বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৩ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, ঘাটে ফিরছে শূন্য ট্রলার

গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণে নিয়োজিত ফিশিং ট্রলারগুলো উপকূলে ফিরতে শুরু করে। ছবি : কালবেলা
গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণে নিয়োজিত ফিশিং ট্রলারগুলো উপকূলে ফিরতে শুরু করে। ছবি : কালবেলা

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে দুর্যোগের কবলে পড়েছেন জেলেরা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। ঢেউয়ের আঘাতে টিকতে না পেরে বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেল থেকে গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণে নিয়োজিত ফিশিং ট্রলারগুলো উপকূলে ফিরতে শুরু করে।

শরণখোলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতেই শতাধিক ফিশিং ট্রলার নিরাপদে ঘাটে পৌঁছেছে। আরও শতাধিক ট্রলার পথে রয়েছে যেগুলো বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই কূলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ ট্রিপে প্রচুর ইলিশ পাওয়ার আশায় লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন মহাজনরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ বড় ট্রলার চালান তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন ট্রলার মালিক ও আড়তদাররা।

ঘাটে ফেরা জেলেরা বলেন, এক সপ্তাহ আগে তারা সমুদ্রে গিয়েছিলেন। প্রথম দুই-তিন দিন কিছুটা জাল ফেলতে পারলেও পরবর্তীতে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় মাছ ধরা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকাল থেকে প্রবল বেগে বাতাস শুরু হলে দ্রুত জাল গুটিয়ে কূলে ফিরে আসতে বাধ্য হন তারা।

আড়তদার মো. কবির হাওলাদার ও ইমাদুল ফরাজী বলেন, লাল জালের বড় ট্রলারগুলোয় এবার প্রায় কোনো ইলিশ ধরা পড়েনি। প্রতিটি ট্রিপে এসব ট্রলারের খরচ দাঁড়ায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। শতাধিক বড় ট্রলারের একটিতেও উল্লেখযোগ্য চালান উঠবে না। তবে সাদা জালের ছোট ট্রলারগুলোতে কিছু ইলিশ ধরা পড়েছে, ফলে তুলনামূলকভাবে তারা লাভবান হবেন।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, এবছর এমনিতেই ইলিশ আহরণ আশানুরূপ হয়নি। অনেক মালিক ও আড়তদার লোকসানে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ ট্রিপে ক্ষতি পোষানোর আশা ছিল, কিন্তু বৈরী আবহাওয়া তা সম্ভব হতে দেয়নি। কোনো ট্রলারে ১০০, কোনো ট্রলারে সর্বোচ্চ দেড়শ ইলিশ ধরা পড়েছে।

শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর রাত থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, মজুত ও বিপণন নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মৎস্য আইনে দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শরণখোলা উপজেলার নিবন্ধিত ৬ হাজার ৮০০ জেলের মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জন ইলিশ আহরণে জড়িত। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এসব জেলেকে সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল প্রদান করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় যুবকদের নেশা মুক্ত করতে হবে : শেখ আব্দুল্লাহ 

এক সঙ্গে ধরা পড়ল ৬৭৭টি লাল কোরাল

ঐক্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি : কবীর ভূঁইয়া

বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২

প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে ‘রোহিঙ্গা’ বললেন রুমিন ফারহানা

বিএনপি থেকে আ.লীগে যোগ দেওয়া সেই একরামুজ্জামানের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহার

ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল আরেক বিএনপি প্রার্থীর

নির্বাচনে খরচ করতে রুমিন ফারহানাকে টাকা দিলেন বৃদ্ধা

বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার মূল শুটার গ্রেপ্তার

ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ

১০

ইসলামী মূল্যবোধেই রাজনীতি করবে বিএনপি : ইশরাক

১১

বাস উল্টে নিহত ২

১২

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ

১৩

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিএনপি নেতার আবেদন

১৪

এশিয়ার সর্বপ্রথম মেডিকেল অ্যানাটমি লার্নিং অ্যাপ ভার্চুকেয়ারের উদ্বোধন করলেন সাকিফ শামীম

১৫

ছাত্রদল ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির আঁতুড়ঘর : মান্নান

১৬

মনোনয়নপত্র নিয়ে যে বার্তা দিলেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল

১৭

গাইবান্ধায় ১৪৪ ধারা জারি

১৮

খালেদা জিয়া কখনো জোর করে ক্ষমতায় থাকেননি : খায়রুল কবির

১৯

জামায়াতের প্রার্থীকে শোকজ

২০
X