুধ কেনাবেচা হতো। কিন্তু করোনা মহামারির সময় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বাজারটি স্থান পায় শেরপুর পৌরসভার শিশু পার্কে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারটি মূলত শেরপুর, ধুনট, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, শাজাহানপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রামের কৃষক ও খামারিদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিক্রয় কেন্দ্র। প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক খামারি সেখানে গিয়ে তাদের গরুর দুধ বিক্রি করেন। এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লিটার দুধ বিক্রি হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে ১৮ থেকে ৩০ লাখ টাকার কেনাবেচা হয়।

রেখা বেগমের মতো আরেক বিক্রেতা বোয়ালকান্দি গ্রামের তোতা মোল্লা। তিনি প্রতিদিন সকালে তার বাড়ির আশপাশের ৫০ থেকে ৬০ বাড়ির দুধ সংগ্রহ করে এই বাজারে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, এখানে ভালো মানের দুধ বিক্রি হয়। তাই ক্রেতারা আগে থেকেই সমবেত হন। আমরা আসা মাত্রই এক ঘণ্টার মধ্যে সব শেষ হয়ে যায়।

আরেক বিক্রেতা ধরমোকাম গ্রামের আবু হোরায়রা বলেন, আমি প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ লিটার দুধ নিয়ে আসি। দই মিষ্টির ব্যবসায়ীরাই প্রধানত এখানকার ক্রেতা। আমার পরিবার এই দুধ বিক্রির মুনাফার ওপর নির্ভরশীল।

সারা দেশে বিখ্যাত বগুড়ার দইয়ের মূল জোগানদাতা শেরপুরের দই বিক্রেতারা। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত মণ দই দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তাদের উন্নতমানের দইয়ের মূল উপাদান এই বাজারের দুধ।

এই বাজারের নিয়মিত ক্রেতা ও দই মিষ্টি ব্যবসায়ী আনন্দ ঘোষ বলেন, এখানকার বিক্রেতারা গ্রামের ছোট ছোট খামারির কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে বাজারে আনেন। তাদের গরুগুলো প্রাকৃতিক ঘাস ও খড় খায়। এজন্য দুধও ভালো হয়।

আরেক দই ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম চুন্নু বলেন, শেরপুরের মাটি, পানি, আবহাওয়া ও খাঁটি দুধের কারণেই দই মিষ্টি সুস্বাদু হয়। এই বাজারের সব দুধই ভালো। আমরা অনেক সময় সেগুলো ল্যাক্টোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজমীর রহমান জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে শেরপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার খামার রয়েছে। প্রতিটি খামারে গড়ে ১০ থেকে ২০টি গাভী পালন করা হয়। শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ভ্যাকসিন প্রদানসহ সব ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। এর ফলে, প্রতিটি গাভী অধিক উৎপাদনশীল হওয়ায় গড়ে ১০ থেকে ২০ লিটার দুধ উৎপাদন করে। বেশিরভাগ খামারি তাদের দুধ পৌর শহরের শিশু পার্কে দুপুরে বিক্রি করেন। বাজার অনুযায়ী দুধের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ১৮ থেকে ৩০ লাখ টাকার দুধ কেনাবেচা হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোরআনে চুমু দিয়ে যাত্রা শুরু, মেক্সিকোতে ইরান পেল উষ্ণ অভ্যর্থনা

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাহের গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা গঠনের গেজেট প্রকাশ

ডিফেন্ডারের জায়গায় মিডফিল্ডার নিয়ে বড় চমক আনচেলত্তির

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

আইনজীবী আমিনুল গণির মৃত্যুতে অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরের শোক

৭২’র সংবিধান নিয়ে ‘অতিকথন’ রয়েছে: আসিফ নজরুল

ডাকাতির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৫

বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কারা?

১০

বাস খাদে পড়ে নিহত ৪

১১

নতুন করে সংঘাত, নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল ভারত

১২

ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক: শি জিনপিং

১৩

সব রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬ বিশ্বকাপ! ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে যা কিছু

১৪

আজ বেস্ট ফ্রেন্ড দিবস

১৫

তার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল যুবকের

১৬

উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছেছেন শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন কিম জং উন ও তার স্ত্রী

১৭

কেন ঢাক-ঢোল বাজিয়ে শতবর্ষী বাবাকে দাফনের চেষ্টা ছেলের

১৮

বেতন বাড়ল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের

১৯

হামে শিশু মৃত্যু / ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এমপির মামলার আবেদন খারিজ

২০
X