বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছেলের দায়ের করা মামলায় বাবাসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

বরগুনায় আদালত চত্বরে মৃত্যুদণ্ড আসামিরা। ছবি : কালবেলা
বরগুনায় আদালত চত্বরে মৃত্যুদণ্ড আসামিরা। ছবি : কালবেলা

বরগুনায় গর্ভধারিণী মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ছেলের দায়ের করা মামলায় জন্মদাতা পিতা, সৎমা ও বোনের স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) দুপুরে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মাজেদ তালুকদারের ছেলে কবির তালুকদার (৫৯), তার দ্বিতীয় স্ত্রী এলাচি বেগম (৫০) এবং জামাতা সুজন (৩৫)। সুজন একই গ্রামের মোস্তফার ছেলে।

মামলার বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, বাদী হেলাল তালুকদারের মা নিহত মহিমা বেগমের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিযুক্ত কবির তালুকদার। দাম্পত্য জীবনে যৌতুকের দাবিতে কবির তালুকদার প্রায়ই স্ত্রী মহিমা বেগমকে নির্যাতন করতেন।

পরে কবির তালুকদার তার মেয়ের শাশুড়ি এলাচি বেগমের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে হেলালের বোন রেখা বেগম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন। কয়েক বছর পর কবির তালুকদার সেই শাশুড়ি এলাচি বেগমকেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ আরও বাড়ে।

২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর হেলাল তালুকদারকে কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে কবির তালুকদার, এলাচি বেগম ও জামাতা সুজন বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মহিমা বেগমকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করেন তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ছেলে হেলাল তালুকদার বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রায় ঘোষণার পর বাদী হেলাল তালুকদার বলেন, আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার পেয়েছি। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হোসনেয়ারা শিপু বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডটি প্রমাণিত হয়েছে। আদালত যথাযথ রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে আমি মনেকরি।

প্রধান আসামি কবির তালুকদারের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম তরু ফরাজী। অন্য দুই আসামি এলাচি বেগম ও সুজনের পক্ষে ছিলেন অ্যাড. ইমরান হোসেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তিতাসের নেতৃত্বে ঐশী-রিফতি

ভারত থেকে এলো ৫১০ টন চাল

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরির সুযোগ

বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী নিহত

মদ্যপ অবস্থায় সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার গ্রেপ্তার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৪ বছরে হতাহত ১৮ লক্ষাধিক সেনা

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী বকুলকে শোকজ

হরমুজ প্রণালির আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করল ইরান

ইতালির ইমিগ্রেশন এবং নাগরিকত্ব ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন

বিএনপির আরও ৪ নেতাকে দুঃসংবাদ

১০

মস্তিষ্ক ভালো রাখবে ফাইবার

১১

জার্মানির তৈরি অস্ত্রসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী সস্ত্রীক আটক

১২

পৃথিবী ধ্বংস হতে আর কতক্ষণ, জানাল ডুমসডে ক্লক

১৩

ঘরের ভেতর জামাকাপড় শুকাচ্ছেন? জেনে নিন হতে পারে যেসব ক্ষতি

১৪

শ্রমিক নেতাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

১৫

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

১৬

টাকা দিয়ে এবার কোনো নির্বাচন হবে না: ড. মোবারক

১৭

বদলি নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মানতে হবে যেসব নিয়ম

১৮

বন্ধ হচ্ছে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

১৯

দুবাইয়ে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের প্রথম স্বর্ণের সড়ক

২০
X